গুপ্তচর হিসেবে গিরগিটি ব্যবহার করছে ইসরায়েল, দাবি ইরানের

ইরানের প্রাক্তন সেনাপ্রধান হাসান ফিরুজাবাদি সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইসরায়েল গিরগিটি ব্যবহার করে ইরানের ইউরেনিয়াম খনি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার হাসান ফিরুজাবাদি ইরানের বার্তা সংস্থা ইরানিয়ান লেবার নিউজ এজেন্সিকে (আইএলএনএ) এই কথা বলেন। খবর লাইভ সায়েন্স।

হাসান ফিরুজাবাদি বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সেনাবিষয়ক উপদেষ্টা। কিছুদিন ধরে ইরানে পরিবেশবাদীদের ধরপাকড়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, এসব ধরপাকড়ের ব্যাপারে তিনি খুব বেশী জানেন না। কিন্তু পাশ্চাত্যের দেশগুলো আগেও পর্যটক, বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবাদীদের সাহায্যে ইরানের ওপর নজরদারি করেছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ফিলিস্তিনের জন্য ত্রাণ নিতে কিছু ব্যক্তি ইরানে এসেছিল। তাদের যাতায়াতের পথের ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ হয়। তাদের কাছে বেশ কয়েক ধরনের গিরগিটি ছিল। আমরা দেখি যে এসব গিরগিটির ত্বক অ্যাটমিক ওয়েভ আকর্ষণ করে এবং তারা আসলে গুপ্তচর ছিল। তারা ইরানের কোথায় ইউরেনিয়ামের খনি আছে এবং কোথায় পারমাণবিক কার্যক্রম চলছে তার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল।’

বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রাণী ব্যবহার করে অন্য দেশের ওপর নজরদারি করার অভিযোগ এসেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। ২০১৬ এর জানুয়ারিতে গুপ্তচর সন্দেহে ইসরায়েলি ট্র্যাকিং ডিভাইস পরা এক শকুনকে ধরে ফেলে লেবাননের কিছু মানুষ। তবে এই ট্র্যাকিং ডিভাইস গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে বুঝতে পেরে তারা শকুনটিকে ছেড়ে দেয়।

কয়েক মাস আগে হামাস দাবি করে, ইসরায়েলি স্পাইং ইকুইপমেন্ট পরানো এক ডলফিন ধরেছে তারা। তুরস্ক, সুদান এবং মিশরেও এমন কিছু খবর পাওয়া গেছে। জানায় দি টাইমস অফ ইসরায়েল।

ভিত্তিহীন দাবি

লাইভ সায়েন্সকে দুই গিরগিটি বিশেষজ্ঞ জানান, এমন দাবি ভিত্তিহীন। অস্টিন শহরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের প্রাণীবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক পিয়াঙ্কা বলেন, ‘মানুষের ত্বক এবং গিরগিটির ত্বক একই পদার্থ দিয়ে তৈরি, তা হলো কেরাটিন। ইউরেনিয়াম বা অন্য কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত করার ক্ষমতা তার নেই।’

সান্টা ক্রুজে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জীববিজ্ঞানী ব্যারি সিনার্ভো জানান, কোনোভাবেই ইউরেনিয়ামের খনি খুঁজে বের করতে গিরগিটি কাজে লাগানো সম্ভব নয়। গিরগিটি ঠাণ্ডা রক্তের প্রাণী, সে সবসময় গরম জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। ঠাণ্ডা খনির ভেতরে তার যাবার কোনও কারণ নেই।

ফিরুজাবাদি কিছু বহুরূপী গিরগিটির কথাও বলেন, যারা কিনা নিজের শরীরের রং পাল্টাতে পারে। এরা গাছে থাকতে পছন্দ করে। এদেরও পাথুরে খনির ভেতরে যাওয়ার কারণ নেই, জানান সিনার্ভো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ট্রাম্পের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় আরও চীনা প্রতিষ্ঠান যোগ বাইডেনের

  বাইডেন ও ট্রাম্প চীনের ওপর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নিষেধাজ্ঞার সম্প্রসারণ করলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!