বদলে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জ

ঢাকার সবচেয়ে কাছের উপজেলা হয়েও কেরানীগঞ্জ উপজেলা একসময় ছিলো অবহেলিত, গ্রাম্য এলাকা। খালে বিলে ক্ষেতে খামারে ভরা এই কেরানীগঞ্জ ছিলো অজপাড়াগাঁ । কিন্তু সময়ের বিবর্তনে শিল্পায়ন ও আবাসায়নের কারনে এখন বদলে গেছে কেরানীগঞ্জ।

২০০৮ এর আগের কেরানীগঞ্জ এবং এখনকার কেরানীগঞ্জের পার্থক্য রাত আর দিন। হলফ করে বলতে পারি ২০০৮ এর আগে কেউ প্রবাসে গিয়ে থাকলে এখন যদি ফিরে আসেন , তা হলে সে কেরানীগঞ্জকে চিনবেন ই না।

আর এই পরিবর্তিত কেরানীগঞ্জ গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছেন আলোর ফেড়িওয়ালা খ্যাত জনাব নসরুল হামিদ বিপু । তার নির্দেশনা মোতাবেক এবং স্বপ্ন অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শাহীন আহমেদ কেরানীগঞ্জকে দিয়েছেন এক নতুন রুপ। মূলত আজকের এই নতুন কেরানীগঞ্জ গড়ার পিছনে তাদের দুই জনের অবদান ভোলার মতো না।

বিশ্বায়নের এ যুগে পরিবর্তনের প্রতিযোগীতায় ১৬৭ বর্গ কিলোমিটারের কেরানীগঞ্জ দিন দিন দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠছে।

কি নেই আজকের এই কেরানীগঞ্জে, অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্স, পার্ক, বিলাস বহুল এ্যাপার্টমেন্ট, স্কুল, কলেজ, রিসোর্ট ,সিনেপ্লেক্স সহ সব ই আছে এখানে। কেনাকাটা অথবা বিনোদনের জন্য এখন আর কেরানীগঞ্জের মানুষদের নদী পাড় হয়ে ওপারে যেতে হয় না।

বিদ্যুৎ সমস্যা ছিলো আগে কেরানীগঞ্জের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এমন ও দিন ছিলো কেরানীগঞ্জে, আগে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮-২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। কিন্তু নসরুল হামিদ বিপু কেরানীগঞ্জ থেকে এমপি নির্বাচিত হবার পর সবার আগে বিদ্যুৎ সমস্যার দিকে নজর দেন। তিনি অনুধাবন করতে পারেন কেরানীগঞ্জের দ্রুত উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ।

তার অক্লান্ত চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফসল হিসাবে কেরানীগঞ্জবাসী আজ পেয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। শুধু কেরানীগঞ্জেই নয়। নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ ছড়িয়েছেন সমগ্র বাংলাদেশেই। তিনি বিদ্যুুৎ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর বিদ্যুৎের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। বিদ্যুত বিভাগে তিনি এমন অনেক সাফল্য দেখিয়েছেন যা আগে কেউ দেখাতে পারে নি। এজন্যই তিনি পেয়েছেন আলোর ফেড়িওয়ালা হিসাবে সুখ্যাতি। কেরানীগঞ্জকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলার লক্ষে তিনি হাতে নিয়েছেন নানা ধরনের প্রকল্প। শুধু তাই নয়, কেরানীগঞ্জকে আরো আধুনিকায়ন করার লক্ষে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

 

 

কেরানীগঞ্জ বাসীর গর্ব করার মতো আছে অনেক কিছু। দক্ষিন এশিয়ার সর্ব বৃহৎ পোষাক শিল্পের পাইকারী মার্কেট আমাদের এই কেরানীগঞ্জে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা পোষাক কিনতে ভীড় জমায় কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার তৈরী পোষাক রপ্তানী করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। সংশ্লিষ্টদের মতে, গার্মেন্ট শিল্পে কেরানীগঞ্জই এখন শ্রেষ্ঠ। ঈদ,শীত মৌসুমসহ বিভিন্ন উতসবে এখানের পোষাকের চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুন।
ছোট বড়ো মিলিয়ে এখানে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শোরুম রয়েছে। আর এ সকল শো রুম গুলোতে পোষাক সরবরাহ করার জন্য এখানে প্রায় ৪/৫ হাজার কারখানা রয়েছে। এসকল কারখানা গুলোতে প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

কেরানীগঞ্জের কারিগরেরা জাহাজ বানাতে পারে নিমিষেই। জাহাজ শিল্পের জন্যও কেরানীগঞ্জের খ্যাতি রয়েছে। কেরানীগঞ্জের শুভাাঢ্যায় গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম জাহাজ নির্মান ও ডক ইয়ার্ড শিল্প। এখানকার ডক গুলোতে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন জাহাজ এছাড়া পুরাতন লঞ্চ ও জাহাজ ও মেরামত করা হচ্ছে এখানে। আগানগরের কেচি শাহ্ ডক, শুভাড্যার তেল ঘাট থেকে শুরু করে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে ডক গুলো। কয়েক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এ জাহাজ শিল্প কে ঘিরে। দেশের অনেক নামি দামি কোম্পানী গুলো তাদের কোম্পানীর জন্য লঞ্চ এবং জাহাজ বানিয়ে নিয়ে যায় এখান থেকে। এখানকার ব্যাবসায়ীদের মতামত, সরকারী সহায়তা পেলে তারা এখান থেকে দেশের বাহিরেও জাহাজ রফতানি করতে পারবেন।

মেড ইন জিনজিরা এখন আর অভিশাপ নয় আর্শিবাদ স্বরুপ। জিনজিরাতে তৈরী হয় যে কোন গাড়ি অথবা মেশিনের পার্টসের হুবুহ অংশ। আপনি এখানে আসলেই দেখতে পাবেন সম্ভাবনার বাংলাদেশ কে। জিনজিরার কারিগড়েরা যে কোন পার্স একবার দেখলেই এর হুবুহু কপি করে দিতে পারবে আপনাকে। এখানকার ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকার সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সহযোগিতা করলে এ শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
আবাসন শিল্পেও অনেকটা এগিয়ে গেছে কেরানীগঞ্জ। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে কেরানীগঞ্জ হবে দ্বিতীয় রাজধানী। আবাসন ব্যবসায়ীরা তাই কেরানীগঞ্জে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। একের পর এক আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে কেরানীগঞ্জে।

কেরানীগঞ্জের উন্নয়নে নতুন মাত্র যোগ করতে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, পানগা পোর্ট, রাজউকের ঝিলমিল প্রজেক্ট, প্রিয় প্রাঙ্গন, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্প ইত্যাদি।

পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। এটি নির্মিত হলে কেরানীগঞ্জের উপর দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ পাবে নতুন মাত্রা। এতে কেরানীগঞ্জের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরো বাড়বে। আরো আধুনিক হবে কেরানীগঞ্জ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শিক্ষার্থীর জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির মাছ

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয় (আনোয়ারা, চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জালে ধরা পড়লো …

21 comments

  1. tadalafil prescription online – tadalafil reviews tadalafil prices

  2. finest content, i love it

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!