স্মার্ট প্রযুক্তি ও মানবদেহের সুসম্পর্ক

স্মার্ট প্রযুক্তি ও মানবদেহের সুসম্পর্ক 

প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয়তা থেকেই আবিষ্কারের উৎপত্তি ঘটে এবং মধ্যে আবিষ্কারের নেশা জাগ্রত হয়।মানব জীবনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা।
পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে আমরা আমাদের জিনিসপত্রের খবরাখবর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেকিং করে জেনে নিতে পারি।  এটা যদি খুব সহজেই সম্ভব হয় তাহলে আমাদের শরীরের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খবরাখবর নেয়া কঠিন কিছু নয়। এখন শুধু অপেক্ষা এই  প্রযুক্তি আবিষ্কার করার।
এর ফলে আমাদের স্বাভাবিক শারীরিক জীবন যাপনে কোন অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায় তাহলে সেটা সাথে সাথে আমাদের কাছে ধরা দেবে।  ফলশ্রুতিতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনের প্রতিটি দিক পরিবর্তন করেছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনের মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পন্থা উদ্ভাবন করে।
বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে এসেছে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। প্রযুক্তির সুবিধাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমৃদ্ধির ও কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।
নতুন যে পদ্ধতিই আসুক না কেন রোগীর জন্য যেটা সর্বোত্তম, সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হবে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ।
উন্নত স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ আবিষ্কার করা হচ্ছে মানুষ ও যন্ত্রের মাঝে এক নিবিড় গভীর সুসম্পর্ক। বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে এখন মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-পতঙ্গের ভাষা সহজভাবে বোঝা আরো সহজ থেকে সহজোতর হচ্ছে।
বর্তমানে মানুষের মস্তিষ্কে মাইক্রোচিপ স্থাপন করার লক্ষ্যে নিউরালিংকের চিপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে এগুলো মস্তিষ্কের সংকেতগুলোকে যথাযথভাবে বুঝে ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযুক্ত ডিভাইসে পাঠাতে পারে।
স্নায়ু এবং ব্রেন সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক মানুষের মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে দৃষ্টিশক্তি, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা, বিষণ্ণতা, সিজোফ্রেনিয়া, স্থুলতা ও শরীরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। মানুষ এবং মেশিনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাই পাল্টে দেবে এই প্রযুক্তি।
এই প্রযুক্তির সাথে আমরা যদি আরেকটি সংযুক্ত করতে পারি যেমন-  আমাদের শরীরের মধ্যে প্রবাহিত হতে পারে এমন এক আইপি ঠিকানা  তৈরি করে চিপের মাধ্যমে হোক বা রক্তের উপাদানের মাধ্যমে হোক প্রবাহিত করাতে সক্ষম হয় সে ক্ষেত্রে আমাদের ট্র্যাকিং সহ আমাদের শরীরের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা এর মাধ্যমে সম্ভব হবে।
এটা যদি রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত করা যায় যে রক্তের মাধ্যমে  এটি সারা শরীরের প্রবাহিত হয়ে সকল তথ্য আমাদেরকে প্রদান করবে এবং কোন প্রকার অসঙ্গতি দেখা দিলে সাথে সাথে কোন সংকেত দিয়ে আমাদেরকে তা প্রকাশ করবে।
যেহেতু আমাদের সমগ্র শরীরে রক্তের প্রবাহ ঘটে তাই সংকেত আদান-প্রদানের জন্য রক্তকে মাধ্যম ধরা যেতে পারে।  আপরদিকে  রক্তের গ্রুপ সমূহ যেমন এ, বি এবি পজেটিভ, এবি নেগেটিভ,ও, ও পজেটিভ, ও নেগেটিভ  এসব উপাদান আইপি ঠিকানা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সৃষ্টি হতে পারে।
যদি এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করা যায় তাহলে একজন মানুষ নিজেই তার শারীরিক বিষয়ে সবকিছু দেখতে পারবে এবং কোন প্রকার কোন অসঙ্গতি দেখা দিলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ সহজ ভাষায় প্রযুক্তিটা এমন ভাবে হবে যে নিজের শরীরের মধ্যে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ঠিকানা দেয়া এবং সে ঠিকানার দিয়ে শরীর অভ্যন্তরের প্রতিটি স্থানকে গুগল ম্যাপের মতো নিজের চোখের সামনে নিয়ে এসে সেগুলোর সঙ্গতি এবং অসঙ্গতি পর্যবেক্ষণ করা।
কোন কিছু পৌঁছানোর জন্য যেমন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় তদ্রূপ কোন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। টেলিকমিউনিকেশন এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের জন্য বাতাসের মাধ্যমে তরঙ্গ প্রেরণ করতে হয়। এভাবে সেই তরঙ্গের সংকেত গুলোকে মেশিনের সাহায্যে রূপান্তর করে আমরা তথ্য উপাত্ত পেয়ে থাকি।
হয়তো এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হওয়া বেশি দূরে নয় যখন বিভিন্ন প্রাণীর দেহে গবেষণা করে তাদের শরীরে এমন ধরনের স্মার্ট প্রযুক্তির চিপ স্থাপন করা হবে যার মাধ্যমে পশুপাখি যা শুনতে এবং দেখতে পায় সেই সংকেতগুলোকে যথাযথভাবে বুঝে ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযুক্ত ডিভাইসে পাঠাতে সক্ষম হয়।
প্রতিটি পশু পাখিকে আইপি এড্রেসিং এর মাধ্যমে যেন ট্রেকিং এর মধ্যে রাখা যায়  সেই প্রযুক্তের মধ্যে থাকবে। আর্টিফিশিয়াল বা ইলেক্ট্রনিক্স কীটপতঙ্গ পশুপাখি  না বানিয়ে যদি সত্যিকারের কীটপতঙ্গ পাখির মধ্যে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় তাহলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

মোঃ জাহিদুল ইসলাম