ত্রিশালে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

 

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃসরকার সারা দেশের ১১২ টি উপজেলায় শতভাগ বয়স্ক ও বিধবা ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বয়স্ক ভাতার জন্য পুরুষের বয়স ৬৫ ও নারীর বয়স ৬২ বছর নির্ধারন করে এ সুবিধা পাওয়ার মানদণ্ড নিরূপন করে দিয়েছে। অপরদিকে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার বয়স সর্বনিম্ন ১৮ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বয়সধারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে।এঁদের জন্য ৫ টি মানদণ্ডের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করার নির্দেশনা প্রদান করেছে। ভাতাভোগীর যোগ্যতা ও শর্তাবলি নির্ধারণে ৭টি নির্দেশনা প্রদান করেছে। জিটুপি এর মাধ্যমে অর্থাৎ সরকার থেকে ব্যক্তি সরাসরি মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করার পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। সাধারনত নিম্ন আয়ের মানুষ যাদের বার্ষিক গড় আয় ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকা তাদের জীবনমান বৃদ্ধির জন্য সরকার শতভাগ বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এইরূপ ১১২ টি উপজেলার মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলা একটি। শতভাগ বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পাওয়ার কথা প্রচার হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী প্রহর গুনতে থাকে কখন এই কার্যক্রম শুরু হবে ? এর প্রেক্ষিতে তারা ওয়ার্ড মেম্বার / কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান / মেয়রের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বাড়াতে থাকে। অনলাইনে আবেদন শুরু হলে সবাই আবেদনের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাজের চাপ বাড়তে থাকে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এর সাথে কথা বলে জানা যায়,ত্রিশাল উপজেলায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতার জন্য সর্বমোট ২১ হাজার ৬ শত জনের আবেদন জমা পড়ে। তার মধ্যে ১৩ হাজার ৪ শত ৭৫ জন ভাতা পাচ্ছেন। এদের মধ্যে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ৭১৩৩ জন এবং বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ৬৩৪২ জন। এই কর্মকর্তার কাছে ইউনিয়ন ভিত্তিক বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
কিন্তু এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার জন্য সরকার নির্ধারিত মানদন্ড উপেক্ষা করে এলাকাভেদে ১২০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে কার্ড প্রদানের অভিযোগ উঠেছে । আর এ টাকা গ্রহণের সাথে এলাকার চেয়ারম্যান থেকে সমাজসেবা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কার্ড গ্রহিতা জানান, “কার্ডের জন্য আমি চেয়ারম্যানকে ১২০০ টাকা দিয়েছি। আরেক জন বলেন, আমি ৬০০০ টাকা দিয়েছি।”এ বিষয়ে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চেয়ারম্যান বলেন, “শতভাগ কার্ড না আসায় চাহিদামত কার্ড দিতে পারছিনা। যে কার্ডগুলো দিচ্ছি সেগুলো অফিস থেকে টাকার বিনিময়ে কিনে আনতে হয়েছে। এজন্য টাকা নিয়েছি।”এ ব্যাপারে ঐ ইউনিয়ন এর একজন মেম্বারের সাথে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান তাদের সাথে সমন্বয় না করে কার্ড বিলি করছেন। তিনিও অফিসে যোগাযোগ করে কিছু কার্ড কেনার চেষ্টায় আছেন।

দূর্নীতির বিভিন্ন বিষয় প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

লালপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর

নাটোরের লালপুরে শীতলা মন্দিরের প্রতিমার মাথা ও হাত ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার …

error: Content is protected !!