শূন্য সম্রাটের হাত ধরে ৭০ জনের কর্মসংস্থান

পল্লব আহমেদ সিয়াম: জনপ্রিয় উদ্যোক্তা সম্রাট শরীয়তপুর জেলার চিকন্দী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক পাঠ চুকান চিকন্দী সরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে। বর্তমানে সম্রাট বি.বি.এ করছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজে।

২১ বছর বয়সী সম্রাট একজন জনপ্রিয় উদ্যোক্তা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। এ বয়সে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের নাম “এস.আর সলিউশন”। সম্রাটের নেতৃত্বে কাজ করছেন ৭০ জন যুবক।

শুরুর গল্পটা ছিল হতাশার, ১৮ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় পারি জমান সম্রাট। ঢাকায় এসে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ শুরু করে, ছয় মাস পরে চাকরী চলে যায়। ঢাকা শহরে আপন বলতে কেউই ছিল না।চার দিন ঢাকা শহরের অলিগলিতে কাজের জন্য ঘুরতে থাকে সম্রাট। একপর্যায়ে তার এক বড় ভাই তাকে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ দেয়। সম্রাট তখন মাথা গুজার ঠাই পায়। রেস্টুরেন্ট যাওয়ার ভালো পোশাক ছিলনা তার। বড়ভাই কিছু টাকা দেয় সেই টাকায় গুলিস্তান থেকে পোশাক নিয়ে নেয় সম্রাট।

১৯ এ সাত হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করে। ডিউটি ছিল ১০ ঘন্টা। ডিউটি শেষ করে বড় ভাইয়ের অফিসে নিজের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে থাকে। এর মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজনের সাথে বন্ধুত্ব হয়। দুজনের ইচ্ছায় তারা ই-কমার্সে কাজ শুরু করে। রেস্টুরেন্ট চাকরি ছেড়ে সম্রাট পুরোদস্ত ই-কমার্সে মনোযোগ দেয়।

ই-কমার্সে শুরুটা কষ্টের ছিলো। প্রথম মাসের ইনকাম ছিল ৩৫০ টাকা। তিন মাস এভাবেই চলতে থাকে। তিন মাস পর তার ইনকামের জায়গা বড় হয়। কাজ করতে টিম মেম্বার নেয় ১৫ জন। ই-কমার্সের পরিধি বাড়লে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একটা সময় সম্রাট তাদের কাছ থেকে চলে আসে।

মানসিক যন্ত্রণায় সম্রাট ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। গ্রামে মানুষেরা বিষয়টা ভালোভাবে নেয়নি। নানান কটু কথা শুনতে হয় তাকে। বাধ্য হয়ে তিনি আবার ঢাকায় চলে আসে।

মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তিনি। বন্ধুদের চেষ্টায় আত্মহত্যা থেকে সরে আসেন। সম্রাট আবার নতুন করে কাজ শুরু করে। পাশে পায় বাল্য বন্ধু রায়হানকে। দুজনে মিলে তৈরি করে নতুন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান “এস.আর সলিউশন”।

এস.আর সলিউশনের যাত্রা শুরু হয় ২০ জুন ২০২০ এ। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্তা হলেন সম্রাট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন রায়হান হোসেন। এস.আর সলিউশন দিয়ে সম্রাটকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয় নাই । বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৭০ জন লোক কাজ করে। সম্রাটের ইচ্ছা আগামীতে আরো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন । তিনি মনে করেন যুবকদের কাজে লাগিয়েই দেশ ও দশের কল্যাণ করা সম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

তিন জেলার মানুষ বিনামূল্যে পাবে চক্ষু চিকিৎসা

জবি প্রতিনিধি: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মানিকগঞ্জ এই তিন জেলায় অসহায়দের বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিতে চারটি চক্ষু …

error: Content is protected !!