বাণিজ্য ঘাটতি

৪৭ বছরে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি

দেশে প্রতিনিয়ত আমদানি ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়ছে না রফতানি আয়। ফলে আশংকাজনক হারে বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি র পরিমাণ।

চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। দেশ স্বাধীন হবার পর অর্থাৎ গেল ৪৭ বছরে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি।

এমন তথ্যই পাওয়া গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২০১০-১১ অর্থবছরে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয় যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় রফতানি আয় বাড়ছে না। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক এবং সেবা খাতের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বেশকিছু বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে অনেক ব্যয় হচ্ছে। আমদানি যেভাবে হয়েছে সেই হারে রফতানি বাড়েনি তাই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সব সময় বাণিজ্য ঘাটতি থাকে। তবে এটা এখন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর মূল কারণ একদিকে রফতানি আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে দীর্ঘদিন রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব। সম্প্রতি রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়লেও যে হারে কমেছে সেই হারে বাড়েনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জানুয়ারি শেষে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে দুই হাজার ১০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ১১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় এক হাজার ১২ কোটি ৩০ ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসেবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার ও বেশি।

আলোচিত সময়ে আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ হারে। অন্যদিকে রফতানি বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি বড় হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জানুয়ারি শেষে ৫৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঋণাত্মক ছিল ৮৯ কোটি ডলার।

দেশে-বিদেশি বিনিয়োগও কিছুটা ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দেশে এসেছে মোট ১১০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১৩ কোটি ডলার।

তবে আলোচিত সময়ে শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে নিট পোর্টফোলিও বিনিয়োগ হয়েছে ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার। জেটা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২১ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সুত্র: জাগো নিউজ

 

আরো পড়ুন : কি করবেন? প্রিয় ফোনটিতে পানি ঢুকলে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

খুলনায় গৃহহীনদের জন্য ৯২২ টি ঘর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায়

মোঃ আশরাফুল ইসলাম খুলনা সদর প্রতিনিধিঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের অপেক্ষায় গৃহহীনদের ৯২২ ঘর প্রধানমন্ত্রী মুজিবশত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!