জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’ নাটক মঞ্চায়িত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দুই দিনব্যাপী ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’ নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর ২.৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এবং দ্বিতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকাল ৪.০০ মিনিট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে।

ঘটনাটি শুরু হয় একটি নাটকের দল তাদের নিয়মিত মহড়ার প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে।মন্ঞ্চের পর্দা খোলা,সেটের নানা উপকরণ ইতস্তত ছড়ানো, নাটকের মহড়ার প্রস্তুতি চলছে। মূল নির্দেশকের অনুপস্থিতিতে তার সহকারীর উপর ভার পড়েছে মহড়া চালাবার। আলো, আবহ, সেট প্রভৃতি নাট্যউপাদান সহযোগে মহড়া শুরু হয়। মহড়া শুরুর অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হয় ছ’জন অপরিচিত মানুষ (চরিত্র)। একজন পুরুষ, তার পুত্র, তার প্রাক্তন স্ত্রী, প্রাক্তন স্ত্রীর দুই কন্যা।পুরুষটি দাবি করে তারা অসম্পূর্ণ চরিত্র, একজন নাট্যকারের সন্ধানে এসেছেন যিনি তাদের কাহিনিকে সম্পূর্ণ করবেন। সহকারী পরিচালক প্রথমে তাদের পাগল মনে করে কিন্তু তারা তাদের নিজেদের জীবনের ঘটনা নিয়ে যেভাবে তর্ক ও পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা চালাতে থাকে তা থেকে তাদের জীবনকাহিনি উন্মোচিত হতে থাকে, ফলে সে (সহকারী পরিচালক) এবং দলের অন্য সবাই তাদের ঘটনা শুনতে আগ্রহী হয়। তারা তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা দিয়ে নাটক গড়ে তুলতে চায় এবং তার মাধ্যমে তাদের চরিত্রের সম্পূর্ণতা পেতে চায়। নাটকের অভিনেতাদের দ্বারা তাদের চরিত্রের অভিনয় মনোমত হয় না তাই তারা নিজেরাই অভিনয় করে দেখায় তাদের অতিত জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা। কিন্তু ঘটনার সত্যতা নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক এবং যুক্তির পাল্টা যুক্তি গঠন করতে থাকে। এভাবে ঘটনাক্রম এগিয়ে চলে। শেষে তাদের বর্ণিত ঘটনার পরিণতি অভিনয় করতে হয় না, বাস্তবিকই ঘটে যায়। সহকারী পরিচালক প্রচন্ড বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যে এতক্ষণ যা ঘটল তা বাস্তব না কল্পনা?  ইতালীয় নাট্যকার লুইজি পিরানদেল্লো রচিত ও রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের রূপান্তরিত ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’ অবলম্বনে নাটকটির পান্ডুলিপি সম্পাদনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা,আলোক পরিকল্পনা শামস্ শাহরিয়ার কবি, মঞ্চ ও পোষাক পরিকল্পনা রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা, সুর প্রক্ষেপণ মুবাশ্বের ও মুক্ত এবং এতে অভিনয় করেন বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষ পরীক্ষা প্রযোজনা কোর্সের শিক্ষার্থীরা। 

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান,প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালসহ সহকারী প্রক্টরবৃন্দ।

বহি: পরীক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও পুতুলনাট্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ড. হারুন অর রশিদ, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক শামস্ শাহরিয়ার কবি,কৃপাকনা তালুকদারসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

নাটক শেষে জবি উপাচার্য বলেন, একসময় নাট্যকলা, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, চারুকলা, সংগীত বিভাগ চালু করার উদ্দেগ নিলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় আজ সেসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে ফল পেতে শুরু করেছি।নাটকের নির্দেশক প্রভাষক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক নাটক।এর বিষয়বস্তু করুন ও দুঃখদায়ক হলেও নাটকের উপস্থাপনার ভঙ্গি থেকে হাস্যরসের উপাদান উদ্ভূত হয় এবং বাস্তবতা ও কল্পনা সূক্ষ্ম রেখার ব্যবধান আমাদের সর্বদা বিভ্রান্ত করে থাকে এইসব নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয় এই নাটকের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, নাটকটি মূলত সংলাপ নির্ভর তাই অভিনয় এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আর তাই নাটকের কয়েকটি চরিত্রের জীবনের অব্যক্ত গল্পগুলো বলবার প্রেষণা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হয় একদল শিক্ষার্থী।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,কেরানীগঞ্জে দুই দল ডাকাতের মধ্যে গুলিবিনিময়, ১ ডাকাত নিহত

Check Also

ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে যে বার্তা দিলো বাংলাদেশ

ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে যে বার্তা দিলো বাংলাদেশ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় …