ঈদ ও হাটের আগে ব্যস্ত সময় পার করছে কেরানীগঞ্জের খামারীরা

আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় কেরানীগঞ্জের খামারীরাও ব্যস্ত হয়ে পরেছে শেষ মুহুর্তে পরিচর্যাতে। ছোট বড়ো মিলিয়ে উপজেলার কোনাখোলা, কলাতিয়া, আটিবাজার, আতাশুর সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫৮০টি খামারের কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রাকৃতিক পদ্ধত্বিতে গরু মোটা তাজা করন প্রক্রিয়ায়।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: জহির উদ্দীন জানান, ছোট বড় মিলিয়ে কেরানীগঞ্জে প্রায় ৫৮০টি খামার রয়েছে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে এ সকল খামারে প্রায় ৮ – ৯ হাজারের বেশি গরু বিক্রি করা হবে । কেরানীগঞ্জের সকল খামারগুলোতেই প্রাকৃতিক পদ্ধত্বিতে কোন প্রকার ক্ষতিকারক ঔষধ ছাড়াই গরু মোটা তাজা করা হয়ে থাকে।

অল্প সময়ে গরু মোটা তাজা করতে যেন কোন খামারি গরুকে বিভিন্ন প্রকার নিষিদ্ধ ঔষধ যেমন: হরমন, ডেক্সামিথাজল, ডেকাসন, স্টোরেয়েড ইত্যাদি না খাওয়ায় তার জন্য আমরা সর্বদাই সচেষ্ট থাকি। খামারিরা ও সব সময় আমাদের পরামর্শ নিয়ে থাকেন।

এবং কোন ধরনের ক্ষতিকারক খাবার ছাড়াই তাদের খামারের গরু গুলোকে পরিচর্যা করে থাকেন। কেরানীগঞ্জের কোন খামারে ক্ষতিকারক খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয় কিনা তা যাচাই এর জন্য এ বছর উন্মুক্তভাবে কেরানীগঞ্জ থেকে ৭৫টি গরুর সেম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এবং একটা সেম্পলেও কোন প্রকার ক্ষতিকারক কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি।

সরজমীনে কেরানীগঞ্জের শরীফ এগ্রো, আল বারাকা এগ্রো আনোয়ার এগ্রো, সরফু এগ্রো, সিদ্দীক এগ্রো, ফার্ম ফিল্ড, সহ বেশ কিছু খামার ঘুরে দেখা যায় সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধত্বিতেই লালন পালন করা হচ্ছে গরুগুলি।

কথা হয়, আল বারাকা এগ্রোর সত্তাধিকারী জাহিদুল হাসান জিতুর সাথে। তাদের খামারের এবারের আকর্ষন কালু। শাহীওয়াল জাতের গরুটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি, দাম হাকাচ্ছেন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। জাহিদ হাসান জিতু বলেন একটি গরু পালন করা বর্তমান অনেক খরচ। মানুষের খাবারের চেয়ে গরুর খাবারের দাম বেশি ।

গতবছরের চেয়ে এ বছর কুড়া, ভূষির দাম অনেক বেড়ে গেছে বলে জানান । জিতু আরো বলেন কোরবানি ঈদে কে টার্গেট করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা বর্ডার থেকে চোরাচালানির মাধ্যমে গরু আনে একমাত্র তাদের জন্য প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগার কারণেই তারা ঈদের দুই এক দিন আগেই চোরাই গরু নিয়ে হাজির হয়ে যায়।

রাজধানী উত্তরা থেকে কেরানীগঞ্জের শরীফ এগ্রোতে গরু কিনতে এসেছেন ব্যবসায়ী ফারুক সাহেব। তিনি জানান প্রতিবছর ই তিনি কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এগ্রোফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন।

তার ভাস্য মতে কেরানীগঞ্জের খামারগুলোতে গরুর দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি। তার পরেও তিনি প্রতিবছর ই এখানকার ফার্মগুলো থেকেই গরু কিনে থাকেন। কারন এখানকার ফার্মগুলোতে গরুদের কোন প্রকার ক্ষতিকারক খাবার খাওয়ানো হয় না। গত দুই দিনে তিনি কেরানীগঞ্জের কয়েকটি ফার্ম ঘুরে দেখেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর গরুর দাম চড়া মনে হচ্ছে তার কাছে।

নিউজ ঢাকা

আরো পড়ুন,নরসিংদীর মহিলালীগ নেত্রীর হোটেল বিল ১ কোটি ৩০ লাখ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে [sharethis-inline-buttons]

Check Also

কেরানীগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে বিষমূক্ত সব্জি উৎপাদনের ব্যাপক কার্যক্রম

নিরাপদ ও বিষমূক্ত সব্জি উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে সমনি¦ত …

error: Content is protected !!