মা

দেশ থেকে আমার মা আসবে ,আমাকে ছেড়ে দে” কেরানীগঞ্জে প্রতিবন্ধী ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন

দেশ থেকে আমার মা আসবে ,আমাকে ছেড়ে দে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হাজত খানার সামনে বারান্ধায় রসি দিয়ে বাধা অবস্থায় এভাবেই ডাকচিৎকার করছে এব প্রতিবন্ধী যুবক। তার তাজুল ইসলাম শাওন(২৮)।

এর আগে শাওন বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ফল কাটার ছুরি দিয়ে এলাপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে নিহতের লাশ উদ্ধার ও ছেলেকে আটক করে। পরে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।
নিহতের বড় ছেলে মোঃ জাকারিয়া বলেন, তাদেও গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার সোহাগদল এলাকায়। তার পিতার নাম হাজি মোঃ ফজলুল জক। সে তার পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকার ১নং রোডের ৩নং বাড়ির ইব্রাহিম ভবনের ৪র্থ তলায় বসবাস করেন। মা-বাবা দেশের বাড়িতে থাকে, মাঝে মধ্যে আমাদের দেখতে আসেন। তাদের জিনজিরা থানার ঘাট এলাকায় কাঠের ব্যবসা রয়েছে। শাওন রাতে দোকানেই থাকেন।

শাওন সাত-আট বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। সে মাঝে মধ্যে ভাল আবার মাথা খারাপ হলে পাগলের মত সব কর্মকান্ড করতে থাকে। গত সবে বরাতের দিন থেকে শাওনের মাথা খারাপ হয়ে যায়। শাওনের শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় মা তাকে খুব ভালবাসত। শাওনও মাকে খুব ভালবাসত। তার মাথা নস্ট হলে এক মাত্র মা ছাড়া অন্য কাউকেই সে চেনন না। এ জন্য তাকে অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখনো চিকিৎসা চলছে। শাওনের অবস্থার কথা শুনে তাকে চিকিৎসা করানো জন্য মা দেশের বাড়ি থেকে মৃত্যুর আগের দিন ঢাকায় আমার বাসায় আসেন।

মা ঢাকায় আসার পর শাওনকে স্থানীয় ইমামবাড়ি কবরস্থানে উলঙ্গ অবস্থায় বসে আনা হয়। এরপর মা তাকে নিয়ে ঢাকায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করান। রাতে আমার বাসায় মা শাওনকে নিয়ে ঘুম আসেন। শাওন মাকে পেয়ে রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত কথা বলে এরপর আমরা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ি।

হঠাৎ আমার স্ত্রী শিখা বেগম পাশের ঘরে মায়ের ডাকচিৎকার শুনতে পায়। তখন আমার স্ত্রী মা ও শাওনকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এক পর্যায়ে মায়ের চিৎকার বন্ধ হয়ে গেলে শিখা আমাদেও সবাইকে ডেকে জাগিয়ে তুলেন। পওে আমরা ঘরের জানালা দিয়ে মাকে রক্তমাখা অবস্থায় দেখতে পাই।

পরে থানা পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতওে প্রবেশ করলে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই এবং আমার ঘরের সুকেস ভাঙ্গা । সুকেসের ভিতর ফল কাটার একটি ছুরি ছিল সেটা শাওনের হাতে দেখতে পাই।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতওে প্রবেশ কওে নিহতের লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা করেছি। হত্যার সাথে জড়িত নিহতের ছেলে শাওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। থানা হাজতে থেকেও শাওননন মায়ের জন্যডাকচিৎকার করছে।

নিহতের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জাকারিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন

কেরানীগঞ্জে দেশের সর্ববৃহৎ কড়াই ; প্রতিদিন একসাথে রান্না হবে তিন হাজার অসহায় মানুষের খাবার

দেশের অসহায় পথশিশু, সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র ও অসচ্ছল শিশু ও অসহায় মানুষদের পাশে দাড়াতে বিদ্যানন্দ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!