হিজড়া সম্প্রদায়কে মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক আয়োজন

রাজধানীতে হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং সদাচারণ প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হলো হিজড়া সম্প্রয়ায়ের শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘সুন্দর বাজুক’।

শনিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রীনরোডের ‘বিন্দুধারী’তে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশন করেন তৃতীয় লিঙ্গের শিল্পী তাসনুভা আনান, লারা এবং জান্নাত। অনুষ্ঠানের আয়োজনে করে সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং রি-থিংক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘আনন্দ ধারা বহিছে ভূবনে’ গানের সাথে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন তাসনুভা আনান এবং লারা। একক সঙ্গীত নিয়ে হাজির হন সঙ্গীত শিল্পী জান্নাত। এরপর ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘বিহুরে লগন মাধুরে লগণ’ সহ বিভিন্ন গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন তাসনুভা আনান এবং লারা।

একক সঙ্গীতে তৃতীয় লিঙ্গের শিল্পী জান্নাত পরিবেশন করেন ‘আমি কেমন করে পত্র লিখিরে বন্ধু’, ‘বনমালী গো তুমি পরজনমে হইয়ো রাধা’, ‘ওকি গাড়িয়াল মুই চলং রাজপন্থে’সহ বিভিন্ন গান। অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য দিয়ে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী নূরুল কবির, বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, মোস্তফা কামাল এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংগীতা ইমাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রি-থিংক এর পরিচালক লুলু-আল-মারজান।

আয়োজন শেষে গাজী নূরুল কবির বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং রি-থিংকের উদ্যোগে এই যে আয়োজন, তাতে আপনাদের সকলকে আমরা পাশে চাই। সকলে পাশে থাকলে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার এ মানুষদের উন্নয়ন করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল বলেন, অসাধারণ একটা আয়োজন। সাধারণত এ ধরণের আয়োজন তো খুব কম হয়। তবে সমাজের সকলের সহযোগীতায় এ ধরনের আয়োজন আরো করা উচিত।

রি-থিংক এর পরিচালক লুলু-আল-মারজান বলেন, স্বাভাবিক-সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্য একটা ক্ষমতার রুদ্ধদ্বারে তারা আটকে যায়। আমাদের উদ্যোগ হচ্ছে তাদের যে ক্ষমতা, হিজড়াগিরি, সেখান থেকে তাদের থেকে বের করে এনে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা। ‘সুন্দর বাজুক’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সে ধরনের শৈল্পিকতায় আমরা এনে দিতে চাই সকলের মধ্যে।

তিনি বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানে প্রতিভা প্রকাশ করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের শিল্পীরা, যারা হিজড়া সংস্কৃতির সঙ্গে এতদিন যুক্ত থেকেছেন। তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন পুরনো প্রথা ছেড়ে সামনে এগোনোর। আমাদের বিশ্বাস সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের মূল স্রোতধারায় এনে কিছুটা হলেও তাদের আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে পারবো।

এসময় তিনি সমাজের সকলকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এসব শিল্পীদের বিভিন্ন আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আহবান জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

সংগীত জগত কাঁপানো চার তারোকা একসাথে

মোঃএনামুল হক বাবু (বিনোদন প্রতিবেদন) : জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আল মামুন এবার কন্ঠ দিলেন জনপ্রিয় গীতিকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!