অবহেলিত

মসজিদে শিশুরা অবহেলিত কেন ?

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে’ আজ যারা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে যাদের নাম স্বর্ন অক্ষরে লেখা রয়েছে তারা একদিন শিশু ছিল, শিশু থেকেই তারা আজ উন্নত শিখরে অরোহন করেছে, শিশুরা হল কাদামাটির ন্যায় কাদা মাটি দিয়ে হাড়ি কলস যা ইচ্ছা তৈরি করা যায় । শিশুদের শৈশবে যেমন ইচ্ছে তেন গড়ে তোলা সম্ভব। শিশুরা মহান আল্লাহ তায়ালার বড় এক নিয়ামত এবং পিতা মাতার জন্য আমানত। শিশুর মর্যাদা সম্পর্কে রাসুল (স:) বলেন, ‘শিশুরা হল জান্নাতের প্রজাপতি’। (মিশকাত শরীফ)

শিশুদের সময় মত নামাজ শিক্ষা দেওয়ার প্রতি অভিভাবকদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আবু দাউদ শরীফে রাসুল (সা:) বলেন,“তোমাদের সন্তানেরা যখন সাত বছরে উপনীত হয় তখন তাদেরকে নামাজ পড়ার নির্দেশ দাও, আর দশ বছর বয়স হলে তাদেরকে নামাজের জন্য শাসন কর ও তাদের বিছানা পৃথক করে দাও”তাই রাসুল (সা.) ছোটদেরকে নামাযের জন্য মসজিদে নিয়ে যেতেন কেননা আমাদের সন্তানদের হাত ধরে আমরা মসজিদে নিয়ে না আসি তাহলে কে তাদের মসজিদে কে আনবে, কে শিক্ষা দিবে তাদের নৈতিকতা শিষ্টাচার আর নামাজের নিয়মনীতি।

তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়াটাকে আমরা দুষনীয় মনে করি অথচ বাংলা নববর্ষের দিন,বানিজ্য মেলায়,বইমেলা সহ জাতীয় ও অন্তরজার্তক বিভিন্ন দিবসে কিংবা অনুষ্ঠানে শিশুদের কাধে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থান সমূহ তাদের নিয়ে দেখানো হয় সেটা দূষনীয় মনেকরি না। আমরা বলি শিশুদের মসজিদে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হচ্ছে না এর কারন হল তারা দুষ্টামী করে এটাই মূলত ধরা হয় তাদের একমাত্র দোষ। শিশুরাতো দুষ্টামী করবেই এ্টাইি স্বাভাবিক।

শিশুরা মসজিদে নামাজ পরতে গিয়ে অজু করার সময় পানির টেপ দিয়ে দুষ্টামী একে অপরকে পানিছিটানো মসজিদে লুকোরচুরি খেলা,শূন্য হাতে বিভিন্ন রকমের খেলার অঙ্গভঙ্গি করা,টুপি নিয়ে কাড়াকাড়ি,সকলে সিজদায় যায় আর তারা দাড়িয়ে থাকে,কিংবা সিজদায় না গিয়ে একে অপরকে পিঠে কিল ঘুসি দিয়ে সিজদায় যায় পূনরায় সিজদায় যাওয়া কিল খেয়ে সে অন্যকে অবার চর দিলে শুরু হয় চেচামেচি,কান্নাকাটি করা সহ কত রকমের দুষ্টামী আর এই দুষ্টামীর অন্যতম একটি কারন রয়েছে একই বয়েসের শিশু পাওয়া এই রকম দুষ্টামী করা শিশুদের স্বভাব শিশু অবস্থায় প্রায় এই দুষ্টামী করে থাকে তাই বলে কি তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার।

বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় শিশুরা মসজিদে আসলে স্থানীয় মসজিদের হাজী সাহেব কিংবা মসজিদের মুরুব্বী শিশুদের সাথে কুরুচিপূর্ন ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া শিশুদের বলে উঠে পোলাপান খবরদার শযতানীকরবি না ? মসজিদে প্রবেশ কওে প্রথমে বসে পওে পরবর্ততে বড়রা আসলে প্রথমে আসা সামনে বসা শিশুদেও পিছনে বসার জন্য ধমকের সাথে তাগিদ প্রদান করা হয় ওই পিছনে গিয়ে বস বসামনে কি হ্যা পোলাপান বেয়াদব হয়ে গিয়েচে ওই এাঁ কার পোলা ওর চেয়ে ওই শয়তান বেশী বয়স্ক মুরুব্বীর কথায় সমার্থন দেয় আরো কয়েকজন মুসুল্লি আর বলে দেয় খবরদার আর যেন মসজিদে না দেখি যদি মসজিদে দেখি তাহলে মাইরা হাড্ডি ভেঙ্গে দিমু তাছারা অনুষ্ঠানে শিশুদের সাথে বড়দের খাবারের পার্থাক্য দেখা যায়।

বড়দের যদি দেওয়া হয় দুই প্যাকেট তাহলে তাদের দেওয়া হয় এক প্যাকেট। দুইটি মিষ্টি বড়দো দিলে ছোটদের দেওয়া হয় একটি এভাবে ছোট থেকেই তাদো মনকে নষ্ট করে দেওয়া হয়। ছোট হয়ে য়ায় তাদের মনমানষিকতা। আমার এমন ব্যবহারের কারনে একটি শিশুর মনে কষ্ট দেওয়া হল আর শিশুকে মনে কষ্ট দেওয়ার কারনে হতে পারে সে মসজিদ বিমুখ হয়ে নামায পড়াব বন্ধ করে দিতে পারে। শিশুটি যদি এই কাজ করেই ফেলে তাহলে একটু ভাবছেন কি এর দায়ভার কে বহন করবে। তাহলে কি আমি নষ্ট করে দিচ্ছি একটি শিশুর আগামীর পথচলা সুন্দর ভবিষ্যৎ? শিশুদের প্রতি আমাদেও ব্যবহার দেখলে মনে হয় যেন মসজিদে কোন নিকৃষ্ট প্রানী প্রবেশ করেছে অথচ ইসলামে শিশুদের দিয়েছে ব্যপক মর্যাদা আর সন্মান। কোন অবস্থাতে তাদের অবহেলা করা উচিত নহে। সর্বদা দয়া মায়া দেখাতে হবে রাসুল(স:) বলেন, “যে আমাদের শিশুদের প্রতি দয়া ¯েœহ করেনা সে আমাদের মধ্যে গন্য নয়”। (বুখারী শরীফ)

শিশুদেরকে রাসুল (সা.) মসজিদে নিয়ে যেতেন এমনকি রাসুল (সা.) নামাজে দাড়লে যদি কোন শিশু তাকে বিরক্ত করতে তাদেরকে তিনি ধমক প্রদান করেননি বরং তাদেরকে পূনরায় আবার মসজিদে নিয়ে আসতেন। বুখারী শরীফে উল্লেখ রয়েছে,রাসুল(সা.)তার নাতনী হজরত উমামা বিনতে যায়নাব (রা.) কে কাধে করে মসজিদে নিয়ে আসতেন। যখন রাসুল(সা.) সিজদায় যেতেন তখন উমামা (রা.) রাসুল (সা.) এর পিঠে উঠে যেতেন কিন্তু তিনি কখনো তাকে ধমক প্রদান করেননি। শুধু তাই নয় রাসুল (সা.) এর প্রান প্রিয় হজরত হাসান হুসাইন যখন রাসুল(সা.) নামাজের সিজদাবস্থায় থাকতেন তখন তারা পিঠে কিংবা ঘাড়ে উঠে যেতেন। রাসুল(সা.) বুঝতে পারতেন যে তারা খেলা করছে তাই তিনি সিজদায় বিশেষ সময় ব্যায় করতেন । মাথা উঠালে হাসান হোসাইনের খেলায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুবহান আল্লাহ । কত সুন্দর ব্যবহার বিশ্বনবীর নামাজের সময় শিশুদের সাথে করা।

এখানেই শেষ নয়,রাসুল (সা.) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন আসলে তিনি খুতবা দেওয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন,কোলে তুলে নিতেন,চুম্বন করতেন আর বলতেন,খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারন করতে পারবনা তাই আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের নিকট চলে এসেছি। রাসুল (সা.) এভাবেই শিক্ষা দিয়েছেন তার উম্মতগনদেরযেন তারা শিশুদের ভালবাসে তাদের কষ্ট না দেয়। রাসুল (সা.) যদি তার নাতীকে নিয়ে নামায আদায় করতে পারেন তাহলে আমাদের এত সমস্যা হবে কেন? শিশুরা মসজিদে প্রবেশের কারনে তাদের দুষ্টামীর ফলে অনেকের নামাজের সমস্যা হয় বলে যুক্তি দেওয়া হয়।

শিশুদেও দুষ্টামীর করার কারন হল আমাওে অসচেতনতা আর অবহেলা আমাদেও অবহেলার কারনেই আজ তারা মসজিদ মুখী হচ্ছে না ধর্মকর্ম থেকে তারা দূওে সরে যাচ্ছে। আমরা যদি এখানে দুষ্টামী করা শিশুদের অবহেলা না করে তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে ধমক না দিয়ে সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় ও তুমি বলে সন্মোধন করে যদি বলা হয় বাবু দুষ্টামী করবে না,এখানে আস, দেখ আমার সাথে বস, সুন্নাত নামাজ পরেছে কি? না পরলে এভাবে পড়? জামাতে দাড়ালে তাকে নিজের সাথে দাড় করিয়ে দেন, একটু সোহাগ মাখা কন্ঠ দিয়ে বলে দেন কারো সাথে কথা বলনা নামাজের সময় তাহলে আল্লাহ পাপ দিবে,নামাজ শেষ হলে পিতা মাতার জন্য দোয়া করার কথা বলে দেন,আবার নামায পরতে আসবা, টুপি ও ভালো জামা পরে আসবা কেমন এই রকম সুন্দর সুন্দর কথা বলে নিজের সন্তানের মত ব্যবহার করলে তাদের দুষ্টামী বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। সন্তানের মত আদর করে বাসায় গিয়ে সালাম দেওয়ার কথা বলে দিন। তাদের নিকট থেকে শুধু সালাম আশা করা উচিত নহে তাদেরকে সালাম দিয়ে সালাম শিক্ষা দেওয়া বড়দের দায়িত্ব। শিশুদের দেখা মাত্রই সালাম দেওয়া হয় তাহলে তারা সালাম শিক্ষা পাবে পরবর্তীতে তারার সালাম দিবে। শিশুদেও সালাম দিতেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হজরত আনাস ইবন মালেক (রা:) বলেন,‘রাসুল (স:) খেলাধুলায় মশগুল কতিপয় বালকের নিকট এলেন এবং তাদেরকে সালাম দিলেন।’(আবু দাউদ)

শিশুদের সাথে যদি আমরা এমন সুন্দর ব্যবহার করি তাহেলে তারা একদিকে তার ভালবাসা পেল আর অন্যদিকে নামাজ শিক্ষা লাভ করল। আমরা অনেক সময় মেয়ে শিশুদের মসজিদে নিয়ে এসে পিছনে বসিয়ে রাখি। তাদের বসিয়ে না রেখে পাশে দাড় করিয়ে নামাজ পড়ানো যেতে পারে কেননা তার উপর তখনও পর্দা ফরজ হয়নি তাইতো আমরা তাদেরকে মসজিদে মক্তবে পাঠিয়ে থাকি। আমরা ছেলে শিশুদের মত মাঝে মধ্যে যদি মেয়েদের মসজিদে নিয়ে আসি তাহলে নামাজের বিভিন্ন নিয়ম শিক্ষা পেল ও তার মনমানষিকতা উৎফুল্ল রইল। রাসুল (সা.) এর মসজিদে নববী ছিল পাঠশালা যেখানে নারী পুরুষ শিশুরা সবাই শিক্ষা গ্রহন করত। সকলকেই রাসুল (সা.) বিভিন্ন বিষয়াদিত শিক্ষা দিতেন। রাসুল (সা.) এর মসজিদে নববী ছিল সকল প্রকার পারিবারিক,সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের স্থান যেখানে শিশুদের চলাফেরা ছিল ¯^ভাবিক। আজকের শিশুদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের সুন্দর পৃখিবী। শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি ,শিষ্টাচার,ভদ্রতা নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে এই সমাজকে দুষনমুক্ত থেকে বাচিয়ে রেখে আগামী প্রজন্মকে ইসলামী মোতাবেক জীবন গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের হাতে।এজন্য চাই শিশুদের সাথে সুন্দর ব্যবহার,সুন্দর শিষ্টাচার ও নৈতিক শিক্ষা এবং পরম ভালবাসা। ইসলামি নৈতিক শিক্ষা,উপযুক্ত প্রশিক্ষন ও ধর্মীয় পরিবেশ না পেলে শিশুর যথার্থ বিকাশ সাধিত হয়না। শিশুদের শিক্ষাদান করতে হবে যেন তাদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর ও সফল হয়। শৈশব থেকে সন্তানকে উত্তম আচার আচরন শি¶া দিয়ে উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিশু সন্তানদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া সম্পদ দান করার চেয়ে উত্তম। রাসুল(স:) বলেন, সন্তানদের আদব তথা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া সম্পদ দান করা অপোষ উত্তম”।(বায়হাকী)।

আরো পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ভুয়া পুলিশ।

 

মো: আবু তালহা তারীফ
নিউজ ঢাকা ২৪

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

কাল তুরাগ তীরে জোড় ইজতেমা শুরু

আগামীকাল ১৮ ডিসেম্বর থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দুই দিনের জোড় ইজতেমা শুরু …

error: Content is protected !!