কোরবানী

কোরবানী র মাধ্যমে আমরা কি অর্জন করতে পারলাম ?

আমরা ঈদের নামাজ পরার জন্য ঈদগাহে কিংবা মসজিদে গিয়েছি। ঈদের আযহার নামাজ আদায় কারার জন্য মসজিদ কিংবা ঈদগাহে গিয়ে দেখা যায় কানায় কানায় ভরপুর মানুষ কোথায় ও দাড়ানোর জায়গা নেই বললেই চলে। সবাই একত্রে এসেছে পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদের নামাজ পড়ার জন্য। নামাজ শেষে খুতবার পরে মোনাজাত দিয়ে সবাই ছুটেছিল কোরবানী র পশুর দিক।

মসজিদের ইমাম বা মাদ্রাসার ছাত্রদের পিছু পিছু ছুটে কে আগে পশু জবেহ করবে এরকম একধরনের প্রতিযোগিতা তখন শুরু হয় হয়েছিল। অনেকে পশু জবাইয়ের দৃশ্য মেবাইলে ভিডিও কিংবা সেলফি তুলে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে লিখে দেয় ‘আমাদের কোরবানীর পশুর জবাইয়ের দৃশ্য’ লাইক দিন,কমেন্ট করুন,শেয়ার করুন আর কত কি? পশু জবাইয়ের পূর্বেই বিক্রি করে দেওয়া হয় পশুর চামড়া । পশুর চামড়া পৃথক করে সর্ব প্রথম একটি রান কেটে ছেলে কিংবা মেয়ের শশুড় বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে কিছু ভাল ভাল গোশত নিয়ে নিজে রান্না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ উল্লাসে খাওয়া হয় অথচ পশুর গোশত ভাগ করা হয়নি এবং পাশ্ববর্তী গরীব অসহায় ব্যক্তির কোন খোজ খবর এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি আর পশুর ভাল গোশত নিজে রেখে দিয়ে ভাগ করা হয় অতপর দেওয়া হয় আত্মীয় এবং গরীব অসহায়দের। কসাইকে দেওয়া হয় গরীবের অংশ থেকে গোশত, টাকা দেওয়া হয় পশুর বিক্রিত চামড়ার টাকা।

সন্ধ্যায় দোকানে গিয়ে আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকে কার পশুতে কত কেজী গোশত হয়েছে, এক কেজী গোশত এর দাম কত পরল? লাভ হল নাকি লোকসান হল, আবার অনেক সময়ে কোরবানীর পশু কম টাকা দিয়ে কিনে নিজেকে বড় করার জন্য বেশী দামে ক্রয়ের কথা বলা হয় একে অপরকে বলা হয় আমার পশুর দাম বেশী। পশু নিয়ে চলে কোরবানীর সময় বিভিন্ন ধরনের অংহকার ও গৌরব। বড় পশু ক্রয কওে কোরবানী দেওয়া হয়ে গেল কিন্তু হৃদয়ের মধ্যে যে পশুত্ব রয়েছিল সেটিকে আমরা আজ পর্যন্ত কোরবানী দিতে পারলাম না। কোরবানীর পূর্বে হৃদয়ের ভিতওে যে অহংকার হিংসা দেমাক ছিল কোরবানীর পর তা রয়েই গেল ।

পূর্বে যেমন ছিলাম এখন ও তাই রয়ে গেলাম, হৃদয়কে সাদামাটা করা গেল না। কোরবানী পশু জবাহের মাধ্যমে নিজের হৃদয়ের মধ্যে যে একটি পশুত্বভাব রয়েছে সাথে সাথে হৃদয়ের সেই পশুত্বকে কোরবানী করা আমাদের জরুরী ছিল। পশু কোরবানীর মাধ্যমে নিজের হৃদয়কে পরিবর্ত করতে হবে তাই কোরবানীর পশু কত বড় বা কত দামী এটা বড় কথা নয়, বড় কথা হল কোন প্রেরনায় কোরবানী দেওয়া হয়েছে সেটি বড় বিষয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বড় পশু দেখেননি তিনি দেখেছেন কোরবানী দাতার অন্তর বা তাকওয়া কোনদিকে ছিল। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ পাকের নিকট এর গোশত ও রক্ত পৌছায় না বরং তোমাদের আন্তরিকতা শ্রদ্ধা ও তাকওয়াই পৌছায়’। (সূরা হজ্জ-৩৭)

কোরবানীর পশুর কোন অংশ আল্লাহর নিকট পৌছায়নি পৌছিয়েছে আল্লাহর নিকট শুধু কোরবানী দাতার তাকওয়া। সে কি লোক দেখানো জন্য বা কি গোশত খাওয়ার জন্য কোরবানী দিয়েছিল না কি আল্লাহকে খুশি করার জন্য এটাই মূল উদ্দেশ্য। শুধু কোরবানী করলেই হবেনা আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন করার জন্য যেমন কোরবানী করেছি তেমনি ভাবে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্টি করার জন্য নামাজ আদায় করতে হবে। আমরা কোরাবনী করলাম অথচ ফজর,জোহর,আসর,মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করলাম না তাহলে সেই কোরবানী কতটুকু আমার উপকার হবে সেটিই বড় একটি বিষয়। আমরা নামাজ পরলাম না কোরবানীর পশুর গোশত নিয়ে আজও ব্যস্ত হয়ে আছি। এমনটা করা আমাদের ঠিক নহে। সর্বসময় নামাজকে প্রধান্য দিতে হবে।মহান আল্লাহ কোরবানীর পূর্বেই নামাজের কথা প্রথমে বলেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমার নামাজ আমার কোরবানী, আমার জীবন, আমার মরন সবকিছু মহান আল্লাহর জন্য’।(সূরা আনয়াম-১৬২)

কোরবানী আমরা যেভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্য দিয়েছি তেমনি আল্লাহকে সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করতে হবে। কেননা কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম নামাজের হিসাব হবে। তাই নামাজ থেকে বিরত থাকা মোটেই অনুচিত। প্রিয় পাঠক,আসুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য চেষ্ট করি পাশাপাশি আল্লাহ আমাকে কোরবানী দেওয়ার সামার্থ্য দিয়েছেন সেই জন্য দুই রাকাত শুকরিয়াতান নামাজ আদায় করি সাথে দুই হাত তুলে দোয়া করি যেন কোরবানী আল্লাহ কবুল করে নেয় এবং আগামী বছর কোরবানী দিতে পারি সেই পর্যন্ত হায়াত বাড়িয়ে দেয় আর আমরা যারা কোরবানী দিতে পারিনি সামার্থ্য নেই আমরাও দুই রাকাত নামাজ আদায় করে সামার্থ্য চেয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন আগামী বছর আমাদের সামার্থ্য দান করে আর আমরা কোরবানি করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলের মনের জায়েজ আশা কবুল করে নিক। আমিন।

 

 

মো:আবু তালহা তারীফ।
নিউজ ঢাকা ২৪
মোবা:০১৯২০৩৯১৭২৪

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শুরু হচ্ছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চার আগ্রহ বাড়াতে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে …

12 comments

  1. I really love your site.. Excellent colors & theme.
    Did you develop this web site yourself? Please reply back as
    I’m trying to create my very own site and want to know where you got this from or exactly
    what the theme is called. Cheers! http://antiibioticsland.com/Cephalexin.htm

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!