অবৈধ ইটভাটায় নষ্ট হচ্ছে সড়ক, প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ

মুহাম্মদ রায়হান আদনান, রামগড়, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়-খাগড়াছড়ি সড়ক হতে দাঁতারাম পাড়া পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি যেন একরকম মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ইট ভাটায় ব্যবহারের জন্য ডাম্পার, মিনিট্রাক দ্বারা সরবরাহ করা কাঠ,মাটি রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে সড়কটি।প্রতিবাদে ৬ই এপ্রিল (মঙ্গলবার) সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

খাগড়াছড়ির রামগড়ের নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আনুমানিক ৩কিলোমিটার ভিতরে রামগড় ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের দূর্গম এলাকা দাঁতারাম পাড়ায় ইট তৈরি ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ উপেক্ষা করে চলছে অবৈধ ইট ভাটা, ব্যবহৃত হচ্ছে পরিবেশের ক্ষতিকারক ড্রাম চিমনি।গড়ে তুলা ওই ইট ভাটা ৩ টিতে সরকারি কোন অনুমোদন নেই।

এসমস্ত ইট ভাটায় কাঠ,মাটি এবং ইট কেনা বেঁচায় ভারি যানবাহন ব্যাবহার করার ফলে রাস্তাটির বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে।মাটি,কাঠ এবং ইট পরিবহনের ক্ষেত্রে ডাম্পার এবং মিনি ট্রাক ব্যবহারের ফলে রাস্তার উপর মাটি পড়ে রাস্তাটি দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে এবং সামনে বৃষ্টির মৌসুমে এর পরিনতি হবে ভয়াবহ। ধুলাবালিতে জনদূর্ভোগে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। একদিকে রাস্তায় ধুলাবালি অন্যদিকে রাস্তাটি গর্তে পরিণত হয়েছে। মেইন সড়কটির বেহাল দশার কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগীদের উপজেলা সদর হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে নিতেও পারছেনা সাধারণ মানুষ। রাস্তার বেহাল দশায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি চালকরা এদিকে আসতে সাহস পায়না। চলাচলের জন্য সড়কটি অনুপযোগী হয়ে উঠতেছে।সাধারন মানুষ তীব্র ভোগান্তির শিকার হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহনের বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক রুপম মাস্টার জানান, প্রভাবশালী চক্রের হাতে প্রশাসন ও বনবিভাগের দুর্নীতি পরায়ন কর্তাব্যাক্তিরা ম্যানেজ হওয়ার কারণে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছেনা। সরকারী স্কুল, পুলিশ ফাঁিড়, জনবসতি ও বনায়ন এলাকার সন্নিকটে এ ইট ভাটা গুলোর কার্যক্রম চালিয়ে আসছে প্রায় ১২-১৩বছর ধরে। যার ফলে এসব এলাকার সড়ক গুলো বেহাল দশায় পরিনিত হয়েছে।সড়কে চলাচল করতে গিয়ে নানারকম দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে মানুষ। কিছুদিন আগেও ট্রাক উল্টে চালক নিহত হয়েছে এবং শ্রমিকরা আহত হয়েছিল।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম পাহাড়ী এলাকা দাঁতারাম পাড়ায় একসাথে (মেঘনা ব্রিকস, আপন ব্রিকস, এমএসপি ব্রিকস) নামের ৩টি অনুমোদনহীন ইটের ভাটার কার্যক্রম পাশাপাশি চলছে।অবৈধ এই ইট ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশের জন্য মারাত্মক তৈলের ড্রাম চিমনি। পুড়ানো হচ্ছে বনের হাজার হাজার গাছ। ডাম্পারএবং মিনিট্রাক ব্যবহার করে মাটি,কাঠ এবং ইট পরিবহন করায় সড়ক গুলোতে বড় আকারের গর্ত এবং ধুলাবালির সৃষ্টি হয়েছে।এছাড়া ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড় কেটে আনা হচ্ছে মাটি।

মেঘনা ব্রিকসের সত্ত্বাধিকারী খোকনকে অনুমোদনহীন ইটের ভাটা পরিচালনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ভাটার অনুমোদন নেই।ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে তারা ভাটা চালাচ্ছেন।

সড়ক অবরোধের বিষয়টি স্বীকার করে এমএসপি ব্রিকসের মালিক পক্ষের প্রতিনিধি নিখিল চন্দ্র নাথ বলেন, বৈঠকের জন্য আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তুু তারা বৈঠকে বসেনি। সড়কে ডাম্পার, মিনিট্রাক ব্যবহার এবং ভাটায় মূল্যবান কচি গাছ জ্বালানো হচ্ছে এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

রামগড় ২নং পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,সড়ক অবরোধের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এলাকাবাসী এবং ভাটার মালিকদের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।সড়কের বেহালদশা সম্পর্কে জানানো হলে তিনি জানান, সড়কটি নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন এখনো কাজ করছেনা তিনি অবগত নন।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামন জানান,অভিযোগ পেয়েছেন।কিন্তুু সড়ক অবরোধের বিষয়টি তিনি অবগত নন। তিনি যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছে।

রামগড় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মু.মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে তিনি পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

Check Also

শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় গড়তে চান পাঁকা: নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী নয়েজ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে বেড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। এদের মধ্যে পাঁকা ইউপি …

error: Content is protected !!