কেরানীগঞ্জে ৭ লাশ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে একদিনেই ৭টি লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত ৭টি লাশের মধ্যে ৪টি লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবি ঘটনা, ২টি অপমৃত্যু ও একটি স্বাসরোধে নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে ১জন পুরুষ, ২জন মহিলা ও ১ জন শিশু রয়েছে। নিহতরা হচ্ছে: দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার খেজুরবাগ দরগাবাড়ির ভাড়াটে মৃতঃ আব্দুল খালেরকের ছেলে মোঃ মতিউর রহমান (৫৫), মতিউরের স্ত্রী মোসাঃ রেজিয়া পারভীন (৩৭ ) তাদের শিশু ছেলে তামিম (৫) ও মতিউরের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪০)। আমবাগিচা আলী আহমেদ এর বাড়ির ভাড়াটে জনৈক জাহাঙ্গঅর শেখ এর মেয়ে আয়েশা আক্তার (১৯), দক্ষিন কেরানীগঞ্জের বেয়ারা পূর্বপাড়া এলাকার একটি পুকুরের পার থেকে অজ্ঞাত নামা পুরুষ (৪২) এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অমৃতপুর এলাকার শিরিন আক্তার (১৮) ।

নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে খেয়া নৌক যোগে একই পরিবারের ৪ জন যাত্রী কেরানীগঞ্জ তেল ঘাটের উদ্যেশে রওনা দেয়। তাদের নৌকাটি সদরঘাট টার্মিনাল বরাবর মাঝ নদীতে আসলে সেখানে থাকা এম ভি মানিক-৩ নামে একটি লঞ্চ হঠাৎ স্টার্ট দিয়ে পিছনের দিকে আসার সময় নৌকাটিকে ধাক্কা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় নৌকার মাঝি সাতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা নিখোঁজ থাকে। খবর পেয়ে সদরঘাট ও পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের ডুবিরি দল, সদরঘাট নৌ পুলিশ ও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ রাতেই নিখোঁজদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তাদের উদ্ধার অভিযানে মতিউরের স্ত্রী রেজিয়া পারভিন (৩৭) ও ভাবি মমতাজ বেগম(৪৭) এর লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে মতিউর রহমানের (৫৫) লাশ উদ্ধাার করা হয়। দুপুর ১টার দিকে ছেলে তামিম (৫) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার শেষে সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

অপরদিকে আয়েশা আক্তার(১৯) নামে এক গৃহবধু বিষপান করে আত্মহত্যা করে। নিহতের বাবার নাম জাহাঙ্গীর শেখ। সে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন আমবাগিচা এলাকার জনৈক আহমেদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। স্বামীর সাথে কলহের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে কীটনাষক পান করে। তাকে আহত অবস্থায়ঢ উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

এদিকে শনিবার সকালে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন বেয়ারা এলাকার একটি পুকুরের পার থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের (৪২) লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহতের পরনে নেভি ব্লু ফুল হাতা গেঞ্জি রয়েছে। গলায় ওড়না পেচানো আছে। ধারনা করা হচ্ছে শ্বাস রোধ করে হত্যা করার পরে তার লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এছাড়া স্বামীর সাথে অভিমানে করে আরেক গৃহবধু শিরিন আক্তার ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিরিনের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার পীড়গঞ্জ থানার হরনাথপুর এলাকায়। তার পিতার নাম মোঃ রহিম মিয়া। সে স্বামীির সাথে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা ইউরিনয়নের অমৃতপুর এরাখায় বসবাস করতেন। তার স্বামীর নাম মোঃ রাজিব মিয়া। এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একপি অপমৃত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো: শাহজামান বলেন, নৌক ডুবির ঘটনায় ৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় আরো দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ গুলো সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ.এইচ.এম সাগর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

কেরানীগঞ্জে সুজন বাহিনীর ভয়ে চার বছর এলাকা ছেড়ে থাকছেন বলে অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধার

কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে কান্দাপাড়া গ্রামে সুজন বাহিনীর ভয়ে প্রায় চার বছর নিজের বাপ দাদার বসতবাড়ি …

error: Content is protected !!