বাদামতলীতে পাবলিক টয়লেট বন্ধ রেখে হোটেল ও চায়ের দোকান ভাড়া দিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে ইজারাদার

ঢাকার বাদামতলীতে সেবা নয় বরং পাবলিক টয়লেট ইজারা নিয়ে হোটেল, চায়ের দোকান ও জমি ভাড়ায় খাটানোর মাধ্যমে রমরমা ব্যবসায় মেতেছেন ইজারাদার। টয়লেট বন্ধ রেখে ওয়াসার পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে টয়লেটের পাশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন জনসাধারণ। ইজারাদারের অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবসা সিটি কর্পোরেশনকে আরও ভারবাহী করছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তাজা ফলের পাইকারি মার্কেট হচ্ছে, পুরান ঢাকার বাদামতলীতে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা আসেন এখানে ফল কিনতে। ফজরের আযান থেকে শুরু করে রাত এগারোটা পর্যন্ত এখানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ লক্ষ লোকের সমাগম হয়। এসব পাইকারদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় এনে ২০১৮ সালের নভেন্বর মাসের পাঁচ তারিখে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের তৎকালিন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ঢাকার বাদামতলীতে পাবলিক টয়লেট উদ্ধোধন করেন। উদ্ধোধনের পর থেকে এটির ইজারা পান শাসকদলের জনৈক সানি আহম্মেদ। ইজারাদার উদ্ধোধনের কিছুদন পর পাবলিক টয়লেটের মুল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাবলিক টয়লেটের সামনের জায়গা ফলের গাড়ি রাখার গেরেজ হিসেবে ভাড়া দিয়ে আসছেন। পাবলিক টয়লেটের পশ্চিম পাশে ভাতের হোটেল ও পূর্ব পাশে একাধীক টংঘর তুলে ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। একারনে দুরদুরন্ত থেকে ফল কিনতে আসা পাইকাদের টয়লেট সমস্যা চরম আকার ধারন করছে। এনিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের লালিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে কয়েক দফা হামলা ও থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল বিকালে বাদামতলী গিয়ে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটের মূল ফটোকে তালা ঝুলছে। গেটের সামনে রয়েছে কয়েকটি ফলের গাড়ি। পাবলিক টয়লেটের পশ্চিম পাশে একটি ভাতের হোটেল ও পূর্ব পাশে একাধীক টংঘরে কয়েকটি চায়ের দোকান। এসব দোকানের বিদ্যুত ও পানির জোগান দেওয়া হচ্ছে পাবলিক টয়লেটের ভিতর থেকে। ভাতের হোটেলের মালিক কামাল নয়া দিগন্তকে বলেন, তিনি ইজারাদার সানি আহম্মেদকে দৈনিক ৩শ ৪০টাকা পেমেন্টের মাধ্যমে এখানে বসে খাবার বিক্রি করেন। অন্যদিকে চায়ের দোকানদার জয়নালসহ তার মত অ্যান্যান্নদের গুনতে হয় মাসিক হিসেবে ১০থেকে ১২ হাজার টাকা ভাড়া।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী রফিক ও মোমেন এই প্রতিনিধিকে বলেন, ইজারাদার সানি পাবলিক টয়লেট ইজারা নেওয়ার পর থেকে এটি জনগনের কল্যানে পরিচালনা না করে বন্ধ রেখেছে। পাবলিক টয়লেটের সামনের জায়গা ফলের গাড়ি রাখার জন্য ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা চাদাঁ আদায় করছে। এব্যাপারে তারা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে প্রাননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানী রফতানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেখ আব্দুল করিম, বলেন, ইজারাদার সানির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে সে আওয়ামীলীগের লোক নয়। আওয়ামীলীগের লোক এতো খারাপ হতে পারেনা। পাবলিক টয়লেট বন্ধ ও তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানী রফতানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমূখী সমবায় সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইজারাদার সানি একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। তার লালিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে পাবলিক টয়লেট ইজারা নিয়ে কিছু সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় বাদামতলীতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারনে দুরদুরন্ত থেকে পাইকাররা বাদামতলীতে আসতে ভয় পায়। তার লোকজন ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত রয়েছে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী এলাকায় পাবলিক টয়লেট ইজারাদার সানির বিরুদ্ধে এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ রয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন।

এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাদামতলী পাবলিক টয়লেটের ইজারাদার সানি আহম্মেদেও মোবাইলে কয়েকদফা ফোন ও এসএসএস করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। যে কারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

বন্ধু খুন

কেরানীগঞ্জে ১০০ টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০০ টাকার জন্য বন্ধুদের হাতে মো: সাগর (১৯) নামে এক কিশোর খুন হয়েছে। …

error: Content is protected !!