কেন্দ্রীয় কারাগার

কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশে ইটভাটার বিশাক্ত ধোয়ায় অস্বস্তিতে কয়েদী ও কারা কর্মকর্তারা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ঢাকা মাওয়া  মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। এই কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশেই রয়েছে প্রায় ৮-১০টি ইটভাটা। অভিযান চালিয়ে একাধিকবার গুরিয়ে দেয়া হলেও বন্ধ হয় নি এসব ইট ভাটার কার্যক্রম।  অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব ইটভাটা। ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে টায়ার ও কাঠ। এতে করে মারাত্বক দূষিত হচ্ছে বায়ুমন্ডল।  ইট ভাটার বিশাক্ত কালো ধোয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এখানের বন্দীদের ও কারা কর্মকর্তা তাদের পরিবারের সদস্য ও বন্দীদের দেখতে আসা দর্শনার্থীদের।

জানা যায়, কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে কারাগার স্থানন্তররে আগে থেকেইে সেখানে চলছিলো এসব ইটভাটা।  তবে কারাগারে বন্দীদের স্থানান্তরের পরে এসব ইটভাটা বন্ধ করে দেয়ার কথা থাকলেও গত ৬ বছরে বন্ধ করা হয় নি এসব ইট ভাটা।  যদিও ইটভাটা আইন-২০১৩-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত এলাকা এবং সরকারি স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হলেও এখানকার ইটভাটাগুলো সরাতে বারবার পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়ার পরও কেন সাড়া মিলছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ১০ হাজার বন্দি রয়েছে। ইট ভাটার কালো ধোয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের নানান ধরনের সমস্যার দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিনে  ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কারাগারের চারপাশে থাকা ৮/১০টি ইটভাটার মধ্যে প্রায় ৬টইি স্থানীয় তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়ার মালিকানাধীন। একাধিকবার পরবিশে অধদিপ্তররে লোকজন এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করলেও রহস্যজনক ভাবে চলছে এসব ইটভাটাগুলো।

এসব ইটভাটার মালকিানায় রয়ছেনে তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়া, তার ভাতিজা মোঃ রায়হান মিয়া, জামাই মোঃ আলী হোসনে, মোঃ নজরুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যানের স্বজনরো।  এসব গুলো ইটভাটা দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়া।

এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকাসহ ৫ জেলার সব অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইর্কোট বেঞ্চে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি কেরন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিষ্টার কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল নাসিম ইসলাম রাজু। উচ্চ আদালতরে নির্দেশনা থাকলেও এ বষিয়ে কোন পদক্ষপে নিচ্ছে  না স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন অভিযানে এলে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও মোটা অংকের টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে লোক দেখানো অভিযান করে চলে যায়। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনকেও প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা দেয়া হয়। তাছাড়া তারা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশন নেয়া হয় না।

তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়ার মেয়ে জামাই মোঃ আলী হোসেনের মালিকানাধীন ২ নাম্বার ইট ভাটার রোজই মাস্টার মোঃ ইমন বলনে, এখানে সবগুলো ইটভাটাই চেয়ারম্যানের আত্মীয় স্বজনের। দেখাশুনা করে লাট চেয়ারম্যান নিজে। তাদের ৬টি খোলা । একটি বন্ধ, বাকি ৫টির কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজী লাট মিয়া বলেন ১৫ দিনের মধ্যে ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে কোন চিঠি আমি পাই নি। তবে পত্রিকায় এ বিষয়ে পড়েছি। আমার সব গুলো ইট ভাটার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।  ইটভাটাগুলো বৈধ হলে পরিবেশ অধিদপ্তর এর আগে একাধিকবার অভিযান করে বন্ধ কেন করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে দুই বছরের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তবে তারা হ্যা বা না কিছুই বলে নি।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, কারাগারে প্রায় ১০ হাজার বন্দী রয়েছে। যার বড় একটা অংশ বয়স্ক তাদের অধিকাংশের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে। ইটভাটার কালো ধোয়ার কারনে বন্দীদের খুব কষ্ট হয়। তাছাড়া আমরা যারা কাজ করছি, আমাদের ও সমস্যা হয়, নি:শ্বাস নিতে গেলে সব সময় বিষাক্ত একটা গন্ধ পাই। আমাদের বাচ্চাদেরও সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা একাধিক বার জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, হাইকোর্টের হাইকোর্টের কোন নির্দেশনা আমাদের হাতে আসে নি। হাতে পেলে সাথে সাথেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

 

ঢাকা জেলা পরিবেশ অধদিপ্তরের উপ পরচিালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলনে, আমাদের ম্যানেজ করা হয় এ তথ্য অসত্য, কারাগারের চারপাশে ইটভাটা বন্ধে আমরা বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি, পর্যপ্ত ইকিউপমেন্টের অভাবে চুল্লী ভাংতে পারি নি, তাই তারা বার বার ই আমাদের অভিযানের পরে ইটভাটা চালু করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের যে ইটভাটাগুলো আছে সে মুচলেখা দিয়েছে এই বছরের মধ্যে সবগুলো ভেঙে ফেলবে। বন্দীরাও তো মানুষ তাদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে।

Check Also

বুড়িগঙ্গায় তেলবাহী ট্রলারে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বুড়িগঙ্গায় তেলবাহী ট্রলারে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে তেলবাহী ট্রলারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে …