টাঙ্গাইলে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা

জহিরুল ইসলাম মিলন, টাঙ্গাইল (ধনবাড়ী) প্রতিনিধিঃ মহামারি করোনা ভাইরাসের ঢেউ এবার টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর, ঠান্ডা ও শরীর ব্যাথা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশই করোনা টেস্ট করার আগ্রহ নেই। ফলে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ভাইরাসের প্রকোপ। বেড়ে গেছে আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে রোগীর মৃত্যু।

জানা গেছে, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা তালিকায় অন্যতম টাঙ্গাইল। ১২ টি উপজেলায় আশংকাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী সংকুলান না হওয়ায় ডাক্তার নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে করোনার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালের অন্য সাধারণ রোগীদের ছুটি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দেওয়ায় হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফেসবুকেও স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।বর্তমান চিত্র নিয়ে জেলার সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জেলার কালিহাতী উপজেলা দৌলতপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বর, ঠান্ডা, শরীর ব্যাথা, খাবারে অরুচি সম্পন্ন এত রোগী আগে কখনো দেখি নি। অধিকাংশের করোনার উপসর্গ থাকে। কিন্তু তারা টেস্ট করাতে চান না। অবাধে চলাফেরা করেন। তিনি আগত রোগীদের সাথে কথা বলে জানান, গ্রামের রোগীরা টেস্ট করাতে বেশির ভাগের আগ্রহ নেই। একদিকে অসচেতনতা। অন্য দিকে পজিটিভ হলে ১৪ দিন ঘরে থাকতে হবে। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষরা অনাহারে থাকবে। এই ভাবনা থেকেই তারা টেস্ট এড়িয়ে যান।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার জেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আসা সিএনজিত অটো রিকশার একাধিক চালককে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বলেন, ভাইরে গাড়ি নিয়া বের না অইলে আমাগোর পেটে বাত (ভাত) যাইবো না। তাই করেনা লকডাউনের মধ্যেও বাইর অইছি।

এদিকে গ্রামের হাট, বাজার ও চায়ের দোকান গুলোতেও মানুষের নিয়মিত আড্ডা সমাগম হয়। পুলিশ প্রশাসনের লোক দেখলেই পালিয়ে যায়। তারা চলে গেলে আবার আগের মতোই থাকে।

গ্রামের মানুষের মধ্যে জ্বর-ঠান্ড বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসিগুলোয় দেখা দিয়েছে প্যারাসিটামল ওষুধের সংকট। সরবারহ না থাকার অজুহাতে অনেকে আবার বেশি দাম নিচ্ছেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায় জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৬৪৬ নমুনা পরীক্ষা করে ২৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৯.৩১ শতাংশ। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো ৪ জন। এদিকে মোট ৯৫৭৫ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫০৫৯ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪৬ জনের। চিকিৎসাধীন আছেন ৮১ জন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই গ্রামের। সেবা দিতে গিয়ে আমাদের চিকিৎসা প্রদানকারীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন বলেন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে ইদানিং বেশি শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে টেস্টের পাশাপাশি সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

তিন জেলার মানুষ বিনামূল্যে পাবে চক্ষু চিকিৎসা

জবি প্রতিনিধি: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মানিকগঞ্জ এই তিন জেলায় অসহায়দের বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দিতে চারটি চক্ষু …

error: Content is protected !!