কেরানীগঞ্জে অপহরনের ১ দিন পর উদ্ধার, দুই অপহরনকারী আটক

কেরানীগঞ্জ থেকে অপহরন হওয়ার ১ দিন পর মোঃ শাহেদ মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শ্যামল চন্দ্র শীল (৪৭) ও মোঃ জাভেদ (২৮) নামে দুই অপহরনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ মামলার বাদী ও অপহৃত যুবকের স্ত্রী মোসাম্মদ ইয়াসমিন আক্তার মিলি জানান, তার স্কামী মোঃ সাহেদ রাজধানীর শনির আখড়া রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থিত মিষ্টার কাট জেন্টস পার্লার নামে একটি সেলুনে কাজ করে। গত শনিবার দুপুরে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার স্বামী শাহেদ বাসা থেকে বের হয় । এরপরে সাড়ে তিনটার দিকে সাহেদ আমাকে জরুরী কথা বলার জন্য ফোন করেন তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে জানায় সে শাক্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছে।

এর আধাঘন্টা পর আমি স্বামী সাহেদকে আমার প্রয়োজনে ফোন করলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পায়। এরপর আরো কয়েকবার ফোন করি তখনও একই অবস্থা স্বামীর ফোন নাম্বার বন্ধ পাই। স্বামীকে ফোন না পেয়ে সন্ধ্যায় দোকানে ফোন করে খোজ নিয়ে জানতে পারি সাহেদ দোকানেও যায় নি। ওই দিন রাত ৮টায় স্বামীর ফোন থেকে অন্য এক লোক ফোন কওে জানান, সাহেদকে অপহরন করা হয়েছে এবং তাকে জীবিত পেতে চাইলে এক লাখ বিশ হাজার টাকা মুক্তিপন হিসাবে দিতে হবে। তখন আমি কোন উপন্ত না পেয়ে স্বজনদেও সহযোগিতায় রাত ১২টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এসে একটি মামলা দায়ের করি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, শাহেদ অপহরন ঘটনায় তার স্ত্রী শনিবার রাতে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। এরপর আমরা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অপহরনকারীদেও অবস্থান শনাক্ত করি। এরপর তাদের গ্রেপ্তারের জন্য একটি ফাঁদ পাতি। অপহরনকারীরা সে ফাদে পা দিলে সোমবার ভোওে দুই অপহরনকারীকে গ্রেপ্তারসহ ঈধহৃতকে উদ্ধার করি।

যেভাবে অপহরনকারীদের গ্রেপ্তারের ফাঁদ পাতা হয় ঃ অপহরনকারীদের কথা মত আমরা সাহেদেও পরিবারের লোক সেজে কথা বলি। এরপর তাদেও কথা মত টাকার অংক কমানোর জন্য দরকষাকসি করি। এক পর্যায়ে তারা আমাদের পাতা ফাঁদে পা দেন। অপহরনকারীরা এক পর্যায়ে দশ হাজার টাকা একটি নাম্বাওে পাঠাতে বলেন।
আমরা সে নাম্বারটি প্রযুক্তির মাদ্যমে জানতে পারি সেটি পল্লবী থানাধীন বেগুনটিলা বস্তির নিকট চাঁদপুর ফার্মেসীর বিকাশ নাম্বার। এরপর আমরা সে নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে পল্লবী থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওৎ পেতে থাকি। সোমবার ভোরে অপহরনকারী জাবেদ টাকা নিতে আসলে তাকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক বেগুনটিলা বস্তির জাবেদের ঘর থেকে অপহরনকারীর মূল হোতা শ্যামল চন্দ্র শীলকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত শাহেদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, গত ২৬ তারিখ ইয়াসমিন আক্তার মিলি নামের এক গৃহবধু থানায় উপস্থিত হয়ে অপহরনের একটি মামলা দায়ের করেন। অপহরন মামলা রুজু হওয়ার পর আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রথমে অপহরনকারীদেও অবস্থান সনাক্ত করি। পরে গ্রেপ্তারের একটি ফাঁদ পেতে পল্লবী থানা পুলিশের সহযোগিতায় অপহরনকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গতকাল সোমবার দুপুরে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করে আপহরনকারীদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ.এইচ.সাগর।

নিউজ ঢাকা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী দল : শাহীন আহমেদ

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের আহব্বায়ক শাহীন আহমেদ বলেছেন বিএনপি সবচেয়ে বড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!