শত বছরের টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম

 

বাহার তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল সদর থেকে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে পোড়াবাড়ী গ্রাম,বহুকাল আগে থেকেই পোড়াবাড়ীর চমচমের সুনাম দেশজুড়ে। প্রবীনদের মুখে শোনা যায় আসাম থেকে জসরুত নামে একজন মনি এসে ছিলেন।

সেও কমপক্ষে দুইশত বছর আগের কথা, পোড়াবাড়ীর গরুর খাঁটি দুধ,চিনি আর ধলেশ্বরী নদীর পানি দিয়ে তার হাতেই তৈরি হয় সুস্বাদু পোড়াবাড়ীর চমচম। ধলেশ্বরী নদী দিয়ে পোড়াবাড়ীর ঘাটে স্টিমার ভীড়ত ফলে গোটা ভারতবর্ষ জুড়েই লালচে ইট রংয়ের রসআলো কমল এই চমচমের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের স্রোতে সেই রমরমা অবস্থা হারিয়ে এখন ছোট এক বাজারে পরিণত হয়েছে পোড়াবাড়ী। আগে ৫০ থেকে ৬০ টি দোকানে চমচম তৈরি হলেও এখন কমতে কমতে দুই একটা দোকান আছে। আর মিষ্টান্ন দোকানগুলো পোড়াবাড়ী থেকে শহর মুখী চলে এসেছে পাচঁ আনী বাজারে।
লক্ষণ চন্দ্র পাল পাচঁ আনী বাজারে এই চমচম তৈরির সাথে কাটিয়েছেন জীবনের
৩০ টি বছর। তিনি নিউজ ঢাকা ২৪ ডট কমকে বলেন, আগে পোড়াবাড়ী বাজারে
কাজ করতাম কিন্তু দিন দিন সেখানে
মানুষের আনাগোনা কমতে থাকে ফলে
কাম হাতে না পেয়ে শহরে এসে পড়েছি। ঐখানের দোকান গুলোই এখানে চমচম
তৈরি করছে।

ঢাকার মিরপুর থেকে এক আত্নীয় বাড়ী এসেছিলেন মোঃ রফিকুল ইসলাম।
পোড়াবাড়ীর চমচমের সুনামে পাচঁ আনী
বাজারে চমচম নিতে আসেন তিনি। বলেন, টাঙ্গাইলের চমচমের কথা তো সবাই জানে। ফাইনালি আত্নীয় বাড়ী আসলাম সেই সুবাদে বেশকিছু পোড়াবাড়ীর চমচম নিলাম। মানের দিক থেকে অনেক ভাল আর খেতেও সুস্বাদু।

তবে কালের পরিক্রামায় স্বাদ কমেছে বলে জানান স্থানীয় মোহাম্মাদ আকবার আলি (৭০) তিনি বলেন, আগের নাহাল স্বাদ আর পোড়াবাড়ীর চমচমে নাই।

গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের তপন কুমার ঘোষ (৬৫) বলেন, আগে তো গরু মাঠে ঘাস খেতে এখন তো, কুড়া ভুশি খায়। দেশি গরুর দুধ তো এখন কম পাওয়া যায় তাই স্বাদ আগের থেকে কমে গেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে প্রডিউসার অর্গানাইজেশন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

  এস.এম জামাল উদ্দিন শামীম,ত্রিশাল প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ত্রিশালে মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (পিও) এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!