বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া : কামরুল ইসলাম

খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড.মোঃ কামরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে কতোটুকু উন্নয়ন হয়েছে আর আসার পরে কতোটুকু উন্নয়ন করেছে তার বিচার সাধারন জনগন ভোটের মাধ্যমে এবার হিসাব নিকাশ কষবে ।

একটা সরকারের পক্ষে জনগনের ১৬ আনা আশা পূরন করা সম্ভব নয়। আমি এ এলাকায় আপনাদের ১৬ আনা দিতে পারি নাই । আামার অনেক ভুল ত্রুটি আছে তা আমি স্বীকার করি। ভুল মানুষই করে, ভুল হয় না শয়তানের/ ফেরেস্তার। আমি আপনাদের কেরানীগঞ্জের দায়িত্ব নেয়ার পরে এ এলাকার প্রতিটি স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় নতুন ভবন করেছি। রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানেও ১২০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ সাভার-কেরানীগঞ্জে চলমান আছে। কেরানীগঞ্জে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শাক্তা মডেল হাই স্কুল এবং ইস্পাহানী কলেজকে জাতীয়করন করেছেন। কেরানীগঞ্জের সবগুলো মাঠ আমরা খেলার উপযুক্ত করেছি।

কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় বর্তমানে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা গ্যাসের সমস্যা। আমি প্রতিমন্ত্রী বিপুর সাথে কথা বলে এ এলাকার গ্যাসের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করবো। বর্তমানে সরকার সব খাতে উন্নত, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আইটি সব সেক্টরে উন্নয়ন করছে। এক সময় ৭ কোটি মানুষের খাদ্য আমদানী করতে আমাদের সমস্যা হতো, এখন ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরন করে আমরা বিদেশে খাদ্য রপ্তানী করে। কৃষকরা আজকে বিনামূূল্যে সার পায় নিরাবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পায়, তাই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবার সকালে কলাতিয়া বাজার এলাকায় গনসংযোগের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের প্রচারপত্র বিলি শেষে এক পথ সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড.মোঃ কামরুল ইসলাম এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে আজ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়েদের কথা চিন্তা করে মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করেছেন, গর্ভকালীন ছুটি চালু করেছেন। তিনিও প্রধানমন্ত্রী আগেও একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আগের প্রধানমন্ত্রী মায়েদেরে কথা কখনো চিন্তা করেনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার করে ভাতা দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেটেলাইট ১ উৎক্ষেপনের পরে প্রযুক্তিক্ষেত্রে উন্নত হয়েছে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশ । ২০৪১ এ আমরা উন্নত দেশ হবো । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে আমরা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছি। ২০২৪ সালে আমরা জাতিসংঘের কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশের চুড়ান্ত স্বিকৃতি পাবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নন্দীত নেত্রী। আরেক জন সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে ছিলেন তিনি দুর্নিতীর দায়ে কারাগারে। আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে

সৎ তিনজন নেত্রীর মধ্যে একজন আরেকজন দুর্নিতীর দায়ে আটক। এতিমদের টাকা লুটের দায়ে কারাগারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বিশ্বের সেরা ১০ জন নেতার মধ্যে। মধ্যপ্রাচ্য আজকে আর বাংলাদেশকে মিসকিন বলে না। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ^ বাংলাদেশকে আজকে দেখে। পদ্মা সেতু হলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাহসীকতায় পদ্মা সেতু হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন দৃষ্টান্তমূলক বিচার করেছি। বিচার না করার যে প্রথাছিলো আমরা তার থেকে বেড়িয়ে এসেছি। অনেকে অভিযোগ তুলেন এগুলো রাজনৈতিক বিচার। অপরাধীর দন্ড পেতে হবে এটা নির্মম সত্য। যারা ৭১ ঘাতক, যারা ২১ আগষ্ট হামলাকারী তাদের ন্যায় বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। আমরা ন্যায় বিচার করেছি। তারেক রহমান আজকে যাবৎজীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী । বেগম জিয়া দুর্নিতীর দায়ে দন্ডিত।

বিএনপি এখন রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া। তাদের চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অভিযুক্ত। দু জনেই দন্ডিত কারা অপরাধী। এটা গনতান্ত্রিক ভাবে লজ্জাজনক। আমাদের দুঃখ হয় ডা কামাল হোসেন সহ আসম আব্দুর রব, মান্না আজকে দুর্নিতি বাজদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। আমি বুঝতে পারি না এই বৃদ্ধ বয়েসে কামাল হোসেন সাহেব কিভাবে হাত মিলিয়েছেন। মানুষ এ প্রশ্নের উত্তর চায়। নির্বাচন সামনে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই অপশক্তিকে বিশ^াস করা যায় না। বিএনপি এমন একটি দল যারা আন্তর্জাতিক ভাবে কানাডার একটি আদালতে সন্ত্রাসী দল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। দেশের আদালতে ও তা প্রমানিত হয়েছে। কাজেই এরা যে কোন সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে পারে। আমাদের সজাগ থাকতে প্রতিরোধ গড়তে হবে। সবাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করুন। একটা সুষ্ঠ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সবাইকে উপহার দিবেন।

নির্বাচন কালীন সরকার পরিচালনা করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগন নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেই নির্বাচন হবে। ওরা যতোই আন্দোলনের কথা বলুক ওদের দিয়ে আন্দোলন হবে না। ওদের সাংগঠনিক শক্তি নাই। ওদের ঐক্য হয়েছে খুনিদের ঐক্য। ওদের ঐক্য সন্ত্রাসীদের ঐক্য। এটা ফলপ্রসু হবে না। কোন অবস্তাতেই ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। এক সময় আমরা নির্বাচনের শ্লোগান দিতাম আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুসি তাকে দিবো আর এখন বলতে হবে আমার ভোট আমি দিবো উন্নয়নের পক্ষে দিবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দিবো।

এ সময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম, ঢাকা জেলা যুবলীগ সভাপতি শফিউল আযম খান বারকু, আওয়ামীলীগ নেতা ডাঃ ইফতেখার হোসেন শাওন, মোঃ শাজাহান ভুইয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপকমিটির সহ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বিপ্লব,মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ কামাল, মোঃ রনি, মোখ টিপু, অনিক হোসেন পিন্টুসহ প্রায় এক সহস্রাধিক নেতা কর্মি।

 

নিউজ ঢাকা  ২৪।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক হলেন হবিগঞ্জের আব্দুল্লাহ শাহীন

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সম্পাদক হয়েছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান আব্দুল্লাহ শাহীন। …

error: Content is protected !!