সড়ক পথে কম খরচে ভুটান ভ্রমন

মোহাম্মদ উল্লাহ মাহমুদ (সিনিয়র প্রতিনিধি) : সড়ক পথে ভুটান যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভিসার মেয়াদ কিন্তু ১৪ দিন। অর্থাৎ আপনি যেদিন যাবেন তার কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ দিন আগে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে গিয়ে ভিসা আবেদন ফরম জমা দিতে হবে।

ট্রানজিট ভিসার জন্য নিম্ন লিখিত কাগজ পত্র লাগবে।

১. অনলাইনে ভিসা ফর্ম পূরণের সময় ভিসা টাইপ ট্রানজিট ও ডাবল এন্ট্রি লিখবেন পোর্ট দিবেন বাই রোড চ্যাংরাবান্ধা /জঁয়গাও।

২. সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত দুই ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি ছবি, ফরমের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।

৩. ন্যাশনাল আইডি বা জন্মসনদ এর ফটোকপি।

৪. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল এর কপি।

৫. চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ,ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডের ফটোকপি।

৬. ডলার এন্ড্রোসমেন্ট (২০০ ডলার) এর কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট (১৫ হাজার টাকা থাকতে হবে) এর কপি।

৭. বর্তমানে ভুটানে হোটেল রিজার্ভেশনের কাগজও দেখতে চায় ভারতীয় এম্বেসি ,তাই ভুটানে যে হোটেল বুকিং দিয়েছেন এর কাগজও জমা দিতে হবে। ৮. পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) আগে ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তারও ফটোকপি লাগবে। পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটা জমা দিতে হবে।

৯. বাসে আসা যাওয়ার কনফার্ম টিকেট সেক্ষেত্রে শ্যামলী এসআর, মানিক, পরিবহন বা অন্য যেকোন পরিবহনের বুড়িমারি বর্ডার -শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা যাওয়ার টিকেট। যেহেতু কনফার্ম টিকেট কাটবেন বাসের সেহেতু ভ্রমণ তারিখ ও এম্বেসিতে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের সাথে দশ বারোদিন গ্যাপ রাখবেন কারণ জমা দেবার আট থেক দশদিন পর ভিসা দেওয়া হয় তাই বাসের টিকেটের তারিখ এর পরে হতে হবে। বাসের টিকেটের ফটোকপি ফাইলের সাথে জমা দিতে হবে। অরজিনাল কপি পাসপোর্ট এর সাথে পিন মেরে দিন।

কীভাবে যাবেন:

ট্রানজিট ভিসা নিয়ে সোজা চলে যান বুড়িমারি বর্ডারে। ঢাকা থেকে ভাড়া ৮৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। রাত ৮ টার মধ্যে এসব বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। পরদিন সকালে অর্থাৎ ভোরে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারি। মনে রাখবেন বাংলাদেশের এপাশের নাম বুড়িমারি আর ভারতের ওপাশের নাম চ্যাংড়াবান্ধা। আর বর্ডার খোলা হয় এখানে সকাল ৯ টায়। এসময়টুকু বাস কোম্পানীর বিশ্রামাগারে শুয়ে বসেই থাকতে হবে। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনে রয়েছে বেশকিছু ফর্মালিটিজ। ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা ছাড়াও আরোও ১০০ টাকা আপনাকে এখানে দিতে হবে। যদিও আমি জানি না এই টাকাটা কি জন্য প্রয়োজন। না দিলে এক ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। এসব দেখার এখানে কেউই নেই। ইমিগ্রেশনে ছবি তোলে পাসপোর্টে সীল খাওয়ার পর এবার দেশের বর্ডার পার হয়ে ওপারে যাবেন। সেখানেও বখশিশ দিতে হবে ১০০ টাকা জনপ্রতি। ছবি তোলার কাজ শেষ করে পাসপোর্টে সীল খেলে বুঝবেন ভারতের ইমিগ্রেশন এর কাজ সমাপ্ত।

চ্যাংড়াবান্ধায় আপনাকে ভারতীয় দালালরা তাদের ঘরে জোর করবে টাকা অথবা ডলার ভাঙ্গানোর জন্য। ওদেরকে না জানিয়ে ২/১ ঘর যাচাই করে ভালো দামে টাকা ভাঙ্গিয়ে হিসাব বুঝে নিন। এখন আপনাকে যেতে হবে জয়গাঁও বর্ডার। ট্যাক্সিতে চলে যেতে পারেন। সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। ট্যাক্সিতে ৪০০ রুপি মতো খরচ পড়বে জনপ্রতি। ৪ জন রিজার্ভ যেতে চাইলে সেটা হয়ে যাবে দেড় থেকে দুই হাজার রুপির মতো। চাইলে বাসেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে অনেকটাই।

* চ্যাংড়াবান্ধা থেকে সোজা চলে যাবেন জয়গাঁও। সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। * জয়গাঁও পৌঁছে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে আপনাকে হেঁটেই ঢুকতে হবে ভুটানের প্রবেশ পথ ফুন্সোলিং। * এখানেই আপনাকে ভুটানের অন অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হবে।

পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি পাসপোর্ট কপি হোটেল বুকিং এর পেপার সহ ভুটান অফিস প্রদত্ত নির্ধারিত ফরম পুরণ করে কাউন্টারে জমা দিলে কয়েক মিনিটে মিলবে ভিসা। এবার নিশ্চিন্তে ভুটান ঘোরার পালা। চাইলে সেদিন ফুন্টসোলিং থেকে যেতে পারেন।

মোটামুটি কম খরচেই মিলবে ভালো হোটেল। এক রুম ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় থাকতে পারবেন দুইজন। সময় বেশি না থাকলে সেদিন ফুন্টসোলিং না থেকে চলে যান পারো অথবা থিম্পুতে। ফুন্সোলিং বাস স্ট্যান্ড থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেষ বাস ছেড়ে যায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পারো কিংবা থিম্পু যেতে পারেন, ভাড়া নিবে ২৫০ রুপী, সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। কম খরচে পারো অথবা থিম্পু যেতে চাইলে বাসই ভরসা। সেক্ষেত্রে আগের দিন টিকিট করে রাখুন।

ট্যাক্সি অথবা মাইক্রো নিয়েও চলে যেতে পারেন খরচ পরবে ২৫০০ থেকে ৪০০০ রুপি। থিম্পু ও পারুতে থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। পারোতে গেলে টাইগার্স নেস্ট ও পারো জং চেলেলা পাস, জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না। পারো নদীর পাড় ধরে বয়ে চলা রাস্তা ও পারো এয়ারপোর্ট মুগ্ধ করবে আপনাকে। পারো খুবই শান্ত ও আরামদায়ক শহর। থিম্পুতে ক্লোক টাওয়ার, লোকাল মারকেট, বুদ্ধ পয়েন্ট, থিম্পু মনেস্ট্রি, রাজার বাড়িসহ বেশকিছু দৃষ্টিনন্দন জায়গা রয়েছে এখানে। থিম্পু ঘুরে দেখতে একদিনই যথেষ্ট। পুনাখা যেতে চাইলে আপনাকে থিম্পু শহর থেকে পাসপোর্ট এর কপি সহ আবার ফরম পুরন করে জমা দিয়ে এন্ট্রি পাশ নেওয়া লাগবে।

ডিসেম্বরের দিকে ভুটান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে চেলালা পাস ও দোচালা পাস ঘুরে আসতে ভুলবেন না। ভাগ্য সহায় থাকলে এখানে পেয়ে যাবেন বরফ ও স্নুফল। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বরফ পড়ে এখানে। ফেরার সময় মনে রাখবেন বুড়িমারি থেকে মূলত বাস ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। তাই ফুন্টসোলিং থেকে অবশ্যই ১২ টার মধ্যে বের হবার চেষ্টা করবেন। বের হবার সময় ঠিক আগের মতই ভুটানে ফুন্সোলিং ইমিগ্রেশন পয়েন্ট থেকে আপনার পাসপোর্টে এক্সিট সিল ও জয়গাওয়ে এন্ট্রি সীল মারতে মারতে আসবেন একদম বুড়িমারি পর্যন্ত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

একজন শুদ্ধ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন রিপনের

কাওসার আহম্মেদ রিপন, অভিনয় যার ধ্যান জ্ঞান। একইসাথে দীর্ঘ দিনের থিয়েটার কর্মী তিনি। চলচ্চিত্রে তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!