ক্যাম্পাসের বাসে বাড়ি যাওয়া হচ্ছেনা জবি শিক্ষার্থীদের

জবি প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত চলমান লকডাউনে পুরান ঢাকায় আটকা পড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঈদে ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস দিয়ে বাড়ি ফিরতে চান। ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট এজন্য আবেদন করেছেন। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 বৃহস্পতিবার (৬ মে) মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এবং প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল।
জানা যায়, গতবছরের শেষের দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার একটি গুঞ্জন শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরেই সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হবে এমন খবরে অনেক শিক্ষার্থীই গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে পড়ে। তবে সবশেষে খোলেনি বিশ্ববিদ্যালয়।এমতাবস্থায়  তাদের অধিকাংশই টিউশনি ও বিভিন্ন পার্ট টাইম চাকরি করে নিজেদের খরচ মেটাচ্ছিলেন।
তবে বর্তমানে সংক্রমণ ও মৃত্যহার পুনরায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ঘোষিত লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়েছে এসব শিক্ষার্থীরা। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়ি যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেনা তারা। যার ফলে  বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ৮টি বিভাগীয় শহর পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ৪ মে উপাচার্য বরাবর স্মারক লিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও সরকারের অনুমতি না পাওয়া, বহিরাগতদের ঠেকানোর অনিশ্চয়তা, কাজটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাসহ বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নাকচ করে দেন কর্তৃপক্ষ।
 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, আমি অনেকটা আশাহত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। এই মহামারির মধ্যেও ঢাকায় থেকে অনেক শিক্ষার্থী চাকুরির পরীক্ষা দিচ্ছেন এবং কেউ বা টিউশনি করে পরিবারকে সাহায্য করছেন। ঈদে ছুটি থাকলেও তারা আজ মা-বাবার সাথে ঈদ করতে গ্রামে যেতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের বাসের ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে শুরুতে আমরা বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক ছিলাম। তবে লকডাউন ও করোনার পরিস্থিতি খারাপ থাকায় সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোন ক্লিয়ারেন্স পাইনি। আমরা উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলাম তবে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, লকডাউনে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যাওয়ার ব্যাপারটি কষ্টসাধ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে তাদেরকে পৌঁছে দিতে পারলে ভালো হত। তবে এই প্রক্রিয়াটি হয়ত সরকারের প্রশ্নের বাইরে থাকবে না এবং এমন কোন নজিরও নেই। ভিসি স্যারের পরামর্শে আমি কিছুটা প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম বাসগুলো প্রস্তুত করার। তবে পরবর্তীতে সার্বিক দিক বিবেচনায় ভিসি স্যারের নির্দেশনায় বিষয়টি আবার নাকচ করা হয়েছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

‘মাঠের দিকে কুনজর দিলে শিক্ষার্থীরা মাঠ রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়বে’

জবি প্রতিনিধি: ‘ধুপখোলায়  আমাদের একমাত্র খেলার মাঠ।  বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে খেলার মাঠ ধ্বংস করে …

error: Content is protected !!