পল্লী বিদ্যুৎ

কুড়িগ্রামে চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্য!

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পকে পুঁজি করে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্য। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। টাকা না দেয়ায় বাড়ির উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ লাইন গেলেও সংযোগ পায়নি অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের অংশ হিসেবে আগামী জুন মাসের মধ্যে রাজারহাটের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কাজ করছে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে রাজারহাট উপজেলায় ২৯ হাজার ১৭৫টি পরিবারের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে ডিজাইন তৈরীর সময় থেকেই উপজেলার হরিশ্বর তালুক ও তালুক আষাঢ়ু গ্রাম সহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দালাল চক্র বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহনে আগ্রহীদের কাছ থেকে টাকা আদায় শুরু করে। এসময় দালাল চক্রের দাবীকৃত টাকা ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে না, এমনকি টাকা না দিলে ডিজাইনে তাদের বাড়ির পাশ দিয়েও বিদ্যুতের লাইন যাবে না বলে জানানো হলে সাধারন মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গরুছাগল, ধান চাউল বিক্রি করে এবং অনেকে জমি বন্ধক রেখে দালালদের দাবীকৃত টাকা প্রদান করেন।

উপজেলার হরিশ্বর তালুক গ্রামে ৫৭৩টি পরিবারের মাঝে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

সরেজমিনে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণকারীরা জানান, উপজেলা হরিশ্বর তালুক গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল এর নেতৃত্বে লতিফ মোল্লা, আজগর মোল্লা ও সাত্তার মুন্সি নামের ৪ দালাল পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছেন। টাকা দিতে দেরী হওয়ার কারনে হরিশ্বর তালুক (কদম তলা) গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান গ্রামের নুরজামাল, আবু তালেব, আনোয়ার, খলিল সহ অনেকে। একই গ্রামের সাহেব আলী, মতিয়ার রহমান সহ নতুন সংযোগী গ্রহণকারী অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, সংযোগের জন্য প্রত্যেকে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ওই দালাল চক্রকে দিতে হয়েছে।

একই গ্রামের দক্ষিন পাড়ার মনি, রহিম, মমিন, নুর ইসলাম, খলিল পূর্ব পাড়ার মিজানুর, মজনু, সিরাজুল, জামাল, রহমান, নজরুলসহ বিভিন্ন ব্যাক্তির সাথে কথা হলে দালাল চক্রের লিডার শহীদুলের নেতৃত্বে ওই চক্রটিকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪ থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত দেয়ার অভিযোগ করেন।
এদিকে উপজেলার তালুক আষাঢ়ু (বেদারজাল) গ্রামের নুরু মিয়া অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানের কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিদের সাথে দালাল চক্রের যোগসাজস রয়েছে। দালাল রাঙ্গা মিয়া অন্যদের মতো আমার কাছেও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৫হাজার টাকা দাবী করেছিল কিন্তু আমি টাকা দিতে পারায় না আমার বাড়ির উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলেও আমাকে সংযোগ দেয়া হয়নি। একই অভিযোগ ওই গ্রামের সাহের আলী ও আখের আলীসহ অনেকের।

তালুক আষাঢ়ু গ্রামের রাজ্জাক, মকবুল, ছফর, মাইদুল, আয়নাল সহ শতাধিক ব্যাক্তি জানান, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদানকারী কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে দালাল রাঙ্গা মিয়ার যোসাজস থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বাধ্য হয়ে সর্বনিন্ম ৪ থেকে উপরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। বিদ্যুতের পোল থেকে তাদের বাড়িতে তার লাগানো হলেও আরো টাকার জন্য সংযোগ দিতে টালবাহনা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এই গ্রামে ২০৫টি পরিবার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

অপরদিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের সাইফুল নামের এক দালালের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ভাবে উপজেলার চাকিরপশার, ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা, বিদ্যানন্দ, উমর মজিদ সহ প্রতি ইউনিয়নে দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে হরিশ্বর তালুক গ্রামের দালাল চক্রের হোতা শহীদুল জানান, আমি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য। খুঁটি লাগানোর সময় বিভিন্ন সমস্যা হয়েছিল আমি সমাধান করেছি। খুঁটি বসানো কাজের শ্রমিকদের খরচা বাবদ স্থানীয় লোকজন কিছু টাকা উত্তোলন করেছে।

তালুক আষাঢ়ু গ্রামের দালাল রাঙ্গা মিয়া সংযোগ প্রদানের নামে টাকা গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমি হরিশ্বর তালুক গ্রামে খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জিএম শ্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, দালালদের কাছে টাকা দেয়ার কোন যুক্তিকতা নেই। আমরা মাইকিং করেছি, প্রচার করেছি, রশিদ ছাড়া টাকা না দেয়ার জন্য। তবে আমাদের লোকজন যদি জড়িত থাকে আমাকে জানালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ত্রিশালে প্রডিউসার অর্গানাইজেশন কমিটিতে অনিয়মের অভিযোগ

  এস.এম জামাল উদ্দিন শামীম,ত্রিশাল প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ত্রিশালে মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (পিও) এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!