নকলায় নদী ভাঙনে ভয়াবহ হুমকিতে জনবহুল সড়ক

রাইসুল ইসলাম রিফাত , (শেরপুর প্রতিনিধি): শেরপুরের নকলা উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ইছামতি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে পরে আছে পিছলাকুড়ি-তাড়াকান্দা সড়ক। সড়কটি উপজেলার উত্তরাঞ্চলের জন্য ভেড়ী হিসেবে গন্য। সড়কটি ভেঙে গেলে ভিটাবাড়ী হারাবে বেশকিছু পরিবার। জলাবদ্ধতায় পড়বে কয়েকশ পরিবার।

এমন খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশহলে, তা নজরে পড়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ-এর। সাথে সাথে ছুটে আসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে।

২ জুন শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উরফা ইউপির চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা, উপজেলা প্রকৌশলী আরেফীন পারভেজ, নকলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ও রাইসুল ইসলাম রিফাতসহ স্থানীয় সাংবাদিকগন, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গান্যমান্যব্যক্তিবর্গ ও হুমকির সম্মুখীন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে তারাকান্দি-পিছলাকুড়ি পাকা সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকি কমাতে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প কাচা রাস্তা যানবাহন ও মানুষ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ক্ষতিগ্রস্থ পাকা সড়কটি থেকে আনুমানিক ৫০০ ফুট দূরে নদী ছিলো। কিন্তু রাস্তার পাশ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গত বছর রাস্তা সংলগ্ন জমি ভাঙ্গনের শুরু হয়। এবার বর্ষার শুরুতেই রাস্তাটি ভাঙন শুরু হয়। ফলে হুমকিতে আছে শত শত পরিবার।

ভাঙন মুখে অসহায় দরিদ্র নিজাম উদ্দিন ক্রন্দনরত অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, আর ৩/৪ ফুট ভাঙলেই তার বাড়িসহ আরো কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে ভিটাবাড়ি হারা হবেন তারা, এমনটাই বলেন স্থানীয় অনেকে। স্থানীয়দের ধারণা, পিছলাকুড়ি-তারাকান্দা সড়কটি ধ্বসে গেলে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানিতে নকলা উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এবং তলিয়ে যাবে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার জানান, ২০২০ সালে ক্ষতির সম্মুখিন পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করলে, আপাতত সান্তনা দিয়ে বিদায় করলেও, পরবর্তীতে তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। এরপরেও তিনি বার বার মাসিক সভা ও সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও অজ্ঞাত কারনে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এর পরে আত্ম-সম্মানের দিকে তাকিয়ে জনস্বার্থকে দূরে ঠেলে নিরবে দিনাতিপাত করছেন বলে জানান ভাইস চেয়ারম্যান সারোয়ার আলম তালুকদার। তিনি আরও বলেন নদীর দুইতীরে এতো এতো জায়গা থাকতে কেন এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হলো তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত কারন খোঁজে বেড় করে উপজেলার অন্যান্য জায়গায় যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যবস্থা করা উচিত। তবেই নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, “আমি ভাঙনের কবলে পড়া সড়কটি পরিদর্শন করেছি। বাঙনরোধে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দিয়েছি।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

এবার নাটোরে শিয়াল আতংক, সংশ্লিষ্টরা দায় চাপলেন একে অন্যের ঘাড়ে

সজিবুল ইসলাম হৃদয়: নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্নস্থানে বেড়েছে শিয়াল আতংক। শেয়ালের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার খবর …

error: Content is protected !!