কেরানীগঞ্জে রাতে চোর সন্দেহে মাদ্রাসায় যুবক আটক ॥ সকালে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

এ.এইচ এম সাগর: কেরানীগঞ্জে মনির হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে তাহসিনুল কুরআন মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটক করে রাখে পরদিন সকালে সিলিং ফ্যানের এর সাথে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত যুবকের পরিবারের দাবী মনিরকে হত্যা করে আত্মহত্যা চলানো পায়তারা করছে মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে কেরানীগঞ্জের মডেল থানাধীন মধ্যের চর (ওয়াসপুর) এলাকার তাহসিনুল কুরআন মাদ্রাসায়।

তাহসিনুল কুরআন মাদ্রাসায় প্রীন্সিপাল মাওলানা আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ১টাল সময় মাদ্রসার জানালার কাছে উকি ঝুকি করতে দেখে আমরা তাকে আটক করি।

এরপর তার কথা বর্তা সন্দেহ জনক হলে আমরা একটি কক্ষে তাকে আটক কওে রাখি। এরপর সকালে ১০টায় যে রুমে চোর সেন্দহে ছেলেটিকে আটক করে রাখা হয়েছে সে রুমের দরজা খুলতে গেলে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখলে পরে জানালার ফাক দিয়ে তাকিয়ে দেখি যুবকটি সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে।

এরপর বিষয়টি এলাকাবাসিকে জানিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।

নিহতের বাবা নাজিম উদ্দিম জানান, আমার ছেলেকে এজন গাড়ী চালক। সে মঙ্গলবার রাত ১২টার সময় আমার সাথে দেখা কওে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সারা রাত আর বাড়ি ফিওে আসে নাই।

সকাল বেলা লোকমুখে জানতে পারি আমার বাড়ির পাশে তাহসিনুল কুরআন মাদ্রাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে আত্মহত্যা কওে ঝুলে আছে।

আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ছেলে চোর না। তাকে মাদ্রাসার লোকজন হত্যা কওে আত্মহত্যা চলানোর চেষ্টা করছে। আমার ছেলে অপরাধ করলে মাদ্রাসার পাশে আমার বাড়ি এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা আমাকে খবর দিতে পারতো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এস আই আব্দুল জলিল জানান, মধ্যের চর (ওয়াসপুর) এলাকায় তাহ্সিনুল কুরআন মাদ্রাসায় মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মাদ্রাসার জানালা দিয়ে একজন মধ্য বয়সী যুবক উকিঝুকি মারতে থাকে। এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তাকে একটি রুমের মধ্যে এনে আটকে রাখে।

পরের দিন সকাল বেলা ভিতর থেকেই গেট আটকানো দেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমটি ভিতর থেকেই আটকানো দেখতে পাই।

পরে রুমের ভিতর ঢুকে ফ্যানের সিলিং এর সাথে যুবকের দেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। নিহতের পকেটে থাকা কাগজ পত্র থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হই। পেশায় সে একজন গাড়ি চালক।

তবে কি কারনে সে এখানে এসেছে তা এখোনো জানতে পারি নি। নিহদের দেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, নিহতের বাবা আত্মহত্যার প্ররচনার অভিযোগে এসে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। #

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,আলোচিত পাপিয়া যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কার

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

কেরানীগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে বিষমূক্ত সব্জি উৎপাদনের ব্যাপক কার্যক্রম

নিরাপদ ও বিষমূক্ত সব্জি উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সমনি¦ত …

error: Content is protected !!