লক ডাউনে ক্রেতাশূন্য কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী ; দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

  • লক ডাউনে হাজার কোটি টাকার লোকসানের আশংকা
  • দোকান খুললেও ক্রেতাদের সমাগম নেই
  •  ক্রেতা না থাকার কারনে অনেক দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা
  • অনলাইনে সীমিত ভাবে চলছে পন্য বেচাকেনা
  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করতে চান এখানকার ব্যবসায়ীরা
  •  সরকারকে গার্মেন্টস শিল্প লক ডাউনের বাইরে রাখার অনুরোধ ব্যবসায়ী নেতাদের

দেশের তৈরী পোশাকের সিংহভাগ চাহিদা মিটিয়ে থাকে কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী। ঈদ,পুজা,শীত কে কেন্দ্র করে এখানকার সারা বছরের ব্যবসা হলেও, ঈদের মৌসুম ই এখানকার ব্যবসায়ীদের মূল ভরসা। তবে চলমান লকডাউনে ভেস্তে গেছে এবারের ঈদ মৌমুমের ব্যবসা। গত বছরের লোকসানের ধাক্কা কাটিয়ে না উঠতেই এবারো বিশাল অঙ্কের লোকসানের সম্ভাবনা দেখছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে দিসেহারা হয়ে পরেছেন এখানাকার ব্যবসায়ীরা।


তৈরী পোষাকের সর্ববৃহত পাইকারী মার্কেট হওয়ার কারনে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ঈদের বেচাকেনা শুরু হয় শবেবরাত থেকে,চলে ১৫ রোজা পর্যন্ত। তবে চলমান লক ডাউনের কারনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসতে পারছেন না। ফলে লক ডাউনে অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও ক্রেতা না থাকায় বেচা কেনা একদম নেই বললেই চলে। লক ডাউনের প্রথম তিনদিনে কোন ক্রেতা না আসায় অনেকেই দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। গত বছর লসের ধাক্কা কাটানোর আশায় অনেকে এ বছর দ্বিগুন পরিশ্রম ও বিনিয়োগ করেছেন। ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারলে হয়তো ধার দেনা পরিশোধ করে ঘুড়ে দাড়াতে পারতো। কিন্তু চলমান লকডাউনে হয়েছে তার উল্টো। মথার উপর একদিকে ধার দেনা ও নানান খরচ অন্যদিকে লকডাউনে ক্রেতাশূন্য মার্কেট সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এখানকার ব্যবসায়ীরা। এখানকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন লক ডাউনে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর লোকসানের পরিমান অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল লক ডাউনের চতুর্থ দিনে কেরানীগঞ্জের আগানগর ও শুভাঢ্যা ইউনিয়নে অবস্থিত কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, একরকম ফাকাই কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী। অনলাইনে পন্য বিক্রির জন্য অনেক দোকানপাট খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে অনেক দোকান। প্রতিটি দোকানে প্রচুর পরিমান পন্য মজুদ করা রয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুকে, ইমোতে পুরানো পরিচিত পাইকের দের পন্য দেখিয়ে অর্ডার নিচ্ছে। তবে কোন দোকানে ক্রেতার সমাগম চোখে পড়ে নি। ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে রয়েছে হতাশার ছাপ।

 

মো: করিম নামে এক ব্যবসায়ী জানান, গত বছর লোকসানের ধাক্কা ঠিক মতো কাটিয়ে উঠতে পারি নি। ভেবেছিলাম এ বছর হয়তো কিছুটা পোষাতে পারবো। এখন আমাদের পূর্ন সিজন, এই সময়টাতে গার্মেন্টস পল্লীতে প্রচুর কাষ্টমার থাকার কথা। তবে লক ডাউনের কারনে হয়েছে উল্টো, পুরো এলাকায় ১০ টা কাষ্টমার আছে কিনা সন্দেহ। এবারো আমাদের মাথায় হাত পরবে।

মো: নুরু উদ্দিন নামে অপর একজন ব্যবসায়ী জানান, সবার আগে পেটের চিন্তা করতে হয়, আমরাও চাইনা সরকারের কোন নিষেধ অমান্য করতে। কিন্তু কি করবো বলেন, আমার এই ব্যবসা দিয়ে ৬০ জন কারিগরের সংসার চলে, সারা বছর ধরে ওরা আমার উপর নির্ভরশীল। এই ঈদ মৌসুমে যা বেচা কেনা করতাম তা দিয়ে ওদের সমস্ত দেনা পাওনা পরিশোধ করে দিতাম । কিন্তু এখন তো আমার পেটের ভাত ই জোগাড় হচ্ছে না। এই ভাবে চলতে থাকলে করোনার আগে না খেয়েই মারা যাবো।

মো: মাসুদ নামে অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, আশে পাশে দেখেন অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে আছে। এটা আমাদের সিজন টাইম ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই খোলা থাকার কথা, কিন্তু করোনা আর লক ডাউন সব উলট পালট করে দিয়েছে। সরকারের কাছে আমরা জোড় দাবী জানাই গার্মেন্টস পল্লী যেন প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে দেয়া হয়। আমরা কথা দিচ্ছি সর্বচ্চো স্বাস্থ্য বিধি মেনে, আমরা দোকানদারি করবো। আমরা না খেয়ে মরতে চাই না। আমরা সরকারের কাছে সুযোগ চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, গত বছরের লসের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য এবছর অনেক ব্যবসায়ী দিগুন বিনিয়োগ করেছে। তবে শবে বরাতের পর পরই লক ডাউনের কারনে মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবারো ক্ষতির মুখে পড়লো গার্মেন্টস পল্লীর সিংহভাগ ব্যবসায়ী। দুই বছরের লসে অনেকেই পথে বসে যাবে। অনলাইনে বিক্রির জন্য কিছু দোকান খোলা আছে। তবে মার্কেট গুলোতে পাইকারের কোন দেখা নাই। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি আমাদের গার্মেন্টস পল্লী যেন প্রতিদিন অন্তত ৪-৬ ঘন্টার জন্য খুলে দেয়া হয়। তা হলে আমরা কিছুটা হলেও লসের ধাক্কা থেকে বাচতে পারবো।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, আমাদের এখানকার ব্যবসায়ীদের গত বছর অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লাম আমরা। দ্রæত পরিস্থিতি ঠিক না হলে অনেকে পথে বসবেন।#

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে: সেতুমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে সচেতনতার দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক …

error: Content is protected !!