মুকসুদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ব্যাপক অালোচনায় কাইমুজ্জামান রানা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করে তৃণমূলে সাড়া ফেলেছেন এক/এগারোর পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তরুন অাওয়ামী লীগ নেতা কাইমুজ্জামান রানা। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপ কমিটির সদস্য হিসাবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।
জানা যায়, অাসন্ন উপজেলা নির্বাচনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজলা থেকে অাওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে অাগ্রহী প্রকাশ করে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা কাইমুজ্জামান রানা চমক সৃষ্টি করেছেন। রানার পিতা উজানি ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাদিউজ্জামান পান্না।তিনি একজন আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তার পিতা ও পরিবারের অন্য সদস্য বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের দায়িত্ব পালনের কালে বিএনপি জামায়েত কর্তৃক একাধিকবার শারিরীক ভাবে নির্যাতিত ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি নিজেও কয়েক বার বিএনপি জামায়াতের নেতাদের হাতে নির্যাতনে শিকার হয়েছেন।
স্কুল জীবন থেকে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়া রানা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী (সোহাগ-নাজমুল) কমিটির সদস্য ছিলেন। তরুণ এই নেতা এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের অাশায় এরই মধ্যে তিনি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে গ্রামে চড়ে বেড়াচ্ছেন। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোটের মাঠে কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রত্যাশী কাইমুজ্জামান রানা বলেন, মাননীয় নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুরর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী প্রজম্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ইশতেহারে শহরের মতো আধুনিক যুগোপযোগী সকল সুবিধার গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষে ‘আমার শহর আমার গ্রাম’র নির্বাচনি অঙ্গীকার করেছে। দল আমাকে মনোনীত করলে একজন তরুণ হিসাবে নেত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবো।
২০০১ থেকে ২০০৫ বিএনপি-জামায়াত জোটেরর দুঃশাসন থেকে ছাতরাজনীতি করে এক/এগারোয় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন সংগ্রাহে রাজনীতি করেছি। তাই আগামী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তৃণমূলে জনগণের পাশে থাকার লক্ষে কাজ করতে চাই বলেও জানান রানা।
মুকসুদপুর উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। আগামী মার্চ মাসে পঞ্চম বারের মতো হতে যাচ্ছে এ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে একাধিক প্রার্থী তৎপর রয়েছেন মুকসুদপুর উপজেলায়। তবে প্রার্থীদের মধ্যে প্রবীণদের পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা রানা।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান হিসাবে গোপালগঞ্জ জেলার মাটি আওয়ামী লীগের ঘাটি বলে পরিচিত। কিন্তু গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল জয়লাভ করে। এদিকে এবারও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ প্রার্থীতা ঘোষণা করে মাঠে নেমেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবার আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলকে সর্বোচ্চ তিনজনের নামের তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন আশরাফুল আলম শিমুল। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিলো তিনি এবারও অন্য দল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জল্পনা কল্পনা রয়েছে। এছাড়াও এই উপজেলা থেকে প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাব্বির খান, মোঃ কাবির মিয়া এবং মুকসুদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সাজ্জাদ করিম মন্টুর নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।
এবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে এবার দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ১৭(১)(গ) ধারা অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের মতো পরিষদের প্রথম বৈঠক (সভা) থেকে ৫ বছরের মেয়াদ শুরু হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি হয় আরও ১১৫টি উপজেলায় ভোট। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের জুন-জুলাইয়ে সব মিলিয়ে ৭ ধাপে দেশের ৪৮৭টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হয়েছিল। ওই বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উপজেলা পরিষদগুলোতে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ ডিসি হলেন গাইবান্ধা জেলার আবদুল মতিন 

  মো:শামসুর রহমান হৃদয়,গাইবান্ধা প্রতিনিধি :গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন রংপুর বিভাগের জেলার জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!