শিশুশ্রমিক ইসমাইল এর ক্ষোভ “খাইতে পারি না আবার পড়ালেহা” ।

শিশুশ্রমিক – বহু সমস্যায় জরজরিত বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা । বাংলাদেশের সংবিধানে ১৬ বছরের নিচে সকলেই শিশু। অপরদিকে ২০১১ সালের শিশু নীতি অনুযায়ী হিসাবটা আরেকটু বড়ো। সেখানে ১৮ বছরের কম বয়সী সকলকেই  দেয়া হয়েছে শিশুর স্বীকৃতি। তারুন্য নির্ভর বাংলাদেশে শতকরা ৬০ শতাংশ জনগনের বয়সসীমা ২৫ এর নিচে যেখানে এসব মানুষের জীবনের ভীত গড়ে উঠে ১৮ বছরের পূর্বেই। অথচ এই শিশুরাই বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।শিশুশ্রম সমস্যা আমাদের সামাজিক ও জাতীয় দৈনতার পরিচয় বহন করে।

উন্নয়শীল বাংলাদেশ যেখানে অধিকাংশ পরিবার ই বসবাস করে দারিদ্রসীমার নিচে। আর পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অসচেতন এ সব পরিবারের সকল সদস্যের ভরন পোষন চালাতে হিমসিম খেতে হয় পরিবারের কর্তাকে। যার কারনে বাধ্য হয়েই পরিবারের শিশুদের কাজে নামতে হয়। আর এ কারনেই অনেক সময় এ সকল পরিবারের শিশুদের আগ্রহ থাকা সত্বেও  পড়ালেখা করা হয় না।অভাবের তাড়নায় তারা হয়ে ওঠে শিশুশ্রমিক ।

শিশুশ্রমিক হয়ে ওঠার গল্প:

শিশুশ্রমিক ইসমাইল
লোহার কারখানায় কর্মরত ইসমাইল ।

কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া ১৫ বছর বয়সি ইসমাইল। অভাব অনটনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাটুকুই ভাগ্যে জুটেছিলো তার। এর পর পরিবারের অভাব মেটাতে বাবা কে সাহায্য করতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে একাই পাড়ি জমায় ঢাকায়, গত ১ বছর যাবত কাজ করছে লোহার কারখানায়। আরো পড়ালেখার করার ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে শিশুশ্রমিক ইসমাইল উত্তর দেয়   ”খাইতে পাড়ি না আবার পড়ালেহা”।

আইসক্রিম বিক্রেতা হৃদয়

পিতাকে হারিয়ে অভাবের তাড়নায় বরিশাল থেকে মায়ের হাত ধরে ঢাকায় এসেছিলো হৃদয়। ১৩ বছর বয়সি এই ছোট্ট শিশুকে চালাতে হয় ৫ জনের পুরো পরিবার। প্রতিদিন রোদে পুড়ে আনাচে কানাচে ঘুরে আইসক্রীম বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে কোন মতে চলে যায় তার অভাবের সংসার। লেখা পড়া করতে ইচ্ছা করে কিনা জিজ্ঞেস করতেই হাসি দিয়ে চলে যায় সে।

 

লেদ কারখানায় প্রিতম ।

প্রিতমের বাড়ি ভোলায়। পড়ালেখা করতো এক সময়। তবে সংসারের অভাবের কারনে তা আর বেশি দূর আগায় নি।শিশুশ্রমিক প্রিতম বললো পড়ালেখা করে কি হবে যদি খাইতেই না পারি। এখন দু বেলা খাইতে পারি। এতেই যথেষ্ট পড়া লেখা আমার দরকার নাই।

লেগুনার হেল্পার বাদশাহ ।

লেগুনায় কথা হয় হেল্পারের কাজ করা বাদশার সাথে। বয়স ১১ কি ১২ হবে। এই বয়সেই খুব ভোরে কাজে যেতে হয় বাদশার।ফিরতে ফিরতে অনেক রাত। এর মাঝে সারাদিন ঝুকিপূর্ন ভাবে লেগুনার পিছনে ঝুলে থেকে ভাড়া আদায় করে সে। এই কাজের টাকা দিয়েই চলছে তার সংসার। তবুও বাদশার স্বপ্ন সুযোগ পেলে সেও পড়ালেখা করে বড়ো কিছু হতে চায়।

আরো অনেক শিশুশ্রমিকের গল্প উঠে আসে নিউজ ঢাকা ২৪ এর ক্যামেরায়

বেড়েই চলছে শিশুশ্রমিক:

এভাবেই আনাচা কানাচে বিভিন্ন পরিবার থেকে আসা শিশুরা জরিয়ে পড়ছে শিশু শ্রমে। শিশু শ্রম বন্ধে আইন করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এদেরকে যথাযথ সুযোগ সুবিধা না দিয়ে আইন করে শিশুশ্রম বন্ধ করা কতোটুকু সম্ভব ? শিশুদের জন্য জাতিসংঘের আন্তজার্তিক সংস্থা ইউনিসেফ প্রতিবছর ই আমাদের দেশে শিশুদের অধিকার আদায়ে নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। তার পরেও প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে শিশুশ্রমিক ।বাংলাদেশ সরকার শিশুদের অধিকার সংরক্ষনের জন্য বিভিন্ন্ পদক্ষেপ নিলেও তার ফল কতো টুকুই বা ভোগ করতে পারছে এসব খেটে খাওয়া শিশুরা ?

 

 

নিউজ ঢাকা টুয়েন্টিফোর ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেরানীগঞ্জে মসজিদে

জনসচেতনতা বাড়াতে কেরানীগঞ্জে মসজিদে মসজিদে পুলিশ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে, সর্বস্তরের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে উদ্বুদ্ধ করা,আসন্ন ঈদ উল আযহায় আইন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!