পা ফাটা

পা ফাটা রোধে ঘরোয়া সমাধান

ত্বকের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সবাই সচেতন। কিন্তু এটি করতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই হাত এবং পায়ের কথ।পা ফাটা অনেক বড়ো প্রবলেম। সুন্দর হাত-পা মুখের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূর্য রশ্মির সরাসরি প্রভাবের কারণে মেলানিন উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে আমাদের ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে যায়।

বিশেষ করে যারা ফর্সা ত্বকের অধিকারী তাদের জন্য হাত-পা কালো হয়ে যাওয়াটা দারুণ লজ্জার কারণ। তবে কিছু টিপস অনুসরণ করলে আপনার মুখ কিংবা সাধারণ ত্বকের মতোই হাত-পা অনেক প্রাণবন্ত দেখাবে।

পা ফাটা সমস্যাটি অনেক সাধারণ একটি সমস্যা। পায়ের গোড়ালিতে ফেটে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন অনেকেই। খুব বেশি শুকিয়ে যাওয়া, ময়েশ্চারাইজারের অভাব, পায়ের সঠিক যত্ন না নেওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জুতো নির্বাচন না করার ফলে এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় পড়তে হয় অনেককেই। তাই পা ফাটাকে খাটো করে দেখার কিছু নেই। বরং এ ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। অনুসরণ করতে হবে কিছু পদ্ধতি।

চালের গুঁড়ার ব্যবহার

একমুঠো চালের গুঁড়ো নিয়ে এতে ২/৩ টেবিল চামচ মধু, ২ টেবিল চামচ ভিনেগার, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল/ আলমন্ড অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন। প্রথমে ১০ মিনিট গরম পানিতে পা ভিজিয়ে নিয়ে এই পেস্টটি দিয়ে পায়ের গোড়ালি ভালো করে স্ক্রাব করে নিন।

নিম পাতার ব্যবহার

১০/১৫টি নিম পাতা নিয়ে ধুয়ে ভালো করে বেটে নিন। এতে ৩ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে নিন পুরু করে। ৩০ মিনিট রেখে গরম পানি দিয়ে পা ভালো করে ধুয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

মধুর ব্যবহার

মধুর ময়েশ্চারাইজিং এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান পা ফাটা ও শুষ্ক ত্বক দুটোই দূর করতে সাহায্য করে। অর্ধেক বালতি পানিতে ১ কাপ পরিমাণে মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই পানিতে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এরপর একটি স্ক্রাবার দিয়ে আলতো করে পা ঘষে নিন।

গোলাপজল ও গ্লিসারিন

গোলাপজলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৩, সি, ডি ও ই, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা পা ফাটা দূর করে। এবং গিসারিন ত্বককে নরম ও কোমল করতে সহায়তা করে। সমান পরিমাণ গোলাপজল এবং গ্লিসারিন মিশিয়ে নিয়ে প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের গোড়ালি ও পাতায় ম্যাসাজ করুন।

লেবু

লেবুর এসিটিক উপাদান পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে পা ফাটা রোধ করে। একটি লেবু কেটে নিয়ে সরাসরি তা দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে ঘষুন। এ ছাড়া হালকা গরম পানিতে লেবুর রস চিপে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে ঝামা ইট দিয়ে ঘষে নিন পায়ের গোড়ালি। পা ফাটা প্রতিরোধ হবে।

লবণ গরম পানি

অর্ধেক বালতি গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এতে পা ডুবিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে পা ডুবান। এতে করে পায়ের ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। এরপর পা ধুয়ে মুছে নিয়ে ফুটক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ম্যাসাজ করে নিন

০. কমলার খোসা শুকিয়ে সেটা গুঁড়ো করে কাঁচা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত হাতে-পায়ে লাগান, এতে অবশ্যই আপনি ভালো ফলাফল পাবেন।

০. শসা, টমেটো এবং লেবুর রসের সঙ্গে চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে হাতে-পায়ে লাগান আর ১৫ মিনিট পরেই দেখুন কালচে পড়া হাত পায়ের উজ্জ্বলতা।

০. ঘৃত কুমারীর নাম আমরা সবাই শুনেছি। এটির থকথকে জেলটা হাতে-পায়ে ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

০. এক টেবিল চামচ গুড়োঁ দুধ, এক টেবিল চামচ মধু, এক টেবিল চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে হাত-পায়ে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার করুন। এই প্যাকটি শাইন আনবে আর সানটান দূর করবে।

কাঁচা আলুর রস প্রতিদিন ২ বার করে ব্যবহার করলেও খুব দ্রুত উজ্জ্বল লাবণ্যময় হাত-পা দেখে নিজেই অবাক হবেন।

০. দুই টেবিল চামচ বেসন, দুই চিমটি কাঁচা হলুদ, ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস আর এক চা-চামচ দুধ দিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি হাতে-পায়ে ৫ মিনিট ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে মনে রাখবেন, হলুদ কিন্তু সবাইকে স্যুট করে না।

০. এক চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ শসার রসের সঙ্গে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে হাতে-পায়ে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন আর ২ সপ্তাহ পর সবার প্রশংসা পাবার জন্য তৈরি থাকুন। এই প্যাক প্রতিদিন ব্যবহার করবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বর্ষায় শাক-সবজি পচে যাওয়া ঠেকাবেন যেভাবে

    খাদ্য নিরাপত্তায় সজাগ দৃষ্টি রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি …

3 comments

  1. I’m not sure exactly why but this website is loading
    very slow for me. Is anyone else having this issue or is it a issue on my end?
    I’ll check back later and see if the problem still exists.

  2. This is a topic that is close to my heart… Take
    care! Exactly where are your contact details though?

  3. Thanks very interesting blog!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!