মাঞ্জা’র পাশে দাঁড়ালো নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে থেকে

গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীতে থমকে আছে অর্থনীতির চাকা। বাংলাদেশেও ব্যাপকহারে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছেন অগণিত মানুষ।
প্রায় সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোয় তুমুল আকারে চলছে কর্মী ছাটাই। হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লকডাউনের সময় নিজের ব্যবসায়ের পুঁজি হারিয়ে এখন প্রায় সহায় সম্বলহীন।
ইতোমধ্যে ঢাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা প্রায় আড়াই লাখ পরিবার কর্মহীনতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে নিজ নিজ গ্রামে পাড়ি জমিয়েছেন।
এর মধ্যে আবার মরার উপরে খড়ার ঘায়ের মত সারাদেশে শুরু হয়েছে বন্যা। দেশের প্রায় বেশীরভাগ জেলাই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
এর ফলে ঐসব পানিবন্দী অঞ্চলের কৃষক, দিনমজুর ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে বর্তমানে দিনযাপন করছেন।
এই সকল অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় পুরাণ ঢাকার অরাজনৈতিক সামাজিক সেচ্ছাসেবীমূলক প্রতিষ্ঠান “মাঞ্জা”।
ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় হাওরের পানিবন্দী মানুষদের মাঝে চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ ও জরুরী ওষুধ দিয়ে সাহায্য করে তারা।
কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় “আলো আসবেই” স্লোগানে তারা বন্যার্তদের মাঝে খাবার ও ওষুধ বিতরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
“মাঞ্জা”-র বারোজন সদস্যই নিজ নিজ যায়গা থেকে সবার কাছে আর্থিক সহযোগীতার চেষ্টা চালায়, এমনকি ফেসবুকে তাদের অফিশিয়াল পেইজ থেকেও সাহায্যের জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু তেমন আশানুরূপ সাড়া না পেয়েও তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।
কিন্তু ভালো কাজে সহযোগীতা আসবেই, আর সেই কথা সত্য করতে এবার প্রায় ১২,৬৪৬ কি.মি. দূর থেকে মাঞ্জার এই উদ্যোগে সহযোগিতা পাঠিয়েছেন তাদের বাল্যবন্ধু মিশু।
ছোটবেলা পুরাণ ঢাকায় কাটলেও বর্তমানে তিনি আমেরিকা প্রবাসী। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে থেকেও দেশের মানুষের দুর্দশায় পাশে দাঁড়াতে মাঞ্জা’র “আলো আসবেই” প্রকল্পে বন্যার্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছে মিশু।
এর আগেও পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় মাঞ্জা’র “চলো ঈদে হাসি একসাথে” প্রকল্পে অনুদান পাঠান তিনি। ক্ষুধার্ত মানুষের পেটের জ্বালা একমাত্র ক্ষুধার্তরাই বোঝে।
বন্যাদুর্গতদের বেশির ভাগই খেটে খাওয়া, দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। দৈনিক কাজে বেরোলে পেটে দানাপানি পড়ে, নচেৎ নয়। কাজের সব ক্ষেত্র প্লাবিত থাকায় কিংবা নিজেরা পানিবন্দি থাকায় নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে না যেতে পেরে তাদের দিনের পর দিন অনাহারে দিনাতিপাত করতে হয়।
এ ছাড়া জীবিকার তীব্র সংকটের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগবালাইতে তাদের দুর্ভোগটা পৌঁছায় চরমে।
তাই সবার সহায়তায় তাদের অন্তত খাদ্যের ব্যবস্থা করা গেলে দুর্ভোগের সিংহভাগই কমবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

মন্ত্রীদের পর এমপিদের বেতনও ৩০ শতাংশ কমালো ভারত

নিউজ ঢাকা ডেস্কঃঃ মন্ত্রীদের পর সংসদ সদস্যদের (এমপি) বেতনও ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। …

error: Content is protected !!