এগ্রোবাংলা , স্বপ্ন দেখে কৃষি বিপ্লবের , স্বপ্ন দেখে আগামীর ।

কৃষিতে শিক্ষিত যুবক, এগ্রোবাংলাবাংলা ওয়েব কন্টেন্টের করুন অবস্থার গল্প শোনছি কয়দিন ধরে। বর্তমানে সভ্য সমাজে মুখরোচক আড্ডাকে স্পাইসি করে এই দৈনতা নিয়ে তর্ক বিতর্ক।তবে অবস্থার বদল হচ্ছে, বাংলা ওয়েব কন্টেন্ট পরিবর্তন হচ্ছে এই জায়গায় সবার সুর এক হয়ে যায়। এমন গুনগুন শোনে ঘরে ঢুকেই চোখে পড়লো এগ্রোবাংলা ডট কম। সাইটটা দেখেই মনটা ভালো লাগলো।খুব সাদামাটা ডিজাইনের একটা ওয়েবসাইট, যেন কৃষকের অনাড়ম্বর জীবন-গল্পের প্রচ্ছদ ।বাংলার আধুনিক কৃষির গল্প নিয়ে সময় উপযোগী  উদ্যোগ। আবহমান বাংলার কৃষকের প্রতি প্রযুক্তির অগ্রপথিকের সামান্য শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন।

বাঙ্গালীর তথ্য প্রযুক্তি চর্চার প্রাথমিক যুগে, প্রযুক্তি চর্চার মুখ্য উদ্দ্যেশ্য যখন অর্থ আয় তখন জেলে-কৃষকের গল্প বলা, কৃষি বিপ্লব বা আধুনিক কৃষির গল্প বলা, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো। এই ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানোতে যদি কিছু অর্থের গন্ধ থাকতো তাবে এই বাঙ্গালী যুব সমাজ এই বিষয়ে লক্ষ্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে মাঠে নামতো।কিন্তু কৃষিতে যে শুধু অর্থের গন্ধ নয়, অর্থের খনি আছে এই জেনেও কৃষিতে শিক্ষিত যুব সমাজের উপস্থিতি বৃষ্টির দিনে সরকারী স্কুলের ক্লাস এটেন্ডেনস এর মতো।সেখানে গাটের টাকা খরচ করে কৃষির জন্য ওয়েব সাইট?

“মাথা নষ্ট না হলে এমনটা কেউ করবে না।একটা এফিলিয়েট সাইটে প্রায় সমান অর্থ,সময় ও শ্রম দিয়ে এতো ডিজিটের ডলার পাবি-কি সব নিয়া পইরা আছিস, কৃষি, তর খাইয়া কোন কাম নাই।” আমাদের তথ্য প্রযুক্তির বিশেষ অজ্ঞরা যখন তরুন উদ্যোগতাদের এমন পরামর্শ দেন তখন অবশ্য তরুণের শরীরে আর কোন লোম শুয়ে থাকে না। সেই সময়ে দাড়ায়ে এগ্রোবাংলা এর এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

কৃষিতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, খাদ্যের গুনগত মান বৃদ্ধি , স্বপ্ল পরিসরে অধিক উৎপাদন এবং বিপণনে ই-কমার্স পদ্ধতি চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করে এগ্রো বাংলা তাঁর মুখবন্ধ রচনা করেছে। সফলদের সাফল্য গাথা ও কৃষির প্রচারে বিভিন্ন মিডিয়ার অবদান তোলে ধরে নিজেদের কন্টেন্ট সাজানো চেস্টা করছে।ছবি ও ভিডিওর কম ব্যবহার ও কন্টেন্টর অপ্রতুলতা থাকলেও বেশ কিছু মান সম্পন্ন কন্টেন্ট রয়েছে।

আমি জানি কৃষি নিয়ে শুধু এগ্রোবাংলাএই এগ্রোবাংলা নয়, এমন আরো অনেক আছেন যারা তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে এসেও মাটির কথা , মানুষের কথা ভাবেন। প্রযুক্তি চর্চার বিভিন্ন শাখায় এমন অনেক বড় বড় মহৎ উদ্যোগতা বাংলার আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন। কিন্তু এতে জাতি হিসেবে আমাদের সন্তুষ্টির জায়গায় লাল বা সবুজ বাতি নয় , দিচ্ছে হলুদ বাতির অপেক্ষা। যতদিন আমরা আমাদের আপামর প্রযুক্তি চর্চাকে আমাদের মাটি ও মানুষে নিমিত্তে উৎসর্গ না করছি ততদিন সে হলুদ বাতি আমাদের সিগনালে বসিয়ে রাখবে।

প্রযুক্তি, সে তথ্য প্রযুক্তি হোক আর কৃষি প্রযুক্তি হোক, আসুন আমরা তা আমার মাটি ও মানুষের কল্যানে প্রয়োগ করি ।তাতেই আমাদের প্রকৃত মুক্তি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

যশোরে ইয়াবাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

আক্তার মাহমুদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছা থানা পুলিশের অভিযানে ৭৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মোছাঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!