সুফিয়া কামাল

আজ কবি সুফিয়া কামাল এর জন্মবার্ষিকী

বাংলা ভাষার এক অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামাল। কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন বাঙালী নারী জাগরণের এক অন্যতম অগ্রদূত। আজ তার ১০৭তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলার নারী জাগরণে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের পরই যার নাম নিতে হয়, তিনিই হলেন কবি সুফিয়া কামাল। বলা যায়, বেগম রোকেয়ার ভাব শিষ্য ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল।

তার পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল বারী। বাবা সৈয়দ আবদুল বারী পেশায় ছিলেন আইনজীবী। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও মা সাবেরা বেগমের কাছেই বাংলা পড়তে শেখেন এই মহিয়সী নারী।

মাএ ১৫ বছর বয়সে ১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশ পায়। সেই থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় তার কবিতা ও গল্প প্রকাশ পেতে থাকে। তাঁর রচিত সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে কবিতা, গল্প ও ভ্রমণ কাহিনী। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের ডায়েরি’ একাত্তরে বাঙালী জীবনের অকথিত চিত্র তুলে ধরেছে।

তার প্রথম গ্রন্থ ছোটগল্পের বই কেয়ার কাঁটা প্রকাশ পায় ১৯৩৭ সালে এবং প্রথম কবিতার বই সাঁঝের মায়া প্রকাশ পায় ১৯৩৮ সালে। সাঁঝের মায়া গ্রন্থের মুখবন্ধ লেখেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ এ বইয়ের প্রশংসা করেন। লেখালেখির বিভিন্ন সময়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্রের সাহচর্য পান তিনি।

তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে গেছেন। একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ ৫০টির বেশি পুরস্কার পেয়েছেন কবি সুফিয়া কামাল। তিনি আমৃত্যু মুক্তবুদ্ধিচর্চার পাশাপাশি রাজপথে সংগ্রাম করেছেন সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে।
এ দেশের সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ছিলেন সামনের কাতারে। ভূষিত হয়েছেন ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে। সুফিয়া কামাল পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তমখা এ ইমতিয়াজ’ উপাধি বর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ সংগঠক। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শিশুদের সংগঠন কচি- কাঁচার মেলা। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনেও যোগ দেন। ১৯৬১ সালে ‘ছায়ানট’-এর সভাপতি, ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলনের সময় মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। সুফিয়া কামাল ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। একাত্তরের উত্তাল মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৭০ সালে মহিলা পরিষদ গঠন এবং এই সময়ে অসহযোগ আন্দোলনে নারী সমাজের নেতৃত্ব দেন। এবং ১৯৭০ সালে বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলনের ডামাডোলের মধ্যেই তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপোষহীন। কবি সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর কবি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন । তিনিই প্রথম বাঙালী নারী যাঁকে মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে।‘কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি; অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তাঁর দৃপ্ত পদচারণ। তাঁর সৃজনশীলতা অবিস্মরণীয়। ’ কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার অমর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

ইফরান নেওয়াজ,নিউজ ঢাকা ২৪

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

বিনোদন প্রতিবেদক :আল সামাদ রুবেল সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক নিপিড়নের শিকার ও নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!