ফাঁস

এইচ এস সি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা !

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জিনজিরা ইউনিয়নের শহীদ নগর এলাকা থেকে শনিবার সকালে এক কিশোরের ফাঁস দোয়া লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম নাজমুজ্জামান সাকিব(১৯)। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর থানার জানবাগ এলাকায়।

তার পিতার নাম শফিকুজ্জামান পান্নু। সে পড়ালেখার সুবাধে ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি ম্যাচ ও খালা বাড়ি ডেমরা এলাকায় থাকতেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদেন্তর জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের মামা রাশেদুজ্জামান এরশাদ বলেন, তিনি একজন সার্জিকেল সরঞ্জাদির ব্যবসায়ী। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধিন শহীদ নগর এলাকায় জনৈক জুলহাস মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত কয়েকদিন আগে তার বড় ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় এক্সসিডেন্ট করায় স্ত্রী- সন্তানরান্ত্র গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তিনি নিজেও ব্যবসায়ীক কাজে সিলেটে যান। এদিকে বাড়ি ফাঁকা। বৃহস্পতিবার রাতে তার ভাগ্নে সকিব তাকে ফোন করে তার বাড়িতে আসেন। এবং তাকে জানান সে পরিক্ষায় ফেল করেছে। সে আমার পাশের ফ্লাটে চাবি নিয়ে ভিতরে ঢুকেন। শুক্রবার ভাগ্নে সাকিব আমার পাশের ফ্লাটের এক ভাবির কাছ থেকে ফোন নিয়ে তার নিজের সিম ঢুকিয়ে আমাকেসহ বিভিন্ন স্বজনদের সাথে কথা বলেন। পরে সাকিব ওই ভাবির মোবাইল ফোন না দিয়ে ঘরের ভিতর ডুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি শনিবার সকালে বাসায় এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পায়ে তাকে ডাকাডাকি করতে থাকি ও মোবাইল ফোনে ফোন করি। তখন তার মোবাইল বন্ধ পাই। এ সময় পাশের ফ্লাটের ভাবির কাছে জানতে পারি তার মোবাইল নিয়ে সে শুক্রবার সবাইকে ফোন করে। কিন্তু তার ফোন না দিয়েই ঘরের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর আমি গ্রামে ওর বাবাকে ফোন করি। সে আমাকে জানায় পরিক্ষায় ফেল করেছে এ জন্য হয়তো লজ্জা বা ভয়ে দরজা খুলছে না। তুমি ডাকাডাকি করকে থাকো। এক পর্যায়ে অধর্য্যে হয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকতেই দেখি সাকিবের নিথর দেহ ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তখন আশপাশের লোকজনদের ডেকে তাদের সহযোগিতায় থানা পুলিশকে খবর দেই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নিয়ে থানায় চলে যায়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এস আই মোঃ ইলিয়াস মিয়া জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। আমরা যাওয়ার আগেই নিহতের মামা লাশ ফ্যান থেকে নামিয়ে ফেলেছিল। নিহত সাকিব রাজধানীর সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দি কলেজের হয়ে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচ এস সি পরিক্ষা দিয়েছিলেন। এর আগে সে রাজধানীর মিরপুর এলাকার পুলিশ শহীদ স্মৃতি কলেজে পড়ালেখা করতেন। বৃহস্পতিবার পরিক্ষা রেজাল্ট বের হলে সাকিব জানতে পারে পরিক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়েছে। হয়তো সে কারনে ফ্লাট খালি পেয়ে ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, নিহত সাকিবরা দুই বোন এক ভাই। তার মৃত্যুটা একটা মর্মান্তিক বিষয়। নিহতের লাশ ময়না তদেন্তর জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। তার পিতা গ্রামের বাড়ি থেকে আসলে তাকে বাদী করে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

এ এইচ এম সাগর,নিউজ ঢাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

রামগড়ে পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ

আদনান হাবিব, রামগড়: খাগড়াছড়ির জেলার রামগড়ে প্রাণ আরএফএল গ্রুপ এর পণ্য পরিবহনকারী পিকআপ ভ্যানের সাথে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!