সাঁকো

লক্ষ্মীপুরে সেতু ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ১০হাজার মানুষের ভরসা!

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনাতীরের চর কালকিনির বাত্তিরখালের ওপর নির্মিত একটু সেতু ভেঙে যাওয়ার ৫বছর পরও একটি সেতু মিলেনি। মানুষ সেতু চাইলেও কাঠের টুকরো দিয়ে সেতুটির সঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

ফলে সাঁকো ও সেতুর দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১৫০ফুটে, যা খুবই নড়বড়ে, ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করছে ইউনিয়নের ১০হাজার মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের যানবাহন, কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা থেকে বৃদ্ধ মানুষও আতঙ্কে পার হচ্ছেন।

 

কাঙ্খিত সেতু না মেলায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানিয় বাসিন্দারা। মেঘনার ক্ষুধার্ত গর্ভ অনেকটা গিলে খেয়েছে এখানের বিস্তীর্ণ জনপদ। ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে

অবস্থিত এ সেতুটি ইউনিয়নের

দু’মেরুর সংযোগ হিসেবে কাজ

করছে। কিন্তু দুভার্গ্যজনক হলেও এমনটাই সত্য যে, সেতুটি এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কারো কোন নজর নেই সেতুটির দিকে।

ভুক্তভোগী মানুষজন সেতু চেয়ে পেয়েছেন কাঠের সাঁকো। ইউনিয়নের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সাঁকোটিই একমাত্র ভরসা।

ইউনিয়নের আর কোন বিকল্প

যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বলে

অভিযোগ করেন স্থানিয় লোকজন।

বার বার ইট-পাথর আর রড-

সিমেন্টের সেতুর দাবি উপরস্থ

মহলে করছেন গণমান্য

ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু বরাদ্দ আসলেই

কেবল কাঠের সাঁকোর বরাদ্দ আসে। সেতুটি দিয়ে চলাচল করেন, স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, জনতা বাজারে আসা ক্রেতারা, স্থানিয় লোকজন, জেলে জনগোষ্ঠী। দূর থেকে আসা

মানুষও সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা

সেতুটি পার হয়ে স্কুলে যায়।

সেগুলো হচ্ছে, মতিরহাট উচ্চ

বিদ্যালয়, চর কালকিনি মিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেআলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মার্টিন হাজিপাড়া নূরানী মাদ্রাসা এবং নাছিরগঞ্জ

কওমী মাদ্রাসা।

 

শিক্ষার্থী মিতু আক্তার ও আতিকুর রহমান বলেন, “হাক্কাটা(সাঁকো) ভাঙার

কারণে আমরা স্কুলে যাইতে পারি না। খুব ভয় লাগে। যে সময় হাক্কা ভাঙা থাকে সে সময় আমরা স্কুলে যেতে

পারি না।”

 

অভিভাবক সিরাজ ভান্ডারি ও শাহ আলম মোয়াজ্জেম বলেন,

“৭০-৮০বছর বয়সে এই ভাঙা হোল দিয়ে যাইতে পারি না। অনেক ভয় লাগে। সেতুটি হচ্ছে না কেন? এর কারণটা কি? এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে।”

 

জনতা বাজারের ব্যবসায়ী ও

ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের

ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে,

ছাত্র/ছাত্রীরাও স্কুলে যেত

সমস্যায় পড়ছেন। দু’মাস আগে

স্কুলের একটা মেয়ে সেতু থেকে

পানির নিচে পড়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে তাকে পানি থেকে উঠাইছি আমরা। কিছু দিন আগে সাঁকো ভেঙে গেলে আমরা ব্যবসায়ীরা ও স্থানিয় মানুষের সহযোগিতায় ১২হাজার টাকা দিয়ে সাঁকোটি মেরামত করেছি। সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও আমাদের এ কমলনগর এখনো অবহেলিত কেন?”

 

মোহাম্মদ শাওবান নামে এক তরুণ বলেন, “এই যে ছোট ছোট শিশুরা খালে পড়ে আহত হচ্ছে। ওই দিন আমার র্স্মাটফোন সেতুতে পড়ার

পর সেখান থেকে থেকে পানিতে পড়ে গেছে এগুলোর দায় কে নিবে? আমরা

কিছু চাই না, শুধু একটা ব্রীজ চাই। এটাই আমাদের দাবি।”

 

 

ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হেলাল পাটোয়ারী বলেন, “এখানে আগে একটা ব্রীজ ছিল। যেটা দিয়ে বড় বড় গাড়ি যেতেও কোন অসুবিধা ছিল না। কিন্তু ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। যানবাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য এটি একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখানে একটি স্ট্রিলের ব্রীজের নির্মাণের দাবি জানাই আমরা।”

ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার সাইফ

উল্লাহ বলেন, “ব্রীজটি ভাঙার পর কয়েকবার মেরামত করেছি মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে। কিন্তু এখানে একটি ভালো ব্রীজ দরকার। যা নির্মাণ করার জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

করোনার টিকা নিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পলক

  মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য হিসেবে করোনার টিকা নিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!