শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

সজিবুল ইসলাম হৃদয়ঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পৃথিবীটা আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব পরিমণ্ডলের অর্থনৈতিক চাকা ও গণমানুষের জনজীবন । এমন পরিস্থিতির এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গোটা বিশ্ব হিমশিমখেয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। সমগ্র বিশ্ব যখন প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনার ভাবনায় মগ্ন তখন আমাদের দেশে আলোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ।

যদিও করোনা সংক্রমণের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার গত ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। দীর্ঘ দুই মাস লকডাউনের পর অফিস-কারখানা-যানবাহন চালু করে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এখোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। ফলে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই দেশসেরা বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. হবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেন। তবে অনলাইন ক্লাস করোনায় ক্লাস বন্ধের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিলেও ফাইনাল পরিক্ষা বন্ধ থাকায় সেশন জটের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এমতাবস্থায় ঈদ পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা।

শাহিনুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগঃ আমি মনে করি বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা মানে করোনার সাথে মধুর সন্ধি তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয় । করোনা পরিস্থিতি আমাদের দেশে এখনো অনুকূলে আসেনি । প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে রোগীর সংখ্যা । পরিসংখ্যান করে দেখলে বোঝা যায় গত এপ্রিল ও মে মাসে যে হারে রোগী বেড়েছে তার দ্বিগুণ বেড়েছে জুন, জুলাই মাসে । সুতরাং অনায়াসেই বোঝা যাচ্ছে এর তীব্রতা কত ভয়াবহ হতে পারে । আমাদের দেশের হিসেবে অনুযায়ী প্রতিদিন গড় মৃতের সংখ্যা ২৮ জনেরও বেশি । আক্রান্তের হারও সন্তোষজনক নয়। ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্তের হার । আক্রান্তের হার দুই সংখ্যায় আর মৃতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় এলে বোঝা যাবে মহামারী নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। এখনো আমাদের গন্তব্যের চাকা করোনায় অনিশ্চিত হয়ে আছে। এমন অনিশ্চিত গন্তব্যে গিয়ে আমার, আপনার, আমাদের সুন্দর জীবন করোনার কাছে সমর্পণ করতে রাজি নই। রাজি নই এমন গন্তব্যে আমাদের কোমলমতী শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের মোহে ডুবিয়ে তাদের জীবন করোনার কাছে বিলিয়ে দিতে । তাই পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে তবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হোক অন্যথায় নয়।

মোছা: শারমিন, দর্শন বিভাগঃ আমরা রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘসময় নিজেদের ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করা, ক্যাম্পাসের আড্ডা, লাইব্রেরীতে পড়াশুনা থেকে বিরত থাকলেও আমরা অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিন্তু ঠিকই ক্লাস করতে পারছি। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয় তাহলে লক্ষ, লক্ষ শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ফলে যদি একজন শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ হয় তাহলে তার সংস্পর্শে বাকি যারা থাকবে তাদের মাঝেও এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে, তাদের থেকে আবার অন্যদের ছড়াবে। আমরা শিক্ষার্থীরা নিজের ক্লাসরুম , শিক্ষকদের স্নেহ , বন্ধুদের খুনসুটি থেকে বিরত আছি ঠিকই কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর যদি এই ভাইরাস তার ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে থাকে তাহলে আমার সোনার দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। পিতামাতা হবে সন্তানহারা। তাই অনলাইন ক্লাস অব্যাহত রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হোক।

মদিনা আক্তার, মনোবিজ্ঞান বিভাগঃ মহামারী করোনাকালীন সময়ে সকলে এখন ঘর বন্দী জীবনযাপন করছে। এই পর্যায়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ আছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তুু বর্তমান সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে যা কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াটা এগিয়ে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের একটু সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করছে কিনা তার সঠিক পরিচালনা করতে হবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এখেনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি।এ পর্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে পরিস্থিতির ব্যাঘাত ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের সকল দিক বিবেচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাটা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

তন্ময় সাহা, ডিগ্রির শিক্ষার্থীঃ এক বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে আপনার সন্তান অশিক্ষিত হবে না কিন্তু এই মুহূর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে অনেক মা তার সন্তানকে হারাতে পারে। যেহুতু করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে চলেছে সেহুতু এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাটাই উচিত।

ফাতেমা খাতুন, বাংলা বিভাগঃ এই করোনা ক্রান্তিলগ্নে দীর্ঘ ৫ মাস সব শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমরা শিক্ষাথীরা পড়াশোনা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। অনলাইন ক্লাস নিলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সঠিকভাবে ক্লাসের সুবিধা পাচ্ছি না। আবার ফাইনাল পরীক্ষাও আটকে আছে অনেকের এতে করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে। সবদিকে বিবেচনা করে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষারথীরা কলেজে গিয়ে ক্লাস করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হোক। খুলে দেওয়া হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সুলতানা পারভীন রুকু, ১ম বর্ষ রাষ্ট্রবিজ্ঞানঃ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেই ভালো হবে। এমনিতেই অনেক শিক্ষার্থী বাসায় কোন রকম পড়াশোনা করে না। আর আমরা বড় ধরণের সেশন জটের মুখে। যেটা চাকরির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। অার এমনিতেই গণ পরিবহন, দোকানপাট সবকিছুই খুলে দিছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তত অনার্স লেভেল থেকে খুলে দেওয়ায় ভালো।

মোঃ মোস্তাকিম ইসলাম মধু, ২বর্ষ মনোবিজ্ঞান বিভাগঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে মেস ভাড়া সহ নানা বিধি সমস্যা বাড়ছে। তাহলে সবই যখন চলছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আর কি হবে? স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

গলায় ফাঁস দিয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীর বাঘায় আফরোজা খাতুন আঁখি (২১) নামের রাজশাহী কলেজের এক ছাত্রী ও গৃহবধু স্বামীর উপর …

error: Content is protected !!