গরমে জন্ডিস

গরমে জন্ডিস , সচেতন হওয়ার সময় এখনি।

এই গরমে জন্ডিস সমস্যা মহামারি আকারে দেখা দিচ্ছে। চরমপন্থি এই আবহাওয়ায় জন জীবন বিপন্ন। তাপদাহ ও গরমে দেখা দিচ্ছে ডিহাইড্রেশন। ডিহাইড্রেশন থেকে স্বস্থি পেতে রাস্তার পাশের মুখরোচক আখের রস , লেবুর সরবত কিংবা  আইসক্রিম খেয়েই বিপদে পড়ছেন আপনি।যেন ফুটন্ত কড়াই থেকে জলন্ত উনুনে। গরম থেকে নিস্তার পেতে নিজের অজান্তেই কিছু পানি বাহিত রোগের জীবাণু খেয়ে নিচ্ছি আমরা। আর এসবের মাঝে জন্ডিস অন্যতম।

চিকিৎসকেরা জানান, মে মাসের প্রথমেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত সব বয়সের মানুষ।সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডায়রিয়া, কলেরা , সর্দি কাশি ও জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে ।বিশেষ করে বাচ্চাদের এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে প্রবল ভাবে।হেপাটাইটিস টিকা দেওয়া থাকায় বাচ্চারা জন্ডিসের শিকার কম হলেও কলেরা-ডায়রিয়ার প্রধান শিকার শিশু।

বাহিরে খোলা খাবার ও তার বদৌলতে ফুড পয়জনের শিকার বেশি হয় উঠতি বয়সের কিশোর কিশোরীরা।সরকারী টিকাদান কর্মসূচীর আওয়তার বাইরে যাদের শৈশব কেটেছে সে সব কিশোর কিশোরী পানি বাহিত বিভিধ জটিল রোগের শিকার হছে সহজেই।

 

 

 

জন্ডিস থেকে বাচতে করনীয়:

জন্ডিস ও অন্যান্য পানি বাহিত রোগ থেকে বাচতে যা যা করবেন।

  •  এই গরমে বাহিরের খাবার না খাওয়াই ভালো। যতটা সম্ভব বাহিরের শরবত আইসক্রীম এই গুলা খাওয়া যাবে না।
  •  প্রচন্ড রোদের মধ্যে কোন কারন ছাড়া বাহিরে বের হওয়া যাবে না। বাহিরে গেলে রোদ থেকে যতোটা সেফ থাকা যায়। ছাতা ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
  •  বাসায় পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে।
  •  কল কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। বিভিন্ন কল কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য গুলো জন্ডিসের কারন।

কিভাবে বুঝবেন জন্ডিস হয়েছে:

১) জন্ডিস হলে চোখের সাদা অংশ এবং শরীরের চামড়া হলুদ হয়ে যায়।

২) প্রস্রাব ও গাঢ় হলুদ রং এর হয়ে যায়।

৩) জন্ডিস হলে ক্ষুধা মন্দা, বমি , অরুচি ইত্যাদি দেখা দেয়।

৪) শরীরে দুর্বলতা এবং বিরক্ত ভাব দেখা দেয়।

জন্ডিস হলে সাধারন ব্যবস্থাপনা ঃ

১) আরোগ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পূর্ন বিশ্রামে থাকতে হবে।

২) প্রচুর পরিমানে পানি এবং তরল খাবার খেতে হবে।

৩) জন্ডিস আক্রান্ত এলাকার পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।

৪) প্রোটিন জাতীয় সব ধরনের খাবার যত কম খাওয়া যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

৫) অতিরিক্ত তেল এবং মসলা যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

৬) আখের রস , নিম পাতার রস সহ করল্লার রস ইত্যাদি খুব ই উপকারী।

গরমে জন্ডিস একটি ভ্রান্ত ধারণা ঃ

শুধু অতিরিক্ত গরমে জন্ডিস রোগ হয় এমন ধারণা ভুল। তবে তীব্র গরমে এর প্রভাব বেড়ে যায়।শৈশবে টিকা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন আপনাকে এসব রোগ প্রতিরোধ করতে ব্যপক সহায়তা দেবে।

ঝাড় ফুকে জন্ডিস ছাড়ানো ঃ

জন্ডিসের চিকিৎসা হিসাবে একধরনের মালা এবং পানি পড়া আনতে দেখা যায়। মালাটা মাথায় পরানো হয় এবং আস্তে আস্তে মালাটা গলায় নেমে আসে। অথবা মালাটা একটি পাতা বালিশের নিচে রেখে দেয়া হয় এবং ক্রমেই তা দুটি হয়ে যায়। এ গুলো আসলে ধোকা দেওয়ার পদ্ধত্বি মাত্র। জন্ডিস এমন একটা অবস্থা যা সময়ক্ষেপনে শরীরের রোগ অপ্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা আপনা থেকেই নির্মূল হয়ে যায় । এই ধরনের ঝারফুক আসলে কিছুই না। এতে কোন কাজ ও হয় না। মূল বিষয় হচ্ছে বিশ্রাম ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করা। আসলে যে সময় মালাটা ঝড়ে পরে ঐ সময় জন্ডিস আপনা থেকেই ভালো হয়ে যায়। ব্যাপার টা এমন যে ঝড়ে বক মরে আর ফকিরের কেরামতি বাড়ে।

গরমে জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় তাই এ সময়ে আপনাকে সচেতন হতে হবে। সচেতনাতাই আপনাকে এই গরমে জন্ডিস ও অন্যান্য রোগের হাত থেকে বাচিয়ে রাখবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ভেঙেছে কালভার্ট, মাটি নেই ব্রীজের গোড়ায়! পায়ে হাটাও দায়

মোঃ নাঈম হাসান ঈমন ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ধানসিঁড়ি নদীর পূর্বপাড়ের অবহেলিত একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!