জবিতে সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে শিক্ষকের রুম দখলের অভিযোগ

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষকদের ডরমেটরিতে সহকারী প্রক্টর শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে আরেক শিক্ষকের বরাদ্দকৃত রুম দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক স্বপ্নীলা চৌধুরী।

নিজের নামে বরাদ্দকৃত রুম না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর গত ২৭জুন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এই শিক্ষক।

স্বপ্নীলা চৌধুরীর নামে রুমের লিখিত বরাদ্দপত্র থাকার পাশাপাশি প্রতিমাসে তার বেতন থেকে কক্ষের ভাড়া কেটে নেয়া হলেও রুমটি তিনি পাচ্ছেন না। অভিযুক্ত সহকারী প্রক্টর ক্ষমতাবলে নানা অজুহাতে রুম দখল না দিয়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত শিক্ষার্থী (তার নিজের বোনকে) থাকতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, আমি মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার পর বাসা দূরে (সিলেটে) হওয়ায় আবেদনের প্রেক্ষিতে এবছরের এপ্রিল থেকে থাকার জন্য ডরমেটরির (৬০৪A) কক্ষটি আমার নামে লিখিতভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। করোনার জন্য এপ্রিলে উঠতে না পারায় জুনের ১ তারিখে নির্ধারিত রুমে উঠতে গেলে পাশের (৬০৪B) কক্ষে অবস্থানরত সহকারী প্রক্টর শাহনাজ পারভীন বলেন আমাকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কিভাবে আমাকে কক্ষটি বরাদ্দ দেন। নবনিযুক্ত উপাচার্যের সভায় বরাদ্দ পেতে হবে। এ রুমটি তার বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকের। মাঝে মধ্যে তিনি আসেন উল্লেখ করেন। অথচ সেসময় আমার নির্ধারিত রুমে উনার বোন অবস্থান করছিলেন। তিনি এসময় জানান বুয়েটে পরীক্ষার কারণে সে কিছুদিন এখানে অবস্থান করবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হিসাব দপ্তরের ফাইলে স্বপ্নীলা চৌধুরীর নামে কক্ষ বরাদ্দসহ দুই মাসের বেতন থেকে কক্ষের ভাড়া কর্তনের কাগজপত্র এবং যার জিনিসপত্র রুমে রয়েছে তার নামে বরাদ্দ নেই জানালে সেই সহকারী প্রক্টর পুনরায় রুম ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। তখন প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় বাদে অন্য কোনো আসবাপত্র না আনার শর্তে তার সাথে পাশের রুমে কিছুদিন অতিথি হিসেবে থাকতে বলেন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানালে জরুরি মিটিং এ রুমের সমস্যা সমাধান করা হবে জানিয়ে আপাতত ৬০২ নং ইউনিটে A, B রুম উল্লেখ না করে থাকতে বলা হয়। কিন্তু ১০-১২ দিন থাকার পর এই দুই রুমের বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষিকারা এখানে উঠবেন জানিয়ে তাদের রুম ছাড়তে বলেন। বরাদ্দপত্র থাকা সত্ত্বেও এবং প্রতিমাসে বেতন থেকে কক্ষের ভাড়া কেটে নেয়া হলেও নির্ধারিত রুম পাচ্ছেন বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ করেন এ শিক্ষক।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রক্টর শাহনাজ পারভীন বলেন, আমার বোন পরীক্ষার জন্য আমার সাথে অবস্থান করছে। পাশের রুমে আমার বিভাগের এক ম্যাডাম উঠার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাই আমি স্বপ্নীলাকে পরবর্তী মিটিং এর জন্য অপেক্ষা করতে বলি। পরবর্তীতে কি হয়েছে জানিনা।

এ বিষয়ে স্বপ্নীলা চৌধুরী বলেন, অভিযোগপত্রে আমি যা উল্লেখ করেছি এটা সম্পূর্ণ সত্য। আমি বরাদ্দপত্র নিয়ে ডরমেটরিতে গেলেও আমাকে উঠতে দেওয়া হয়নি। আমার রুমে উনার বোন পড়ালেখার জন্য অবস্থান করছিলেন। তাই গেস্ট হিসেবে উনার সাথে থাকতে বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আমি তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডরমেটরির কয়েকজন শিক্ষক বলেন, এখানে নীতিমালার প্রয়োগ না থাকায় যে লবিং তদবির করতে পারে তার থাকার সুযোগ মিলে। অনেক জুনিয়র প্রভাষকের সমস্যা স্বত্ত্বেও সুযোগ পান না। অথচ সুযোগ পান বিভাগের চেয়ারম্যান ও তার ছেলের। এসময় শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সার্ভিস চার্জ নেয়া হলেও এখানে নেই কোন সিসি ক্যামেরা, সিকিউরিটি গার্ড বা কেয়ারটেকার। কে ভবনে আসে যায় দেখার কেউ নেই।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডরমেটরি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। যার বরাদ্দ আছে সে উঠবে। সবাইকে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

প্রধানমন্ত্রী ‘মুকুট মণি’ সম্মাননা পাওয়ায় কুবি ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

কুবি প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার ও মুকুট মণি’ সম্মাননায় ভূষিত করায় আনন্দ মিছিল …

error: Content is protected !!