মেসি ম্যাজিকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বাচলো বার্সা

খেলা শেষ হবার বাকি মাত্র ৩ মিনিট। বার্সেলোনা তখনও পিছিয়ে ২-০ গোলে। বার্সার হেরে যাওয়াটা তখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই ৮৮ মিনিটে এক গোল করে বসেন সুয়ারেজ। তার পরে মেসি দেখান তার ম্যাজিক।

সুয়ারেজের গোলের পরেও হার এড়াতে বার্সার প্রয়োজন ১ গোল। দোদুল্যমান অবস্থায় বার্সেলোনার অপরাজিত থাকার রেকর্ড। একটা মেসি যে বার্সেলোনা দলে রয়েছেন সেটাই হয়তো ভুলে যেতে বসেছিল সেভিয়া।

সেভিয়াকে হারে হারে টের পাইয়ে দিলেন কেন তিনি মেসি। আর কেন তিনি বিশ্বসেরা ফুটবলার। ৮৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে বার্সেলোনাকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর।

অথচ ম্যাচ শুরুর আগে কেও ভাবেনী যে ইনজুরি থাকার পরেও খেলতে নামবেন তিনি! দলের বিপর্যয়ে নেমে দলকে খাদের কিনার থেকে আবারও একবার টেনে তুললেন তিনি। অক্ষুন্ন রাখলেন সেভিয়ার বিপক্ষে টানা ২২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

কয়েক দিন আগেই মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনাকে পেয়েছে ৬-১ গোলে হারের তিক্ত স্বাদ। সে শঙ্কাও এদিন জেকে বসছিল সেভিয়ার মাঠে।
ম্যাচের শুরু থেকেই একাদশের বাইরে ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। কিন্তু কৌতিনহো-সুয়ারেজ-দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া আক্রমণ ভাগ তেমন কোনো সমস্যারই সৃষ্টি করতে পারেনি সেভিয়ার ডিফেন্ডারদের জন্য।
প্রথমার্ধের শুরুতে কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি সেভিয়া। অবশেষে ৩৫ মিনিটে টের স্টেগানকে পরাস্ত করেন ভাস্কুয়েজ। বাম পাশ থেকে কোরেয়ায়ার পাস বার্সেলোনার ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে ভাস্কুয়েজের কাছে গেলে বাম পায়ের দুর্বল শটে গোলের নিশানা খুঁজে পান তিনি। ৪৪ মিনিটে ফ্রি কিক পেলেও সেটি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন সুয়ারেজ।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতি থেকে ফিরেও সেভিয়ার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে জটলা থেকে গোল করে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন মুরিয়েল।

এর পরে ৫৮ মিনিটে দেম্বেলের পরিবর্তে মাঠে নামেন মেসি। তারপরেই পালটে যায় পুরো বার্সেলোনার চেহারা।
৬১ মিনিটে আলবার ক্রস গোলবারের বাইরে মারেন সুয়ারেজ। ফলে গোলবঞ্চিত হয় বার্সা। ৬২ মিনিটে বার্সেলোনার গোলকিপার স্টেগানকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন মুরিয়েল। ৬৮ মিনিটে আবারো কাউন্টার এটাক থেকে বার্সেলোনার ডিফেন্সকে কাঁপিয়ে দেন মুরিয়েল। কিন্তু এবারও গোলবারের বাইরে দিয়ে মারেন তিনি। ৭৩ মিনিটে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় সেভিয়া। কিন্তু লাইয়ুনের শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল সেভিয়ার ফুটবলারদের গোল মিসের মহড়া। আর সেই সুযোগেই শেষ দিকে এসে দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ দিয়ে বসে ভালভার্দের দল।
লিগে এই নিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো মেসির বার্সেলোনা। ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৭৫০তম ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন যাদুকর।

সুত্র: জাগো নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শেরপুরের সূর্যদীতে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরণ

  রাইসুল ইসলাম রিফাত (শেরপুর প্রতিনিধি):শেরপুর জেলার সদর উপজেলায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!