Breaking News
Home / উদ্যোগ / প্রযুক্তির বিবর্তনে কমে যাচ্ছে হালখাতা উৎসব
হালখাতা উৎসব

প্রযুক্তির বিবর্তনে কমে যাচ্ছে হালখাতা উৎসব

বাংলা বছরের প্রথম দিন থেকে ব্যবসায়ীরা পুরানো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন খাতায় ব্যবসায়ী সব হিসাব লেখা শুরু করে। আর এটাকেই বলে শুভ হালখাতা। কালের বিবর্তনে কম্পিউটারের যুগে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে হালখাতা উৎসব।

বাংলা নববর্ষ উৎসবের বড় অনুষঙ্গ হালখাতা। পুরানো বছরের দেনা-পাওনা মিটিয়ে হিসাবের নতুন খাতা খোলা হালখাতার অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রযুক্তির কল্যাণে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে এ হালখাতার চিরাচরিত ঐতিহ্য। শুধুমাত্র কিছু এলাকাতেই হালখাতর আয়োজন দেখা যায়, তাদের মাঝে পুরান ঢাকা অন্যতম।
পুরান ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় এখন ও দেখা মিলে হালখাতার উৎসবটি।
ইসলামপুরের একজন ব্যবসয়ী বাবু নন্দলাল নিউজ ঢাকা ২৪ কে জানান “হালখাতা অনুষ্ঠান আমাদের কাছে একটা উৎসবের মতো। অনেক আগে থেকেই চলে আসা এই রীতি এখনো ধরে রাখার চেষ্টা করছি আমরা।

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ই হিসবা নিকাশ সব কম্পিউটারে রাখে। আমার বাবা দাদা অতীতে হাল খাতা উৎসব করত। আমিও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।

ইসলামপুরের অরেক ব্যবসায়ী হাজী মোঃ শাহ আলম বলেন, ইসলামপুরে আগে অনেকেই হালকাখা করতো। কিন্তু দিন দিন প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান ই কম্পিউটারে হিসাব সংরক্ষন করে থাকে।

একটা সময় মোটামুটি অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের দিনেই হালখাতা উৎসব হয়ে যেতো। তবে কোথাও কোথাও সপ্তাহ বা পুরো বৈশাখ মাসজুড়েই চলতো এ উৎসব।

নির্ধারিত দিনের আগেই মহাজন আমন্ত্রন পত্র ছাপানো ও বিলির কাজ শেষ করে ফেলতেন। সেই পত্রে ‘সন’ বা ‘হালখাতা উৎসব’ কথাটি উল্লেখ করে মিষ্টান্ন গ্রহনের আমন্ত্রণ জানানো হতো।
গ্রাহকেরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতেন। কারো পক্ষে ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ সম্ভব না হলেও নির্ধারিত দিনে যতটা সম্ভব টাকা নিয়ে হাজির হওয়া ছিলো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, যা ভদ্রতা বা সৌজন্যতা হিসেবেও বিবের্চিত হতো।

‘সন’ বা ‘হাল খাতার’ দিনে দোকানে হাজির হওয়াটা ‘অবশ্য কর্তব্য’ ছিলো। কেউ উপস্থিত হতে না পারলে সেটা চরম অসৌজন্যতা বলে মনে করা হতো।

দোকান ইতিপূর্বে নানা রঙে রঙিন করে তুলা হতো। ঋন পরিশোধ করতে আসা গ্রাহকদের নানা ধরনের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো।

কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির এই বিশ্বের সাথে তাল মিলে চলতে গিয়ে যেন পুরনো এই ঐতিহ্য টি যেনো বিলুপ্তি দিকে,এখন আর আগের মত অনেকই এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে না,
কোথাও কোথাও এ বিশেষ দিনটি কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করা হলেও আগের আমেজ দেখা যায় না

মোঃ ওয়ালিদ হোসেন ফাহিম।
নিউজ ঢাকা ২৪

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

About ahmed raju

ইন সা আল্লাহ নিউজ ঢাকা ২৪ এক দিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে আপানাদের সাথে নিয়ে। :)

Check Also

জুরাইনে রাস্তায় পড়ে ছিল লাশ, আতঙ্কে কাছে যায়নি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর জুরাইন মুন্সিবাড়ি ঢালে প্রধান সড়কের পাশে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন নাসির উদ্দিন (৬৬) ...

মন্দা এসে গেছে, প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো?

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে এনেছে। মন্দার সময় মানুষ চাকরি হারায়, আয় কমে যায়। ২০০৭ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *