ডিভোর্স

ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় ১টি করে ডিভোর্স হচ্ছে

ঢাকা শহরে গত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষন করে পাওয়া যায়, এভারেজে প্রতি ঘন্টায় ১ টি করে ডিভোর্স এর আবেদন করা হচ্ছে।  গত ছয় বছরে ঢাকা শহরে ৫০ হাজারের বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে।  সে হিসেবে মাসে ৭৩৬ এবং দিনে ২৪ টির বেশি ডিভোর্স হচ্ছে।

ডিভোর্স এর বড়ো কারন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া না মেলা। স্ত্রীদের আবেদনের কারন গুলো হচ্ছে স্বামীর সন্দেহ মনোভাব, পরকীয়া, যৌতুক, মাদকাশক্তি, পুরুষত্বহীনতা, টাকা পয়শার কষ্ট সহ বিভিন্ন কারন। পুরুষদের আবেদনের কারন হচ্ছে,  স্বামীর অবাধ্য হওয়া, ইসলামী শরিয়ত না মানা, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি উদাসীনতা, সন্তান না হওয়া, পরকীয়া সহ অন্যান্য।

তবে শুধু ঢাকায় নয় তালাকের প্রবণতা সারা দেশেও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বুর‍্যোর হিসাব মতে, গেল সাত বছরে তালাকের প্রবনতা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তালাক হচ্ছে বেশি। আর তালাকের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সন্তানরা।

সুত্রমতে স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের আবেদন পড়ছে বেশি। হিসাব অনুযায়ি তালাকের আবেদনের শতকরা ৭০ শতাংশই এসেছে স্ত্রীর পক্ষ থেকে। অন্য নারীর সাথে স্বামীর সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধনমুক্ত থাকার প্রবনতা সহ বিভিন্ন কারনে শিক্ষিত ও উচ্চবিত্তদের আবেদন ই বেশি।

সময়ের সাথে সাথে সামাজিক সচেতনতা ও বেড়ে গেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। আগে মেয়েরা তালাকপ্রাপ্ত হলে পরিবারের আশ্রয় পেত না। এখন সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেয়েদের নির্যাতনের হাত ধেকে বাচানোর জন্য পরিবার ই এগিয়ে আসছে আগে।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও তালাকের হার বেড়েই চলেছে।  তবে সঠিক কি কারনে তালাকের হার বাড়ছে তা নিয়ে  সঠিক গবেষণা হওয়া দরকার। সাধারনত মেয়েদের প্রাপ্ত বয়ষ্ক হবার আগে বিয়ে দেয়া, মেয়েদের অমতে বিয়ে দেয়া , বেশি বয়সের লোকদের সাথে বিয়ে দেয়া তালাকের অন্যতম কারন হিসাবে ধরা যায়।

নারীরা সব সময় স্বাধীনতা চায়, কিন্তু পুরুষশাষিত সমাজে নারীরা খুব কম ই স্বাধীনতা পেয়ে থাকে, স্বাধীনতা না দিয়ে বন্দী করে রাখাটা যেমন একটি কারন, তেমনি নারীদের বাহিরে কাজ করতে দিলে তারা সাবলম্বী হয়ে উঠছে, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলে তালাকের মতো সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হচ্চে, এটিও একটা কারন। আবার পুরুষদের স্বাধীনতার অপব্যবহার করাটা ও তালাকের অন্যতম কারন।

তবে তালাকের কারন যাই হোক না কেন, তালাকের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানদের। তাদের ভবিষ্যৎ অণিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়, তারা অস্থিরতার মধ্যে বড়ো হয়। আর এর প্রভাব বইতে হয় সারাজীবনর প্রভাব বইতে হয় সারাজীবন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্কের জীবনের গল্প

  বৈদ্যুতিক গাড়ির কোম্পানি টেসলার মালিক এলন মাস্ক এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী। তবে তাঁর শুরুটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!