সংস্কারে অসন্তোষ, প্রভোস্ট কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তালা

পল্লব আহমেদ সিয়াম, ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আাবসিক হলগুলোর সংস্কার কাজ চলমান। তবে হলের সংস্কার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যার বিষয়ে প্রভোস্টের নিকট বারবার অভিযোগ করলেও তিনি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ তাদের। দ্রুত হল সংস্কারের দাবীতে আজ রবিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে প্রভোস্ট কার্যালয়ে তালা দেয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের খবর পেয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, আবাসিক শিক্ষক শামীম হোসেন, বিপুল রায়, সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক হলে আসেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে হল পরিদর্শন করেন। পরে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের দাবী দাওয়ায় একমত হন প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদল শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান হবে। আশ্বাসের মুখে আন্দোলন স্থগিত করেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন সংস্কারের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এর মধ্যে আবাসিক হলগুলো সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে পৃথক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় হলগুলোকে। শহীদ জিয়াউর রহামান হল সংস্কার বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

হল ঘুরে দেখা যায়, হলের নিচ তলার হলের শৌচাগারগুলো বেহাল দশায় পড়ে আছে। যার থেকে প্রতিনিয়ত দূরগন্ধ, মশা হচ্ছে। পানির কল অধিকাংশই অকেজো। বাথরুমের ছিটকানিগুলো লাগাতে না লাগাতে নষ্ট হয়ে আছে। হলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। হল সংস্কারের নামে ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এনামুল রায়হান বলেন, ‘হলের যে অবস্থা সেখানে থাকারই কোনো পরিবেশ নেই। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে রয়েছে। আমরা অনেকবার প্রভোস্ট স্যারের কাছে গিয়েছি। প্রতিবার আশ্বস্ত দিলেও আসলে কোনো কাজ হয় না। এবার আমাদের দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’

হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমাকে একটু সময় দিতে হবে। সব কাজ করে দিবো।’

সংস্কারের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ‘নির্দেশনা দেই ভালোমতো কাজ করতে। কিন্ত ঠিকাদাররা বেশি লাভ করতে গিয়ে বারবার আমাদের ঝামেলায় ফেলছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। তবুও আমরা চেষ্টা করছি। ‘

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

দঃ কেরানীগঞ্জে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। গাজী মাসুম বিল্লাহ জুয়েলকে সভাপতি এবং …

error: Content is protected !!