জবির খেলার মাঠে রাতের আঁধারে ডিএসসিসি’র খোঁড়াখুঁড়ি!

অপূর্ব চৌধুরী: পুরান ঢাকার ধূপখোলায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র খেলার মাঠ। সেখানেই মার্কেট নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

তবে এর পূর্বে গত জুনে মার্কেট নির্মাণের জন্য মাঠে খুঁটি বসানো হলে প্রথমে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেয় এবং পরবর্তীতে সিটি মেয়রের সাথে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তখন খেলার মাঠে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরবর্তীতে খেলার মাঠ থেকে খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে অনাবাসিক তকমার পর একমাত্র মাঠের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি প্রথমে সিটি করপোরেশন থেকে মাঠে মার্কেট না নির্মাণের জন্য আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন সে কথা রাখা হচ্ছেনা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাঠ রক্ষার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে। এতেও সমাধান না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব কোনো মাঠ না থাকায় ধূপখোলা খেলার মাঠটি তিন ভাগ করে এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খেলার মাঠ হিসেবে ধূপখোলা মাঠটিকে ব্যবহার করছে। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার দিবাগত গভীর রাতে সিটি করপোরশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠের কয়েকটি অংশে খনন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত মাঠটি তিনটি অংশে বিভক্ত। যার অর্ধেক অংশ ইস্ট অ্যান্ড ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে।মাঠের গোলপোস্ট ও দুইপাশের সীমানাপ্রাচীরগুলোও তুলে ফেলা হয়েছে।
মাঠের দুই পাশের গেইট আটকানো৷ ভেতরে মাটি খুঁড়ে সেই মাটি ফেলে এক পাশের গেইট আটকে দেওয়া হয়েছে। মাটি খুঁড়ে তৈরী করা হয়েছে বিশাল গর্ত।
 ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বেলাল হোসাইন বিপ্লব বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও ধূপখোলা মাঠই ছিল একমাত্র খেলার জায়গা। এখন সেটাও আর মনে হয় থাকছেনা। রাতের আঁধারে মাটি খনন করার সাথে আমাদের আবেগ,খেলাধুলার ইচ্ছা সবকিছুকেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে৷ আমরা অন্যকোন সমাধান চাইনা। আবারো আগের মতো ধুপখোলা মাঠেই খেলতে চাই।
 ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রাফসান জামিল রাজু বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ধূপখোলা মাঠের রয়েছে হাজারো স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত এই মাঠ আজ সিটি করপোরেশনের দখলে । যদিও প্রথমে বলা হয়েছিল আলোচনা সাপেক্ষে খেলতে পারবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কিন্তু এখন আর তা হচ্ছেনা। কেরানীগঞ্জে নতুন ক্যাম্পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত হলেও এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি৷ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের দাবি দ্রুতই বিষয়টি সমাধান করার জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক গৌতম কুমার বলেন, গত ১৭ জুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের আশঙ্কায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সিটি মেয়রের সঙ্গে দেখা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার আশ্বাস দেওয়া হয়। সে সময় খেলার মাঠ থেকে খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু গভীর রাতে আবার পুরো মাঠ ঘিরে রাখা হয়। মাঠের গোলপোস্ট ও সীমানাপ্রাচীরগুলো নিয়ে গেছে তারা।
তবে স্থাপনা নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, আমরা এর পূর্বেও মাঠটি রক্ষার চেষ্টা করেছি৷ মাঠের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হবে।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব)  ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মাঠ দখলে রাখার। সিটি করপোরেশনের মেয়র আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলো কিন্তু এখন তিনি কথা রাখছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠাচ্ছি৷ যদি বিষয়টি সমাধান না হয় তাহলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নিবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

নরসিংদীতে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার দাবিতে স্মারক লিপি প্রদান

হৃদয় এস সরকার, নরসিংদী: বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার …

error: Content is protected !!