উত্তরন ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজির সহায়তায় অসহায় বেধে পরিবারের মেধাবী ছাত্রী বিয়ে সম্পন্ন

“মানুষ মানুষের জন্যে,জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভুতি কি পেতে পারে না”। কাল জয়ী এ গানের সাথে মিল রেখে আমাদের দেশে বাল্য বিয়ে রোধ, বেধে ও হিজড়া সম্প্রদায়কে বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি হেডকোয়াটার মোঃ হাবিবুর রহমান পিপিএম (বার) বিপিএম।

তিনি বেধে ও হিজড়া পরিবারের ছেলে-মেয়েদের জীবন জীবিকা পরিবর্তনের জন্য এবং বাল্য বিয়ে রোধ করার জন্য গড়ে তুলেছেন উত্তরন নামক একটি ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে গার্মেন্টসহ নানা কল কারখানা। আর এখানে কাজ করেন এ সব বেধে ও হিজড়া সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েরা।

যার ফলে পাল্টে যাচ্ছে এসব পরিবারের আগামী প্রজন্মের বভিষ্যত। উত্তরন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পুলিশের ডিআইজির লক্ষ দেশে পিছিয়ে পড়া বেধে ও হিজড়া গোষ্ঠির এবং পথশিশু যারা আছেন তাদের জীবনমান নিয়ে কাজ করা। এদের জীবনের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি আগ্রান কাজ করছেন। তারই ধারা বাহিকতায় গতকাল (আজ) সোমবার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধিন চুনকুটিয়া হিজলতলার এলাকায় একটি পার্টি সেন্টারে উত্তরন ফাউন্ডেশনের পক্ষে বেধে পরিবারের এক মেধাবী ছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন করেন।

মেয়ের বাবা মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, তাদের পূর্ব পুরুষ এক সময় বেধেছিল। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার খরিয়া এলাকায়। তার দাদা এ পেশা ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তারা আর বেধে হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সাপ খেলা ও তাবিজ বিক্রি করেন না। সমাজের আট দশটি ছেলে-মেয়েদের সাথে তাদের সন্তানদেরও পড়ালেখা করে বিয়ে সাধি দিতে চান। তিনি নিজেও এক সময় চলে গিয়েছিলেন প্রবাসে। সেখান থেকে ফিরে এসে এখন ইলেকট্রিকের মিস্ত্রির কাজ করেন। তার ঘরে রয়েছে দুটি কন্যা সন্তান। বড় মেয়ে নুর জাহান আক্তার স্বর্নালী। বয়ষ ১৮।

চুনকুটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পরিক্ষা পাশ করার পর ভর্তি করেছেন রাজধানীর বেগম বদরুন নেছা কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে। সেখানে নুর জাহান দ্বিতীয়বর্ষে পড়ালেখা করছেন। এরই মধ্যে নিজেদের সম্প্রদায়ের একটি ভাল ছেলে পেয়ে বিয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করি। কিন্তু গরীব হওয়ায় বিয়ে চিন্তা ভাবনা থেকে সরে আসতে চাইছিলেন।

তিনি আরো বলেন, এ সময় আমার চাচাত ভাই এ বি সিদ্দিক এর পরামর্শে স্ত্রী সুমি আক্তারকে নিয়ে যাই বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান স্যারের কাছে। তাদের মুখে বিস্তারিত শুনে ডিআইজি স্যার ছেলে-মেয়ের বয়সসহ বিভিন্ন দিক যাচাই বাছাই করে বিয়ের পুরো দায়িত্ব দেন তারই সংগঠন উত্তরন ফাউন্ডেশনকে। উত্তরন ফাউন্ডেশন দায়িত্ব পেয়ে আমার মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে।

বিয়ের কন্যার মা সুমি আক্তার বলেন, আমি চির কৃতজ্ঞ ডিআইজি স্যারের কাছে। বর্তমান যুগে স্যারের মত লোক সমাজে আমাদের মত অবহেলিত মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে। আমি দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে ডিআইজ স্যারের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তায়ালা যেন স্যারকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুস্থ রাখেন এবং আমাদের মতহ অবচহেলিত মানুষের কাজ করে যেতে পারেন।

দুপুর সাড়ে তিনটায় বরযাত্রা আসলে কথা হয় বরের বাবা মোঃ কামাল হোসেন এর সাথে তিনি বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষ এক সময় বেধে থাকায় নিজ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়ে ছাড়া বিয়ে দিতে পারি না। তার ছেলে মোঃ মহসিন (২৫)। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার থানার করিমগঞ্জ মাষ্টারবাড়ি। তার ছেলে মেলায় মেলায় কসমেট্রিক্সের দোকান করে থাকে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা বেধে পেশা ছাড়ার পর থেকে মেলায় মেলায় চুরি কসমেট্রিক্স বিক্রি করে আসছে। তারই ধারা বাহিকতায় ছেলে মহসিনও (জামাই) এ ব্যবসা করে আসছে।

তিনি আরো বলেন, ডিআইজি স্যারের উত্তরন ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। তারা নিজে থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন। ডিআইজি স্যার আমাদের এ বেধে পরিবারের পাশে থেকে যে কাজ করছেন এটা যেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য তাকে ফেরেস্তা হিসাবে পাঠিয়েছেন।

উত্তরন ফাউন্ডেশনের সম্পাদক কামরুল হাসান শায়ক জানান, পুলিশের ডিআইজি হেডকোয়াটার মোঃ হাবিবুর রহমান দেশে পিছিয়ে পড়া বেধে-হিজড়া ও পথ শিশুদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। এদের জীবনের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি কাজ করছেন তার প্রতিষ্ঠিত উত্তরন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। উত্তরন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে সকল কাজ করছেন এদের মধ্যে বেধে ও হিজড়াদের পাল্টে দিয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দেখেছেন সাভার এলাকায় একটি বিরাট জনগোষ্টি সাপ খেলা সিঙ্গা লাগিয়ে মানুষের সাথে প্রতরনা করে যাচ্ছে। আবার ছেলেরা মূল ধারা থেকে সরে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

এরপার হাবিবুর রহমান সাহেব এ নিয়ে অনেক গবেষনা করেছেন। এ বিশাল জনগোষ্ঠির সাথে মিশেছে। পুরো এ জনগোষ্ঠিকে আলোর ধারায় ফিরে আনার জন্য কতগুলো পরিকল্পনা হাতে নেন। তাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এ কাজ গুলো করলে তারা আর পিছিয়ে থাকবে না তারা মূল জীবন ধারা ফিরে আসবে।

এর আগে ঢাকার সাভার এলাকায় ১৫ বছরের তিনটি মেয়ে বিয়ে হতে যাচ্ছিলেন,তখন তিনি বাধা দিয়ে সে তিন মেয়ের ১৮ ভচর পূর্ন হলে বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে তাদের বিয়ে ম্পন্ন করেন। তখন থেকে তারা হাবিবুর রহমান সাহেবকে তারা তাদের দেবতার মত দেখেন। সে ধারা বাহিকতায় আজ কেরানীগঞ্জে নুর জাহান আক্তার স্বর্নালী ও মোঃ মহসিন এর বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে। গত তিন মাস আগে মেয়ে মা সুমি আক্তার ও বাবা তোফাজ্জল হোসেন হাবিবুর রহমান স্যারের অফিসে গিয়ে বিস্তারিত বললে তিনি আমাদের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে আজ বিয়ের অনুষ্ঠান করেন। আমরা নতুন এ দম্পতির জন্য মঙ্গল কামনা করছি যেন তাদের সংসার সূখে ও শান্তিতে ভরে থাকুক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরন ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী এম এম মাহবুব হাসান, ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম সেলিম মোল্লা, যমুনা ব্যাংক এর মার্কেটিং অফিসার নুর নবী খান, ব্যবসায়ী চরন সিকদার, দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুববায়ের, পরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন ও এস এস পি প্রবি (শিক্ষা নবিস) মোঃ আউয়াল হোসেন প্রমুখ।

 

আরো পড়ুন: স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় কলি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ঢাকা জেলা পুলিশ

ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্দ্যোগে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!