বাস ছাড়ার পূর্বে এভাবেই ক্যাম্পাসে সমবেত হতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

জবি’র বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থায় বাড়ি ফিরলো ৩হাজার শিক্ষার্থী

অপূর্ব চৌধুরী : ঈদকে সামনে রেখে ঢাকায় আটকে পড়া শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭, ১৮ জুলাই এবং আজ সোমবার (১৯ জুলাই) তিনদিনব্যাপী এই সার্ভিসে বাড়ি ফিরলো প্রায় ৩হাজার জবি শিক্ষার্থী।পর্যায়ক্রমে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা যায়, গত শনিবার (১৭ জুলাই) প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ও বিআরটিসির মোট ২৩টি বাসে সিলেট বিভাগে ২৯৩ জন ও রাজশাহী বিভাগে ৫০২ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭১২ জন সহ মোট ১৫০৭ শিক্ষার্থীকে গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনে ১১ টি বাসে বরিশাল বিভাগে ২৮৯ জন, খুলনা বিভাগে ৮০৭ জন সহ মোট ১১০০ জন শিক্ষার্থীকে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বাস ছাড়ার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক ও প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন ও বিদায় জানান।

আজ তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে ২২০ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮০ জন সহ মোট ৩০০৮ জন শিক্ষার্থীকে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়।


শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষায় বাসে উঠানোর পূর্বে সবার শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখার পাশাপাশি সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি আইডি কার্ড ও অন্যান্য তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখা হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরতে পেরে শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত।

বাস সার্ভিস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠে জবি ক্যাম্পাস।

শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনা মহামারীর ফলে প্রায় দেড় বছর পর আমাদের সহপাঠীদের সাথে দেখা হয়েছে।তাই অনেক ভালো লেগেছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে এমনভাবে কখনো বাড়ি ফেরা হয়নি। মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবাই মিলে কোথাও পিকনিক করতে যাচ্ছি। আমরা কালের স্বাক্ষী হয়ে রইলাম। আমার ক্যাম্পাসের বাস আমার জেলায় যাচ্ছে এটি যেমন সত্যি তেমনি আনন্দ ও গর্বের বিষয়ও। পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করব বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এসময় শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানায় ও সন্তোষ প্রকাশ করে।

বাস ছাড়ার পূর্বে এভাবেই ক্যাম্পাসে সমবেত হতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.মোস্তফা কামাল বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য এই কাজটি একটু কঠিন ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছিয়ে দিতে পেরেছি এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে মাস্ক, শরীরের তাপমাত্রা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজিং করে বাসে উঠিয়েছি। তারা বাড়ি যাওয়া পর্যন্ত খোঁজ খবর রেখেছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের প্রশাসক ‘অধ্যাপক আবদুল্লাহ্-আল্-মাসুদ’ বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের কর্তব্য। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৩০০০ শিক্ষার্থীকে বাড়ি পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এতে নিয়মিত অনিয়মিত সব শিক্ষার্থীকেই আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইমদাদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছিয়ে দিতে পেরেছি এটা আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চেয়েছি তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বাড়ি পৌছানো পর্যন্ত আমরা খোঁজ খবর রাখছি। আমাদের এই কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, পরিবহন প্রশাসন, ছাত্র উপদেষ্টা, ছাত্র কল্যাণ পরিচালক সহ সকলে নিরলস ভাবে কাজ করেছে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যায় আমরা ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদন ও স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন জেলায় বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

অসহায়দের সহায়তায় ‘স্মাইল শাটেল’

জবি প্রতিনিধি: মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এই অমায়িক কথাটার মর্ম আজকাল তেমন একটা …

error: Content is protected !!