নবী

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা: এর হাসি ও কৌতুক

প্রিয় নবী ও রাসুল (সা.) আমাদের জন্য পদ প্রদর্শক তিনি সব বিষয়ে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। সাহাবীরা রাসুল (স.) কে দেখে শিক্ষা লাভ করতেন। রাসুল (সা.) তার সকল দায়িত্ব পালনের পরও তিনি সাহবীদের সাথে আনন্দ করতেন তিনি সাহাবীদের সাথে হাসি মুখে থাকতেন ।

হজরত মুহাম্মদ (স:) অত্যন্ত হাসি খুশি ও উৎফুল­ মনের মানুষ ছিলেন। তার কাজের সকল কঠোরতা ও জটিলতার মধ্যেও সাহাবীদের নিকট কখনো একঘেয়েঁ, নিরস কিংবা আাকর্ষণহীন মনে হতো না। বরং তার সঙ্গ ছিল অনন্দ ও কৌতুকোজ্জল। তিনি কখনো কখনো তার সাহাবীদের সাথে হাস্য ও কৌতুক করতেন। হজরত আব্দুল­াহ ইবনে হারিস ইবনে জায (রা:) বলেন, তিনি মুহাম্মদ (স:) এর মতো এক খোজ মেজাজী এবং হাস্যেজ্জল মানুষ আর দেখেননি। তিনি বলেন, মুহাম্মদ (স:) মৃদু হাসি ব্যতিত কখনো উচ্চ হাস্য করতেন না। (তিরমিযী)

একবার কয়েকজন সাহাবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল­াহ আপনি কি আমাদের সাথে হস্য ও কৌতুক করেন”তিনি জবাবে বললেন আমি সত্য ব্যতিত কিছু বলিনা। (তিরমিযী)

একদিন এক বৃদ্ধা এসে রাসুল (স:) এর দরবারে এসে আরয করল হে আল­াহর রাসুল অপনি আমার জন্য দোয়া কর“ সে যেন আমাকে জান্নাত নসীব করে। রাসুল (স:) বলেন, কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না”। একথা শুনে বৃদ্ধা মর্মাহত হলেন। রাসুল (স:) তার সাহাবীদের বললেন “তোমরা তাকে বুঝিয়ে বল সে যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন সে বৃদ্ধা থাকবে না বরং আল­াহ সমস্ত  জান্নাতী নারীকে ষোড়ষী কুমারত্বে রুপান্তরিত করবেন”।(তিরমিযী)
হজরত আআুফ ইবনে মালেক আল আশজায়ী (রা:) বর্ননা করেন যে, তিনি মহানবী (স:) এর সঙ্গে তাবুক অভিযানে অংশগ্রহন করে। একদিন প্রিয় নবী (স:) চামড়ারর নির্মিত একটি ছোট তাবুকের মধ্যে ছিলেন। তিনি তাকে সালাম জানিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন ‘প্রবেশ কর’ । অমি বললাম ইয়া রাসুল­ালাহ আমার সবটুকু কি? তিনি বললেন তোমার সবটুকুই। আমি তখন ভেতরে প্রবেশ করলাম। (আবু দাউদ)

একদিন হজরত আলী (রা:) মাটিতে শুয়েছিলেন। তার সারা শরীর ধূলাবালি মাখা ছিল। রাসুল (স:) এ দৃশ্য দেখে বললেন,উঠ হে আবু তুরাব’ আবু তুরাব অর্থ মাটির বাপ। এরপর হতে আলী (রা:) এর ডাক নামে পরিণত হয়। একবার আবু হুরায়রা বিড়ালকে আদর করতেছিলেন এই দৃশ্য দেখে মহানবী (স:) তাকে বিড়ালের অধিকারী বলে ডাক দিলেন। এই ডাক তার এক প্রিয় হয়ে যায় যে এটাই তার আসল নাম হয়ে যায়।

হজরত আব্দুল­াহ ইবনে ওমর (রা:) কে মহানবী (স:) তার সাহাবীদর সঙ্গে হাস্য কৌতুক করতেন কিনা তা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তারা হাস্য কৌতুক করতেন বটে কিন্তু তাদের অন্তরে ঈমান এক সুদৃঢ় ছিল যে তা পাহাড়ের চেয়েও অনেক বেশী ভারি ছিল। হজরত জারীর ইবনে সামুরা (রা:) বলেন, অমি কোনদিন রাসুল (স:) কে হাস্য বিহীন অবস্থাতে দেখিনি।

মো: আব্দুল হক
সহকারী অধ্যাপক
কবি নজরুল সরকারী কলেজ,ঢাকা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

জয়পুরহাটের দুই পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন প্রার্থীরা

  জামিরুল ইসলাম জয়পুুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ চতুর্থ ধাপে জয়পুরহাট জেলায় দুটি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!