ক্যারিয়ার নির্বাচন করবেন যেভাবে

ক্যারিয়ার খুবি গুরুত্বরপূর্ণ আর ভারি ্‌একটা শব্দ। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হতে না হতেই এই বিষয় টা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।ক্লাস ফাইভের একটা বাচ্চা ও যানে লেখাপড়া শেষে তাকে ভালো একটা চাকরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এতো গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই কোন প্রকার চিন্তা করা ছাড়াই।

ভালো একটা ক্যারিয়ার বলতেই আমরা অনেকেই ভালো একটা চাকরি করাকে বুঝি।

চাকরির বাইরে ও যে সম্মানজনক ক্যারিয়ার আছে তা আমরা অনেকেই জানি না।

অনেকের কথা শুনে যখন আমরা একটা ক্যারিয়ার এর পথ বেছে নেই তখন কিছু দিন কাজ করার পর দেখা যায় আর ভালো লাগছে না।তখন ক্যারিয়ার হয়ে যায় বোঝা ।

এক গবেষনায় দেখা যায় আমেরিকার একজন ব্যাক্তি গড়ে ৩ বার তার ক্যারিয়ার বদলায় সেইখানে আমাদের দেশে সেটা ১ বার বদলানোর সুযোগ থাকে না।

ব্যাপারটা এমন যে আমরা শুধু মাত্র ১ টা কাজ করার জন্যই তৈরি হয়েছি। আর আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যাবস্থাই এটা আমাদের কে শেখায়।

ক্যারিয়ার নিয়ে সব সমস্যার সমাধান একটাই। আর তা হলো ক্যারিয়ার নির্বাচনে সচেতন হওয়া আর নিজেকে ঐ ভাবে গড়ে তোলা।

নিচের বিষয় গুলার দিকে একটু লক্ষ রাখলে সুন্দর একটা ক্যারিয়ার নির্বাচন করা যেতে পারে :

শুরুটা হোক মাধ্যমিক থেকেই:

ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা ভাবনা মাধ্যমিক থেকেই করা উচিত।

তখন থেকেই রিসার্চ করা উচিত কোন ফিল্ডের ডিমান্ড এবং চাহিদা ৪-৫ বছর পর অনেক ভালো অবস্থায় থাকবে।

সেটা নিয়ে ওয়ার্ক করতে হবে। ঐ কাজ করতে হলে কি কি শিখা দরকার তা ও শিখতে হবে।

আয়টাও জরুরি: 

ক্যারিয়ার বলতেই আমরা টাকা উপার্জনের মাধ্যমকেই বুঝি।

লেখাপড়া শেষে মোটা বেতনের একটা চাকরি করতে হবে এটাই হয় আমাদের লক্ষ।

যদিও ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় নয় এটি, তবু্ও দায়বদ্ধতার কারনে এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে হয় সবচেয়ে বেশি।

বিকল্প ক্যারিয়ার:

শিক্ষা জীবনে আমাদের কে খুব কমই শেখানো হয় যে, ক্যারিয়ার মানেই চাকরি নয়।

ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা হওয়া, স্বাধীন-কন্সাল্টেন্ট হওয়া এরকম আরও অনেক ক্যারিয়ার এর রাস্তা আছে।

উদ্যোক্তা হলে যেমন নিজের স্বাধীনতা থাকে তেমনি অনেকের কর্মক্ষেত্র ও তৈরি করা যায়।

বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে ৪৬% শিক্ষিত জনবল বেকার সেখানে উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।

কি ভালো লাগে:

চাকরিতে জয়েন দেয়ার পর কাজ ভালো লাগে না , এইটা না বলে যোগ দেয়ার আগে ভাবা উচিত কি ভালো লাগে।

ধরুন আপনি আকা আকি পচ্ছন্দ করেন সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ফ্যাশন ডিজাইনার অথবা আর্কিটেকচার এ ক্যারিয়ার নির্বাচন করা উচিত।

যে কাজে মন বসে না অথবা অপচ্ছন্দের সে কাজে ক্যারিয়ার না গড়াটাই উত্তম।

দক্ষতাই চাবিকাঠি: 

যে কোন ক্যরিয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট আপনার এন্ট্রি টিকেট হিসাবে কাজ করবে।

বাকিটা নির্ভর করবে আপনার দক্ষতার উপর। কোন একটা বিষয়ে আপনি যতো দক্ষ হবেন ঐ বিষয়ে আপনার ক্যারিয়ার ততো উজ্বল হবে।

মনে রাখবেন যে জিনিস আপনি নিজ তাগিদে শিখবেন ঐ জিনসে আপনি গুরু হয়ে যাবেন।

আইডল বানান কাউকে:

লাইফে কাউকে ্‌আপনার আইডল বানান। তবে এমন কাউকে নির্বাচন করবেন না যিনি শুধু মাত্র একটা বিষয়েই দক্ষ।

এমন কাউকে আইডল বানাতে হবে যে আপনাকে সু পরামর্শ দেবে। যার ক্যারিয়ার সফল।

আপনাকে সুন্দর এবং অনেক গুলা রাস্তা দেখাতে পারবে।

পুরাতনদের কাছ থেকে ধারনা নিন:

আপনি যে সেক্টরে আপনার ক্যারিয়র গড়তে চাচ্ছেন ঐ সেক্টরে যারা পুরাতন আছে তাদের কাছ থেকে ধারনা নিতে পারেন এতে অনেক কিছুই আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

একটা দেশের ৪৮% স্নাতক শিক্ষিত বেকার, শতকরা ৮৫% চাকুরিজীবি তাদের চাকুরি নিয়ে অসুন্তষ্ট। এটা খুব ভয়ঙ্কর একটা তথ্য্। নিজেকে এর থেকে আলাদা রাখুন। ক্যারিয়ার নিয়ে প্লানিং করা শুরু করুন আর প্লানিং মতো কাজ করুন।

নিজেকে দেশের অভিশাপ নয় সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলুন।

 

তথ্য উপাত্ত ১০ মিনিট স্কুল থেকে সংগ্রহীত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

হার না মানা ১০০ তরুণের গল্পে জবি শিক্ষার্থী মাহাদী সেকেন্দার

জবি প্রতিনিধি: একুশের বইমেলায় প্রকাশিত ‘হার না মানা ১০০ তরুণের গল্প’ বইয়ে স্থান পেয়েছেন জগন্নাথ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!