মাধবপুরে পাটের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

 

শেখ জাহান রনি, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাধবপুর উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষেত থেকে পাট কাটা শুরু হয়েছে। অনেকে পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় ক্ষেত থেকে কৃষকেরা পাট কাটছেন। কোথাও মাঠ থেকে কাটা পাট অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও চলছে পাট পচানোর প্রস্তুতি। আবার পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, কয়েক বছর আগেও চাষিরা পাট চাষ করে লোকসানে পড়েছিলেন। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মাঝে স্বল্প পরিসরে যারা আবাদ ধরে রেখেছিলেন, তারাই লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখেই অন্যরা আবারো পাট চাষে ফিরেছেন।

পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কৃষক মোঃ দুলা মিয়া এবার ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা পাট চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। এতে পাটের আবাদ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। আমি এই বছর ৩ হাজার ৫০০ টাকায় প্রতি মণ পাট বিক্রি করি।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, মাধবপুর উপজেলার আদাঐর, বু্ল্লা, জগদীশপুর, বাঘাসুরা, ছাতিয়াইন ইউনিয়ন সহ মাধবপুর পৌর এলাকায় পাট চাষ করা হয়। উপজেলায় ২০১৯-২০ সালে দেশী ৮০হেঃ, তুষা ৭৫হেঃ, কেনা ১৬৫ হেঃ মেচতা ১০হেঃ মোট ৩৩০ হেক্টর চাষ করা হয়েছিল। ২০২০-২১ সালে দেশী ৮০হেঃ, তুষা ৭৫হেঃ, কেনা ১৮৫ হেঃ মেচতা ১০হেঃ মোট ৩৫০ হেক্টর চাষ করা হয়।

উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোঃ মামুন আল হাসান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় বাজারে বর্তমানে ভালো দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের শুরুতেই ১৮০০ টাকা মণ ও শেষে ৫৫ ০০/- থেকে ৬০০০/- টাকা মন দরে পাট বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমের শুরুতেই ২১০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন হয়েছে বেশ ভালো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

তিন জেলার মানুষ বিনামূল্যে পাবে চক্ষু চিকিৎসা

জবি প্রতিনিধি: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মানিকগঞ্জ এই তিন জেলায় অসহায়দের বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিতে চারটি চক্ষু …

error: Content is protected !!