বঙ্গবন্ধু

তারা কতোটুকু জানেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ?

বাঙালি , বাংলাদেশ ও প্রিয় বঙ্গবন্ধু এক অভিন্ন সত্তার নাম। যে নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। যে নেতার জন্ম না হলে আমরা পেতাম না  স্বাধীনতা সে নেতার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাংলাদেশ নামে আমাদের এই ভূখন্ডটি অনেক চরাই উতরাই এর মধ্যে দিয়ে অনেক ত্যাগ, দীর্ঘ এক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। বাংলাদেশের এই অর্জনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত। বাংলাদেশ ও বাঙালীর ইতিহাসে তিনিই শ্রেষ্ঠ মহানায়ক ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর প্রান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের নেতারা কতোটুকু জানে ? বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর নেতারাই বা কতোটুকু জানে তার সম্পর্কে ? এ বিষয়ে কথা হয়েছে কয়েকজন নেতার সাথে।

 

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরুন প্রজন্মের নেতা শেখ কাওসারের সাথে কথা বললে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেন :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ সাবেক ফরিদপুর আর বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান।বাংলা ও বাঙালি জাতির অমর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক জীবন শুরু করার আগেই গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ দেখে নিজের ভেতর এক প্রকার কষ্ট অনুভব করতেন।

ভুখাদের মুখে তাঁর নিজের খাবার তুলে দিয়েছেন এমন ঘটনা একটি দুটি নয় বরং অনেক। তাছাড়া শীতকালটা এলেই অনেক অসহায় শীতার্তকে তিনি তাঁর নিজের চাদর দান করে দিয়েছেন। অধিকন্তু তখন থেকেই তিনি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন। অন্যায় কিংবা অন্যায়কারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতিদান করতে বিন্দুপরিমাণ বিচলিত হতেন না। আর রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করেই দেশ ও জাতির অঘোষিত বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। তাঁর চোখে-মুখে একটিই স্বপ্ন- বাঙালি জাতির হৃত অধিকার পুনরুদ্ধার করা যা ১৭৫৭ সালে পলাশি প্রান্তরে হারিয়ে যায়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান আর ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এই সব আন্দোলন গুলোই ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার সুপরিকল্পিত ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বে ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।১৯৭১ সালে স্বনামধন্য বিদেশি সংবাদ মাধ্যম নিউজউইক শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি’ উপাধি দেয়।

আর বিবিসি জরিপে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি, মানুষেরই ভোটে।১৫ আগস্টের সেই ভয়াল কালরাত। পবিত্র শুক্রবার। রাতের নিস্তব্ধ নীরবতা ভঙ্গ করে মসজিদে মসজিদে ফজরের আজান ধ্বনিত হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপথগামী একটি অংশ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের ঐতিহাসিক বাড়িতে এক কুখ্যাত হামলা চালিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। বাঙালি জাতিকে এই দায় বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। জাতি হিসেবে আমরা আজও লজ্জিত আমরা আমাদের মহানয়ককে রক্ষা করতে পারি নি।

 

ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, সত্যের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এইচ.এম রুবেলের সাথে কথা বললে তিনি তার প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেন:

 

প্রথম ভালোলাগা, প্রথম প্রেম কখনোই ভুলে থাকা যায়না। আমিও ভুলিনি, শুধু তাই নয় ধারণ করে চলেছি হৃদয়ের গহীনে। আমার প্রথম প্রেমের স্মৃতি প্রতিনিয়তই উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয় হৃদয় পটে। সেই কৈশোরে মনে নেই কার মুখ থেকে শুনেছিলাম “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” তারপর থেকে ভীষণ এক ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হয়ে পরি বাংলা ও বাঙালীর প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধু নামের প্রতি।

কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্য, তারুণ্যের উৎকর্ষে সাধিত যৌবনে পদার্পণের সময় গুলোতে শুনেছি, পড়েছি, জেনেছি বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের বিরল ইতিহাস। বুঝেছি আমার প্রথম ভালোলাগা, প্রথম প্রেম ছিলো এমন এক সূর্য সন্মানের প্রতি, যার আহ্বানে শোষক পাক বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাগল বাঙ্গালী ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে মুক্তির লাল সূর্য। যিনি লাখো জনতার সন্মূখে দ্বিধাহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে তেজদীপ্ত কবিতার লাইন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”

অতপর: একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, একটি বিজয় ইতিহাস রচিত হলো এই প্রাণের ভুখন্ডে। তাই দ্বিধাহীন কণ্ঠে গর্বের সাথে উচ্চারন করি একটি দীপ্ত স্লোগান “জয় বাংলা|জয় বঙ্গবন্ধু”

 

ছাত্রলীগের আরেক তরুণ সাহসী নেতা ঢাকা জেলা ছাত্রলীগ দক্ষিন শাখার বর্তমান সাধারন সম্পাদক এহসান আরাফ অনিকের সাথে কথা বললে তিনি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেন:

বঙ্গবন্ধুকে বর্ণনা করতে গেলে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেন কসষ্টীর উক্তি সবার আগে মনে পরবে।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, তার সিদ্ধান্ত, অবিচনতা নিয়ে বলতে গিয়ে ক্যাস্ট্রোবলেন,অামি হিমালয় দেখিনি,কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যার হাত দিয়ে গড়ে উঠেছে, যার কন্ঠ দীপ্ত অাহবানই অস্ত্রহীন মানুষ ও যুদ্ধে নেমেছে, সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কেটেছে সংগ্রাম ও অান্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা অান্দোলনের, ১৯৬৬ সালে বাঙ্গালির জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা উথাপন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুথন, সর্বপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব এ জাতির স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছে।

সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতিই ছিল বঙ্গবন্ধুর  রাজনৈতিক  দর্শন।

গরিব-ধনী বৈষম্য, উচু নীচু নয়,ধর্ম বর্ণ নয় মানুষই প্রধান তার কাছে, জনতার পক্ষে জনতার রুচি নিয়ে তৈরী হবে দেশ – এই নীতিতেই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তার স্বপ্নের বাংলাদেশ। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডিভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাস করেছিলেন, আপনার শক্তি কোথায ? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি আমার জনগনকে ভালোবাসি। এই সাংবাদিক তার দৃর্বলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আমার জনগনকে খুব বেশি। মানুষকে ভালোবাসার এই অদম্য শক্তি তার রাজনৈতিক প্রেরনার উৎস।

এ ধরনের মহা মানব বার বার জন্মান না। এ জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির এই জাতির এই শ্রেষ্ট সন্তান ও তার পরিবারেরর নির্মম হত্যাকান্তে এ যুগের তরুন প্রজন্ম আজ ও মেনে নিতে পারে নি। এই অপূরনীয় ক্ষতি বাঙালী জাতিকে বয়ে বেরাতে হবে অমৃত্যু।

 

 

 

এভাবেই তারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাদের অভিমত তুলে ধরেছেন। তাদের সবার সাথে কথা বলেই একই ধারনা পাওয়া যায়, আর সেটা হলো, রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধরে রাজনীতি করতে হবে। অন্যথায় রাজনীতি করা উচিত নয়।

কিন্তু বর্তমানে হাজারো নেতার ভিড়ে কয়জন জানে বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস ?? কয়জনই বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কে বুকে বহন করে ???

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রাজবাড়ী পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ছাত্রলীগ নেতা মিলনের মনোনয়ন দাখিল

রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গোলাম জামালী মিলন গতকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!