পুলিশ-শ্রমিক

পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের ॥গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকায় পুরুষ শুন্য

বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুর বাড়তি টোল আদায় নিয়ে গত শুক্রবার সকালে  সংঘর্ষের পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের  ঘটনায় প্রায় ত্রিশজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় এক শ্রমিক নিহতসহ প্রায় দশ-পনেরজন আহত হয়। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের শ্বশুর মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে

এ ঘটনার একদিন পর শনিবার রাতে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আশরাফুল আলম তালুকদার বাদী হয়ে সরকারী কাজে বাধা, পুলিশের উপর হামলা, মারপিট,ভাংচুরের অভিযোগ এনে  ৩১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচশত জন আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে নিহত সোহেল হত্যার কোন মামলা থানায় রুজু করা হয় নাই। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকায় পুরুষ শন্য প্রায়।

শনিবার শ্রমিক নেতাদের পক্ষে দাবী উঠে, ব্রীজের ইজারাদার খোরশেদ আলমের গুলিতে নিহত হয় ট্রাক হেলাপার সোহেল। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরে হাসনাবাদ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতালের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, যখন সোহেলকে নিয়ে শ্রমিকরা হাসপাতালে যান ,ততখনে মারা যায়। পরে তারা শ্রমিকদের মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কিছুক্ষন পর পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।

এ দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সুত্রে জানা যায়, নিহত শ্রমিক সোহেল এর ময়না তদন্তকালে দেখা গেছে পেট বরাবর পিঠে যে ছিদ্র রয়েছে তা কোন পিস্তলের গুলি না এটা সম্ভবত রাইফেলের গুলি হবে। তার পেট থেকে কোন গুলি পাওয়া যায়নি সম্ভবত গুলি বের হয়ে গেছে।

রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানাযায়, শুক্রবার সাধারনত ছুটিরদিন থাকায় স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ ছিল। তখন আশপাশের বাড়িঘরে গিয়ে পুরুষ-মহিলাদের সংঘর্ষ সম্পর্কে অনেকের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে শ্রমিকদের উপর পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশ শুধু শ্রমিকদের উপরই গুলি চালায়নি তারা যখন গুলি চালাতে শুরু করে এ সময় শ্রমিকদের সাথে পথচারী ও আশপাশের লোকজন বিভিন্ন বাড়িঘরে এবং হোটেলে অবস্থান করলে পুলিশ ঐ দিকে ও গুলি চালায়

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ট্রাক চালক বলেন, আমাদের আন্দোলন ছিল ব্রীজের টোল মুক্ত বা আমাদের হাতের নাগালে রাখার জন্যে। কিন্তু পুলিশ কেন আমাদের উপর হামলা চালায়। পুলিশের কি লাভ এখানে। তারা কেন এসে গুলি করে আমাদের এক শ্রমিককে হত্যাসহ দশ শ্রমিক আহত করে। আমরা দেশ বাসর কাছে এ হত্যার সুষ্ঠ বচার চাই। এখন আমরা কেউ ঘরে থাকতে পারছি না। আমাদের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হয়েছে পুুুলিশ তা আমলে না নিয়ে উল্টো তারা আমাদের চার-পাঁচশ জন শ্রমিকের নামে মামলা রুজু করেছে। এখন পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে শ্রমিকরা বাড়িঘর ছাড়া। তিনি আরো বলেন পুলিশ শুক্রবার রাতেই নিহত সোহেলের লাশ পুলিশ প্রহরায় মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে নিয়ে স্বজনদের হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে  দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

রবিবার মোবাইল ফোনে কথা হয় নিহত সোহেল এর শ্বশুর মোশারফ হোসেন এর সাথে, তিনি জানান, সোমবার সোহেলের নামে দোয়া পড়িয়ে ঢাকায় আসবো। তিনি বলেন শুক্রবার রাতে আমরা সোহেল এর লাশ হাসনাবাদ এলাকায় নয়ে আসতে চাইলে পুলিশ জোর করে লাশ কোনাখোলা নিয়ে যায়। এরপর আমাদের সেখানে ডেকে নিয়ে সোহেলের লাশের সাথে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন পুলিশ মাওয়া ফেরি পর্যন্ত আমাদের সাথে আসে।

এ ব্যাপারে ইজারাদার মোঃ খোরশেদ আলম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সময় আমার নিজ ববাড়ি গুলশানে ছিলাম।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহজামান জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিভযোগে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ গটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। নিহতের পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করে এখনো ঢাকায় আসেনি। তারা থানায় এসে মামলা দিলে আমরা মামলা নিবো নচেত পুলিশ বাদীী হয়ে আমরা একটি হত্যা মামলা করবো। #

 

এ.এইচ এম সাগর
নিউজ ঢাকা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী দল : শাহীন আহমেদ

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের আহব্বায়ক শাহীন আহমেদ বলেছেন বিএনপি সবচেয়ে বড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!