৪০ বছর ধরে ২টি সন্তানকে বুকে আগলে রেখেছেন মা

শাহাদাত হোসেন অভ্র: এদিক-ওদিক চলছে দুই সন্তান তাদের সামলাতে ব্যস্ত মা। কখনো খাবার হাতে কখনো জামা কাপড় হাতে এভাবে ৪০ বছর দুই সন্তানকে পরম মমতায় লালন করে চলেছেন এ জননী । প্রতিবন্ধী দুই ভাইকে বিবেকহীন কিছু মানুষ কটুক্তি করল মায়ের কাছে তারা স্বর্গীয় সন্তান।

বলছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভা দুই ভাই মোঃ রহিম ও মোহাম্মদ অলীর কথা অন্য সন্তানদের মত মা বাবার কোল আলো করে জন্ম হয় তাদের তবে শারীরিকভাবে বড় হলেও তাদের মানসিক বিকাশ হয়নি।

চিকিৎসকদের মতে এনএন সেফালি রোগে আক্রান্ত তারা যার কোনো চিকিৎসা নেই তাই তো তাদের সবকিছুই নির্ভর মায়ের উপর। ডক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, এ রোগের কোন কিউর হওয়ার কোনো চিকিৎসা না থাকলেও ঠিকমতো সেবা যত্ন করতে পারলে তাহলে তারা সুস্থ থাকতে পারে। মা যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ এই বাচ্চা দুটির মাকে দেখলেই আবার তা প্রমাণ হয়।

স্বামী মারা যাওয়ার পর অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করে অসুস্থ রহিম ও অলি সহ চার সন্তানকে বড় করেন তাহমিনা বেগম। তার চোখে দুনিয়া দেখে রহিম আর অলি। অনেকে অবহেলা করলেও নিজেকে সুখী মনে করেন তাহমিনা । এই জননীর বড় সন্তান শাহাদাত সুস্থ ছোট একটি মুদি দোকান চালান তিনি। করনা লকডাউনে বেচা বিক্রি না থাকায় খেয়ে না খেয়ে চলে পরিবারটি।

এরকম দুটি সন্তানকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের সেবা করা তাদের গোসল করানো বা খাওয়ানো থেকে দৈনন্দিন সকল কাজকর্ম তাকে সম্পাদন করতে হয়। এই বয়সেও এতো কিছু সামলাতে হিমসিম খেতে হয় তাহমিনা বেগমের। এভাবেই সংগ্রাম করে আসছে গত ৪০ টি বছর।

নুরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন – অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অসচল প্রতিবন্ধীর ভাতায় আনা হয়েছে । সরকারের পাশাপাশি যারা সমাজের বিত্তবান মানুষ রয়েছেন তারা এই পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত ।

সন্তান যেমনই হোক মায়ের কাছে সন্তানই তাদের মাঝে সুখ খুঁজে নেয় মা। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে চিন্তা বেড়েছে তার মৃত্যুর পরে তাদের থেকে লালন পালন করবে কে মুখে খাবার তুলে দিবে মায়ের মত পরম মমতায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

তিন জেলার মানুষ বিনামূল্যে পাবে চক্ষু চিকিৎসা

জবি প্রতিনিধি: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মানিকগঞ্জ এই তিন জেলায় অসহায়দের বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিতে চারটি চক্ষু …

error: Content is protected !!